খিলগাঁওয়ে খাল থেকে লাশ উদ্ধার: আদালতে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
· Prothom Alo

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জজ মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. আবদুল্লাহ (৩৩) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
Visit lej.life for more information.
আসামিকে শুক্রবার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এরশাদ আলী। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তিনি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদ আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. এরশাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, আসামি আবদুল্লাহ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
আদালতে দাখিল করা তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে জজ মিয়া বাড্ডার একটি গ্যারেজে যান। সেখানে পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আসামি আবদুল্লাহসহ অন্যরা ধারালো চাকু দিয়ে তাঁকে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করেন। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানি খালের পানিতে ফেলে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার বাসিন্দা ও মেরুল বাড্ডা এলাকার ভাড়াটে মো. আবদুল্লাহকে গত বুধবার রাতে বাড্ডার বাজার গলি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৮ সেপ্টেম্বর রামপুরার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন জজ মিয়া। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে খিলগাঁও থানার ত্রিমোহনী বিশ্বরোড ওভারব্রিজের নিচে জিরানী খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী রোজিনা আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন। তাঁর বুকের বাঁ পাশে, পিঠে ও পেটে একাধিক ধারালো অস্ত্রের জখম ছিল। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। নিহত জজ মিয়ার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায়।