ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে মস্কোতে ট্রাম্পের জামাতা ও দূত
· Prothom Alo

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য আজ শনিবার মস্কো পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তাঁদের মধ্যে জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা। সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানায়, মস্কোতে তাঁদের স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ।
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উইটকফ, কুশনার ও দিমিত্রিভকে নিয়ে একটি গাড়িবহর মস্কোর সরকারি বিমানবন্দর ছেড়ে শহরের দিকে রওনা হয়।
Visit catcross.biz for more information.
গত জুনে রয়টার্সকে দিমিত্রিভ জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর বন্ধ থাকার সময়ও তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের আগের সব বৈঠকেই অংশ নেন দিমিত্রিভ।
চলতি বছর রাশিয়ার তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সমঝোতাতেও ভূমিকা রাখেন তিনি।
যুদ্ধটি এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি ঠিক কেমন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও জানান, মস্কো সফর শেষে রোববার ওই দুই মার্কিন প্রতিনিধি ইউক্রেন সফরে যাবেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের কিয়েভ সফরের আগেই ইউক্রেনের দুটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধের বয়স সাড়ে চার বছর পেরিয়েছে। তবে যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ হবে, তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ক্রেমলিন শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পুতিনের অবস্থান ‘অনড়’। দুই বছর আগে এক ভাষণে পুতিন শর্ত দিয়েছিলেন রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চল ইউক্রেনকে পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা চিরতরে বাদ দিতে হবে।
গত ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ শান্তি আলোচনার পর থেকে উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার বিমান হামলা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রের সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে সম্মুখযুদ্ধের অবস্থানে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। পুরো দনবাস অঞ্চল দখলে নেওয়ার চেষ্টায় রাশিয়া কেবল ধীরগতিতে কিছুটা এগোতে পেরেছে।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে একের পর এক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ফলে দেশটিতে গ্রীষ্মকালে তীব্র জ্বালানিসংকট দেখা দেয় এবং সাধারণ চালকদের বাড়তি দামে তেল কিনতে হয়। পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ অনলাইন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’–এর গুদামগুলোতে অন্তত ৩০ বার হামলা হয়েছে। এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ভোক্তা অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।
শুক্রবার কিয়েভে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। এ নিয়ে টানা ১০ দিন ইউক্রেনের রাজধানীতে ভারী হামলা চালাল মস্কো। জেলেনস্কি এই হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।