সত্যি সত্যি আমিরের গালে ১৭ চড়! শুটিং শেষে ফুলে গিয়েছিল মুখ
· Prothom Alo

বলিউডে ‘মেথড অ্যাক্টিং’ নিয়ে নানা গল্প শোনা যায়। কিন্তু একটি দৃশ্যকে বাস্তব করে তুলতে অভিনেতা নিজেই যদি বারবার চড় খেতে রাজি হন—তাহলে? মুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর শিল্পী ও নির্মাতাদের পুনর্মিলনীতে সামনে এসেছে এমনই এক চমকপ্রদ ঘটনা। ছবির একটি দৃশ্যের জন্য আমির খানকে নাকি ১৭ বার সত্যি সত্যি চড় মেরেছিলেন অক্ষয় খান্না!
২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ফারহান আখতার পরিচালিত ‘দিল চাহতা হ্যায়’ আজও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় বন্ধুত্বের গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিটির আবেদন কমেনি। বরং বন্ধুত্ব, প্রেম, সম্পর্ক ও বড় হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও ছবিটি সমান প্রাসঙ্গিক। ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি ইউভার আয়োজনে ছবির শিল্পী ও নির্মাতারা একত্র হলে উঠে আসে শুটিংয়ের নানা অজানা স্মৃতি।
সেখানেই আলোচনায় আসে সেই বিখ্যাত চড়ের দৃশ্য। সাইফ আলী খান প্রথমেই জানতে চান, পর্দায় দেখা চড়টি কি সত্যিই সত্যি ছিল?
Visit amunra-opinie.pl for more information.
ফারহান আখতারের উত্তর ছিল এককথায়—হ্যাঁ। ফারহান জানান, তিনি আমিরকে আগেই বলেছিলেন যে অক্ষয় তাঁকে সত্যিই চড় মারবেন। আমিরও বিষয়টি খুব স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। তবে পরিচালক হিসেবে ফারহানের পরিকল্পনা ছিল একটু ভিন্ন। তিনি অক্ষয়কে বলেছিলেন, আমির যেন চড়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ না পান।
ফারহানের ভাষায়, আমির জানতেন সংলাপের শেষ দিকে চড়টি আসবে। তাই অক্ষয়কে তিনি নির্দেশ দেন, সংলাপ বলার মাঝখানেই চড় মারতে। এতে দৃশ্যটিতে থাকবে আকস্মিকতার অনুভূতি।
পরিচালকের কথায়, ‘এটাই চলচ্চিত্র নির্মাণের অংশ। কখনো কখনো এমনটা করতেই হয়।’‘
এরপর যা ঘটেছিল, তা আরও অবাক করার মতো। চড় খাওয়ার পর আমির নাকি দৃশ্যটি আবার করতে বলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, বাস্তবে চড় খাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে চরিত্রের মানসিক অবস্থায় ঢুকতে সাহায্য করছে। তাই তিনি বারবার দৃশ্যটি করতে এবং চড় খেতে রাজি ছিলেন।
আমির নিজেও পুনর্মিলনীতে বলেন, বাস্তবে কাউকে চড় মারলে দৃশ্যের প্রভাব আলাদা হয়। শুধু অভিনয়ের অনুভূতিই নয়, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলেও সেটি বেশি কার্যকর মনে হয়।
শেষ পর্যন্ত সেই দৃশ্যের জন্য আমিরকে ১৭ বার চড় মারেন অক্ষয় খান্না।
ফারহানের স্মৃতিতে, শুটিং শেষ হওয়ার সময় আমিরের মুখে স্পষ্ট দাগ পড়ে গিয়েছিল। মুখের এক পাশ প্রায় ফুলেও গিয়েছিল।
সাইফও রেহাই পাননি
তবে ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর সেটে চড় খাওয়ার গল্প শুধু আমিরের নয়। আলোচনায় যোগ দেন অভিনেত্রী সুচিত্রা পিল্লাই, যিনি ছবিতে সাইফ আলী খানের প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
সুচিত্রা জানান, আজও অনেকে তাঁকে ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর ‘স্ল্যাপ গার্ল’ বলে ডাকেন।
সাইফকে চড় মারার দৃশ্যটির কথা মনে করে তিনি বলেন, শুটিংয়ের সময় তিনি বেশ দ্বিধায় ছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, সাইফ আলী খানের মতো একজন তারকাকে কীভাবে চড় মারবেন! নাটকের অভিনয়ে যেমন অনেক সময় আঘাতের অভিনয় করা হয়, তিনিও কি তেমনটাই করবেন?
কিন্তু পরিচালক ফারহানের নির্দেশ ছিল স্পষ্ট—সত্যি চড় মারতে হবে।
সুচিত্রার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাইফকে তিনবার চড় মেরেছিলেন। পরে একবার সাইফের মা, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে দেখা হলে সুচিত্রা তাঁকে মজা করে বলেন, তিনিই সেই মেয়ে, যিনি তাঁর ছেলেকে চড় মেরেছিলেন।
শর্মিলা ঠাকুরের উত্তরও ছিল দারুণ মজার—তিনি আশা করেছিলেন, চড়টি যেন বেশ জোরেই মারা হয়ে থাকে!
২৫ বছর পরও কেন এত আপন ‘দিল চাহতা হ্যায়’
ফারহান আখতারের পরিচালনায় ‘দিল চাহতা হ্যায়’ শুধু একটি সিনেমা ছিল না, অনেকের কাছে এটি ছিল বলিউডের গল্প বলার ধরন বদলে দেওয়া একটি ছবি। আমির খান, সাইফ আলী খান ও অক্ষয় খান্নার তিন বন্ধুর জীবন, প্রেম, সম্পর্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার গল্প দর্শকদের গভীরভাবে ছুঁয়েছিল।
ছবিতে আরও অভিনয় করেছিলেন প্রীতি জিনতা, সুচিত্রা পিল্লাই, আয়ুব খান ও রজত কাপুর।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে