গ্রন্থাগারটির শেলফজুড়ে ১ লাখ ১১ হাজার বই, তবু সাত বছর ধরে কেন পাঠকেরা পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না
· Prothom Alo

বইয়ের তাকে সারি করে রাখা বই। কোনোটি গল্পের, কোনোটি ইতিহাসের। কোনোটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯০ সালে, আবার কোনোটির প্রকাশকাল আরও পুরোনো। তাকের পর তাকজুড়ে বই। কিন্তু বইগুলোর সামনে নেই পাঠক। নেই পাতা ওলটানোর শব্দ, নেই পড়ার টেবিলে বসে থাকা শিক্ষার্থী কিংবা গবেষক।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে এমন দৃশ্যই এখন স্বাভাবিক। ১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭টি বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে এই গ্রন্থাগারে। আছে ছয়টি বাংলা দৈনিক, দুটি ইংরেজি দৈনিক ও ১৩টি দেশীয় সাময়িকী। কিন্তু এসব বই ও সাময়িকী ব্যবহার করে পাঠকের পড়ার সুযোগ বন্ধ প্রায় সাত বছর ধরে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
চট্টগ্রামের এই গণগ্রন্থাগার ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন’ প্রকল্পের একটি অংশ। প্রকল্পের আওতায় মুসলিম ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক সুবিধাসহ গণগ্রন্থাগারের পাঠকসেবা সম্প্রসারণ ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা।
চট্টগ্রামের এই গণগ্রন্থাগার ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন’ প্রকল্পের একটি অংশ। প্রকল্পের আওতায় মুসলিম ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক সুবিধাসহ গণগ্রন্থাগারের পাঠকসেবা সম্প্রসারণ ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা।
২০১৯ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গ্রন্থাগারের পাঠকসেবা বন্ধ করা হয়। নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সেই অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে। এর মধ্যে গ্রন্থাগারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১৬ তলা ভবন। সেখানে প্রায় ১০ হাজার পাঠকের বসার ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু প্রকল্পের কাজ নানা কারণে বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় ভবনটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।
সরেজমিনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারটির পঞ্চম তলায় গিয়ে দেখা যায়, তাকজুড়ে বই সাজানো। তবে পাঠকের বদলে সেখানে চলছে দাপ্তরিক কাজ। একটি অংশে সভাকক্ষ, পাশে পরিচালকের কক্ষ। চতুর্থ তলায় রাখা পুরোনো বই ও সংবাদপত্র। সেখানে রাখা টেবিল-চেয়ারে ধুলার আস্তরণ। পাঠকের অনুপস্থিতিতে বইগুলোর ব্যবহার নেই।
১৬ তলা বিশিষ্ট ভবন তৈরি হয়েছে। বইও রয়েছে পাঠকক্ষে। তবে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় গত সাত বছর ধরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গহণগ্রন্থাগারে পাঠকসেবা বন্ধ রয়েছেগ্রন্থাগারের ‘সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি’তেও পাঠকসেবা বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ভবন নির্মাণের কারণে পাঠকসেবা, তথ্যসূত্রসেবা ও বই ধার দেওয়ার সেবা স্থগিত রয়েছে। বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরের পাঠের সুযোগের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায়। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের এই নগরে সবার জন্য উন্মুক্ত বই পড়ার জায়গা খুবই সীমিত।
লালদীঘির পশ্চিম পাড়ের সিটি করপোরেশনের গণপাঠাগারটি লেখক, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বইপড়ুয়া মানুষের অন্যতম ভরসা। ১২০ বছরের পুরোনো এই পাঠাগারে রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার বই। ফলে এক লাখের বেশি বই থাকা বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নগরের পাঠকসমাজের জন্য একটি বড় পাঠের পরিসরও বন্ধ রয়েছে।
গ্রন্থাগারের এই দীর্ঘ বন্ধের কারণ মূলত চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের ধীরগতি। প্রকল্পের আওতায় গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে এখন ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। কাজের ভৌত অগ্রগতি ৯২ শতাংশ হলেও আর্থিক অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ।
গ্রন্থাগারের পরিচালক দিলীপ কুমার সাহা বলেন, ভবন নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় পাঠকসেবা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন ভবনে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। ভবনের কাজ শেষ হলে সেসব সুবিধাসহ গ্রন্থাগারের কার্যক্রম চালু করা হবে।