ওরে বাবা রে, এত শিল্পী এই বাড়িতে আছিল!
· Prothom Alo

উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের লাবণী ৫ শুটিংবাড়ি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। বাড়িটির সামনে ভিড়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি, পথচারী—সবার চোখ যেন ৪২ নম্বর বাড়িটির দিকে। কী হচ্ছে ভেতরে? রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা দুই তরুণের কাছে জানতে চাই। তাঁরাও নিশ্চিত নন, শুনেছেন ওই বাড়িতে আছেন জাহিদ হাসান, শহীদুজ্জামান সেলিম। একটু আগে দীপা খন্দকারকেও ঢুকতে দেখেছেন। একজন তো বলেই ফেললেন, ‘তোমাদের গল্প’ নাটকে দীপা খন্দকার ফাটিয়ে দিয়েছেন!
‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ে শহীদুজ্জামান সেলিম ও জাহিদ হাসানকথা বলে জানা গেল, তাঁরা ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের নাটক-সিনেমা খুব পছন্দ। হলিউড-বলিউডের সিনেমা-সিরিজও তাঁদের আগ্রহের জায়গা।
Visit bettingx.bond for more information.
হঠাৎ বাড়িটির পকেট গেট দিয়ে একে একে বেরিয়ে আসেন জাহিদ হাসান, শহীদুজ্জামান সেলিম, দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু, ডা. এজাজ, মুকিত জাকারিয়া, খায়রুল বাসার, ফাইজুল ইয়ামিন ও তটিনী। একসঙ্গে এত পরিচিত মুখ দেখে পথচারীদের চোখ আরও বড় হয়ে গেল। পাশ দিয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন একজন। গাড়ির গতি কমিয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে বলে ফেললেন, ‘ওরে বাবা রে, এত শিল্পী এই বাড়িতে আছিল!’ কথা শুনে পাশের দাঁড়ানো একজন হেসে ওঠেন। কিন্তু তাঁর চোখেমুখেও একই রকম বিস্ময়।
‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে অভিনয়শিল্পীরা ও পরিচালককৌতূহলী মানুষদের সামনে দিয়ে হেঁটে পাশের আরেকটা বাড়িতে যান শিল্পীরা। একে একে সবাই ছাদে উঠে গেলেন। দোতলায় একটু বিশ্রাম নিলেন জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিম। প্রাণবন্ত আড্ডার ফাঁকে নতুন খবরও দিলেন সেলিম। এ সপ্তাহে কলকাতায় যাচ্ছেন তিনি। সেখানে খলনায়ক সিনেমার শুটিং করবেন। ভিকি জাহেদ পরিচালিত ছবির একটি ইউনিট এরই মধ্যে কলকাতায় পৌঁছে গেছে। তিনি ও ইন্তেখাব দিনার একসঙ্গে যাবেন। দুদিন শুটিং, দুদিন নিজেদের কাজ—তারপর ঢাকায় ফিরে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়বেন নতুন কাজে।
‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে অভিনয়শিল্পীরা ও পরিচালকবাড়ির ছাদে তখন সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ডাক পড়তেই জাহিদ–সেলিমও যোগ দিলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নতুন ধারাবাহিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন অভিনয়শিল্পী ও পরিচালক।
নাটকের নাম ‘ফিরে আসার গল্প’। রাজের আগের নাটক তোমাদের গল্প বেশ সাড়া ফেলেছিল। ইউটিউবে নাটকটির ভিউ মিলিয়ন মিলিয়ন। অনেকের মতে, পারিবারিক গল্পনির্ভর নাটকের নতুন জোয়ার আনায় এটির দারুণ ভূমিকা ছিল। এবারের নাটকের গল্পেও সম্পর্কটা গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে গল্পের বাঁক, চরিত্রের টানাপোড়েন কিংবা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—এসব এখনই প্রকাশ করতে নারাজ নির্মাতা।
সংবাদ সম্মেলন শেষ। এবার শুটিংয়ের পালা।
আগের বাড়িটির দোতলায় সেট প্রস্তুত। অভিনয়শিল্পীদের ডাক পড়েছে। দৃশ্যটিতে অভিনয় করবেন জাহিদ হাসান, শহীদুজ্জামান সেলিম, মনিরা মিঠু, খায়রুল বাসার ও তটিনী। ক্যামেরা চলছে। মনিটরের সামনে পরিচালকসহ সবাই চুপচাপ।
অভিনয়শিল্পীদের মুখে আবেগঘন সংলাপ। দৃশ্য শেষ হওয়ার পরও যেন সে আবেগ কাটেনি। মনে হচ্ছিল, পর্দার চরিত্রের কষ্ট যেন মুহূর্তের জন্য সত্যি হয়ে উঠেছে।
কাট বললেন রাজ। তারপর পাশে ফিরে বললেন, ‘অভিজ্ঞ শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে এটাই মজা। তাঁরা পরিচালকের চিন্তা আর স্বপ্নটাকে কী দারুণভাবে জীবন্ত করে দেন।’
জাহিদ হাসান–শহীদুজ্জামান সেলিমের প্রসঙ্গ উঠতেই রাজের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস। বললেন, গল্পের দুটি চরিত্রের জন্য এই দুজনকে তাঁর সবচেয়ে ঠিক মনে হয়েছে। এরপর ক্যামেরার ফ্রেম দেখিয়ে বললেন, এক ফ্রেমে জাহিদ হাসান-শহীদুজ্জামান সেলিম, সঙ্গে মিঠু আপা এবং এই প্রজন্মের বাসার-তটিনী! তাঁর বিশ্বাস, এই অভিনয়শিল্পীদের একসঙ্গে দেখে দর্শক বিস্মিত হবেন, আবেগপ্রবণ হবেন।
জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্যাটেলাইট টেলিভিশনের যুগ শুরুর আগেই এক ঘণ্টার নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। পরে এটিএন বাংলার লাল নীল বেগুনিতে প্রথমবার ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করেন, পরিচালক ছিলেন জাহিদ হাসান। এরপর ২০১৩ সালে এসএ টিভির ‘সাঙরিলা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন দুজন, সেটির পরিচালক আবার শহীদুজ্জামান সেলিম। তারপর বিরতি। প্রায় ১৩ বছর পর আবার এই ধারাবাহিকে একই ফ্রেমে জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিম। বিষয়টি তাঁরা দুজনই বেশ উপভোগ করছেন। শুটিংয়ের ফাঁকে চলছে গল্প, হাসি-আড্ডা।
‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের সংবাদ সম্মেলনের একটি মুহুর্তশুটিংবাড়িতে ব্যস্ততা বাড়ছে। কেউ মেকআপ নিচ্ছেন, কেউ চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন, কেউ আবার আড্ডায় মেতে উঠেছেন। মেকআপ রুমে সবার সঙ্গে বসে থাকা তরুণ অভিনেত্রী তটিনীকে দেখা গেল মাথা নিচু করে মোবাইলে কী যেন দেখছেন। ডা. এজাজ ও দীপা খন্দকার একসময় বেরিয়ে গেলেন। মুকিত জাকারিয়াও চলে গেলেন। এদিন তাঁদের শুটিং ছিল না; সংবাদ সম্মেলনের জন্য আসা। গায়ক–সংগীত পরিচালক আরফিন রুমি ও গায়িকা দোলার সঙ্গেও দেখা হলো। এই নাটকের জন্য গান বানিয়েছেন রুমি। গেয়েছেন দুজনে। একসময় উঠতে হবে জানিয়ে রুমি এই প্রতিবেদককেও জিজ্ঞেস করলেন, ‘যাবেন, নাকি আরও থাকবেন?’
পরিচালকের কাছে জানতে চাওয়া হলো, শুটিং চলবে কতক্ষণ? জানালেন—মধ্যরাত পর্যন্ত। পরের দৃশ্যের জন্য ব্যস্ত হচ্ছিলেন পরিচালক।
ঠিক নয়টার দিকে বেরিয়ে পড়লাম আমরা।