প্রতি ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেবে গুগলের নতুন এআই মডেল

· Prothom Alo

আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল উন্মোচন করেছে গুগল। ‘ওয়েদারনেক্সট ৩’ নামের এই মডেল প্রতি ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে পারে। একই সঙ্গে আগের তুলনায় আরও নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে মডেলটির। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই মডেলের পূর্বাভাস সার্চ, গুগল ম্যাপস ও জেমিনাইয়ের মতো বিভিন্ন সেবায় ব্যবহারের পাশাপাশি গবেষণা ও ব্যবসায়িক কাজেও ব্যবহার করা যাবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এত দিন মূলত বড় কম্পিউটারে জটিল গাণিতিক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হতো। এই পদ্ধতিতে বেশ নির্ভুল পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও তা তৈরি করতে অনেক সময় ও কম্পিউটিং শক্তির প্রয়োজন হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে এখন বিপুল পরিমাণ পুরোনো আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে তুলনামূলক দ্রুত পূর্বাভাস তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।ওয়েদারনেক্সট ৩ সেই প্রযুক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। গুগলের তথ্যমতে, এটি এমন একটি বৈশ্বিক আবহাওয়ার মডেল, যা দিনের প্রতি ঘণ্টার জন্য পূর্বাভাস তৈরি করতে পারে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৃষ্টি বা তুষারের মতো আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

Visit amunra-online.pl for more information.

ওয়েদারনেক্সট ৩ মডেলের অন্যতম সুবিধা হচ্ছে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা। আগের ওয়েদারনেক্সট ২ মডেলের তুলনায় নতুন মডেলটিতে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা ৬০ শতাংশ উন্নত হয়েছে। নতুন মডেলটিতে আগের সংস্করণের তুলনায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেশি প্যারামিটার রয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান আরও সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

নতুন মডেলটি নির্দিষ্ট আবহাওয়া স্টেশনের তথ্যের ভিত্তিতেও পূর্বাভাস দিতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা, আর্দ্রতা বা বাতাসের গতিবেগ সম্পর্কে আরও স্থানীয় ও ব্যবহারযোগ্য পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হবে। গুগল ডিপমাইন্ড জানিয়েছে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মতো কিছু তথ্য ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত সূক্ষ্মতার সঙ্গে এবং বাতাসের মতো অন্যান্য ভূপৃষ্ঠীয় তথ্য ১০ কিলোমিটার সূক্ষ্মতায় পূর্বাভাস দিতে পারে মডেলটি।

ওয়েদারনেক্সট ৩ মডেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আবহাওয়া স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি সরাসরি বিশ্লেষণ করতে পারে। সাধারণত আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরির আগে স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সাজিয়ে নেওয়া হয়। নতুন মডেলটি সেই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা তথ্য কাজে লাগাতে পারবে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য প্রতি ঘণ্টায় মডেলটিতে যুক্ত করা যায়। এর ফলে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন শনাক্ত করে ঘন ঘন পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: টেক ক্র্যান্চ

Read full story at source