ছাতিম ফুলের গন্ধ...

· Prothom Alo

তিন দিন আগে ও মেট্রো থেকে নেমে আমরা টংদোকানে দাঁড়িয়ে চা খেলাম, দুজনে ছিলাম ক্লান্ত আর বিধ্বস্ত, দুজনের দেখা হলে কখনো ক্লান্তি আমাদের ছুঁয়ে যেতে পারেনি। গল্প করলাম, পাশাপাশি হাঁটলাম, তারপরে তুমি অটো নিয়ে বাসায় চলে গেলে। শুধু একবার গাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালে তারপর আর তোমার দেখা নেই। নেই তো নেই, কোথাও নেই বেমালুম গায়েব হয়ে গেছ, হাওয়াই মিলিয়ে গেছ। সোশ্যাল মিডিয়াতে ও নেই, সব নাম্বার বন্ধ, অফিসেও নেই, একদম নাই হয়ে গেছ। কাউকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেছি না তোমার খবর, আকারে–ইঙ্গিতে অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু কেউ কোনো উত্তর দিতে পারেনি। তোমার বোনের নাম্বার বা তোমার মায়ের নাম্বার আমার কাছে নেই যে খোঁজ নেব একবার। অনেকবার বলেছি ওনাদের নাম্বারগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করার জন্য তুমি বললে দেবে আর দেওয়া হলো না বা আমারও নেওয়া হলো না। তোমার বাসার ঠিকানাও আমি জানি না, শুধু জানি তুমি তাঁজ লেনে থাকো, এটা কোথায় তা–ও জানি না। তুমি সব সময় একটা রহস্য লুকিয়ে রাখতে আমাদের মাঝে এবং সেটা করতে খুব সযতনে, যেটা আমি বুঝতে পারিনি। যদি জানতাম বা বুঝতাম, তাহলে আমি তোমার বাসার ঠিকানা ও বোনের নাম্বার তোমার কাছ থেকে নিয়ে রাখতাম। শুধু জানতাম, তুমি তোমার বোনের সঙ্গে থাকো।

Visit h-doctor.club for more information.

বিআরটিসি বাস কন্ডাক্টরের ডাকে ঘোর কাটল, তড়িঘড়ি করে নেমে গেলাম। নেমে বুঝতে পারলাম, আমার যেখানে নামার কথা ছিল, তার দুটি স্টেশন পার হয়ে গেছি। নেমেছি কল্যাণপুর ফুটওভার ব্রিজের একটু আগে।

বাংলায় আশ্বিন মাস চলে। এখনো শীতের দেখা নেই! ফুটপাতে উঠে এলাম, ভাবছি কোথায় যাব! পিঠে ব্যাগ! পায়ে কেসড। পরনে নীল জিনস প্যান্ট আর কালো ফুলহাতা শার্ট। ব্যাগে আছে ল্যাপটপ, একটা ক্যামেরা, দুটি টি–শার্ট, একটা ট্রাউজার, একটা নোটবুক, কয়েকটা কলম, এক্সট্রা একটা চশমা, আর কিছু ফার্স্টএইড। টংদোকানের পাশেই হকার পত্রিকা নিয়ে বসে আছে মাটির ওপর বিছিয়ে। গাড়ির হর্ন আর কর্মব্যস্ত মানুষের কোলাহলে শহর থেকে কোনো দিন যাবে না মনে হয়। সন্ধ্যা হলে মনে হয় এই শহর ভেঙে পড়ে, অ্যাম্বুলেন্সের হুইসেল, গাড়ির হর্ন, হকারদের ডাকাডাকি...মানুষের ঘরে ফেরার তাড়া। কে আগে যাবে, তা নিয়ে চলে মোটামুটি একটা যুদ্ধ। আমার ঘরে ফেরার কোনো তাড়া নেই!! আমার যে ঘর থেকেও কোনো দিন ছিল না! হালকা খিদে পেয়েছে বাট পাত্তা দিলাম না। চারদিকে মানুষের ছুটে চলা দেখছি। পত্রিকার হকার থেকেও একটা ‘সানন্দা’ চেয়ে নিলাম। আগে প্রায় নিয়মিত পড়া হতো, মনে হয় ২০ বছর পরে এই ম্যাগাজিন হাতে নিলাম। জানি না মানুষ আর আগের মতো এখন এসব ম্যাগাজিন পড়ে কি না। ‘আজ রবিবার’ ও পড়তাম মাঝেমধ্যে। রং–চা খেলে খিদে কমে যায় তাই করলাম রং–চা খেলাম। আনমনে ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাচ্ছি। হাতের ক্যাসিও ঘড়িতে সময় ৯টা ১৪ বাজে অভ্যাসবশত একবার দেখে নিলাম। যদিও কোনো তাড়া নেই।

দূরপাল্লার একজন বাস কন্ডাক্টরের কণ্ঠে শুধু শুনলাম কুষ্টিয়া কুমারখালী। এক পলক দেখে নিলাম বাসের নাম ‘রাবেয়া’। আগপিছ কিছু না ভেবে দৌড়ে বাসে উঠে গেলাম। বাসে উঠে প্রথম মোবাইল বন্ধ করে দিলাম ও ব্যাগের ভেতর রেখে দিলাম। ঘড়িতে সময় রাত সাড়ে ৯টা। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে এসে হকারকে দিয়ে এক বোতল পানি আনালাম। গাবতলী থেকে বাস ছেড়ে দিল, বাসে যাত্রী কম থাকায় মাঝামাঝি বসলাম জানালার পাশে। জানালা একটু খুলে দিলাম। ভাবতে লাগলাম আমি কোথায় যাচ্ছি, কার কাছে যাচ্ছি, কী জন্য যাচ্ছি, আরও কত শত ভাবনায় এসে মনের কোণে ভিড় করল। ঠিকানা বলতে সম্বল এতটুকুই...কুষ্টিয়া কুমারখালী চরগোবরার মনিরুলদের বাড়ি। জানি না তুমি ওখানে আছো কি না, না থাকলেও দুঃখ নেই, তোমার জন্মভিটা তো দেখে আসতে পারব। নিশ্চয়ই তোমার মনে পড়বে আমি একদিন বলেছিলাম আমি তোমার জন্মভিটা একদিন দেখতে যাব। ১১টা ২৬ মিনিটে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে এসে বাস থামল। ভাবতে ভালোই লাগছে, তুমি হয়তো কতশত বার এই ফেরি দিয়ে আসা–যাওয়া করেছ । বাস থেকে নেমে একদম ফেরির তিনতলায় চলে গেলাম, যেখান থেকে মরে যাওয়া পদ্মা নদীর সৌন্দর্য দেখা যায়। অনেক দূরে কোন একটা ডিঙিনৌকায় টিম টিম করে লাইট জ্বলছে। হয়তো কোনো জেলে জাল ফেলে অপেক্ষা করছে। ৩০ মিনিটের মতো লাগল ফেরি পার হতে। জানালাটা কিছুটা টেনে দিলাম; কারণ, হালকা হিমেল হাওয়া আসতেছিল আর শীত শীত লাগতেছিল। বাস কন্ডাক্টরকে আগেই বলে রেখেছিলাম কুমারখালীতে আমাকে যেন নামিয়ে দেয়। হালকা ঝিমুনির মতো আসছিল। কন্ডাক্টরের ডাকে পুরোপুরি সজাগ হয়ে গেলাম। আমাকে বলল আর দুই কিলোমিটার সামনে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড! ঘড়িতে প্রায় রাত দুইটা বাজে!

কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডে নেমে গেলাম। জীবনের প্রথম এদিকে এলাম। বাস থেকে নেমে একটু ধাতস্থ হওয়ার চেষ্টা করলাম। চারদিকে তাকালাম। দু–একটা টংদোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধ। কয়েকটা নেড়ি কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে। যেখানে নেমেছে, সেখান থেকে সামনে দুইটা দোকান খোলা দেখতে পেলাম আলো জ্বলছে। হালকা শীত শীত লাগছে। পাশাপাশি দুইটা দোকান খোলা।

একটা দোকানে বাংলা ছায়াছবি চলছে আর অন্যটাতে শিল্পী মমতাজের গান চলছে। হাতে গোনা কয়েকজন খরিদ্দার গল্প করছে আর চা খাচ্ছে। একসঙ্গে সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর যে যার কাজে মনোনিবেশ করল। বুঝতে পারলাম রং চা আর টোস্ট বিস্কিট দিয়ে রাতের খাবারটা সেরে নিতে হবে। এবার দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম চরগোবরা কীভাবে যাওয়া যাবে। পাশেই দুজন সিএনজি ড্রাইভার ছিলেন। জিজ্ঞাসা করলেন চরগোবরা কোন বাড়িতে যাবেন।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

বললাম মনিরুলদের বাড়ি। বলল মনিরুল তো অনেকেই আছে কোন মনিরুল। বললাম জামে মসজিদের সামনে নামিয়ে দিলেই হবে। প্রথম ড্রাইভার যেতে রাজি হলেন না, দ্বিতীয় সিএনজি ড্রাইভার বললেন ভাড়া ডাবল দিতে হবে। সিএনজি ড্রাইভারের বয়স ৬০–এর কাছাকাছি হবে, আলাপ জমানো চেষ্টা করলাম সিএনজিতে উঠে, হু–হা করে জবাব দিলেন তাই আর আলাপ সামনে বেশি দূর হয়ে গেল না। মধুমতি নদীর ওপরে কুমারখালী ব্রিজ পার হয়ে গেলাম এক পলকেই। রাস্তায় একদম ফাঁকা চারদিকে সুনসান। মনে মনে ভাবছি, বাকি রাতটুকু মসজিদের বারান্দায় বসে কাটিয়ে দিতে পারব। ২৭ মিনিট লাগল কুমারখালী থেকে চরগোবরা জামে মসজিদে এসে পৌঁছাতে। মসজিদ থেকে একটু আগে নামলাম, ড্রাইভার হাতে ইশারায় মসজিদ দেখিয়ে দিল। ভাড়া মিটিয়ে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে সামনে হাঁটা ধরলাম। মসজিদের পাশে এসে দাঁড়ালাম, ১০০ ওয়াটের একটা ইলেকট্রিক বাতি অকাতরে আলো বিলিয়ে যাচ্ছে, বাতিকে ঘিরে পোকার দল চারপাশে ওড়াউড়ি করছে। মসজিদের বারান্দা খোলা আছে। মসজিদের লাগোয়া ছোট্ট একটা রুমে আলো জ্বলছে এবং ভেতরে টুংটাং শব্দ শুনে হচ্ছে। নক করব, কী করব না; দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি। এত রাত্রে কি দরজা নক করা ঠিক হবে। সব দ্বিধা ঝেড়ে দরজা নক করলাম। কিছুক্ষণের পর দরজা খুলে দিলেন একজন লোক। আধা পাকা দাড়ি, লম্বায় আমার থেকে ২ ইঞ্চি বড় হবে, পরনে ফুলহাতা গেঞ্জি আর লুঙ্গি। প্রথমে সালাম দিলাম, পরে বললাম মুসাফির অনেক দূর থেকে এসেছি। সালামের জবাব দিলেন এবং আমার পায়ে থেকে মাথা পর্যন্ত একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন। বললেন ভেতরে আসুন পরে বৃত্তান্ত শুনব। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পূর্বে বললাম এক বন্ধুর খোঁজে এসেছি এই গ্রামে কিন্তু এত রাত্রে গিয়ে তাদের ডিস্টার্ব করতে চাইনি। ঘরে ঢুকেই খাবারের সুগন্ধ নাকে সে লাগল। এতক্ষণ পর মনে পড়ল রাতে শুধু টোস্ট আর চা খেয়েছিলাম। খাবারে সুগন্ধে খিদা আবার জেগে উঠল নতুন করে। ছোট্ট একটা রুম খাট পাতা আছে। রুমটা অত্যন্ত পরিপাটি করে গোছানো। এক কর্নারে ছোট্ট একটা কাঠের আলনা। ডান পাশে ছোট একটা পড়ার টেবিল সঙ্গে একটা চেয়ার। পূর্ব কর্নারে গ্যাসের সিলিন্ডার ও রান্না করার চুলা। ব্যাগ রেখে খাটের এক কর্নারে বসলাম। খাটের ওপর হালকা নীল রঙের চাদর বিছানো সঙ্গে দুইটা বালিশ। মৌলভী সাহেব বললেন আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ার, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে আসছিলাম এই এলাকায়, এখন এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, গ্রামের শেষ মাথায় বাড়ি আমার, ফ্যামিলি থাকে ওখানে, আগামীকাল আল্লাহ চাহেতো রোজা থাকব, তাই চলে আসছি মসজিদে, সকালে নামাজ পড়িয়ে একটু ঘুমাব। আপনি এক কাজ করেন, হাতে ডান পাশে দরজায় একটু ধাক্কা দিলে দেখবেন পানির কল আছে ফ্রেশ হয়ে আসেন।

ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি ডিম ভাজা হয়ে গেছে, খিচুড়ির সুঘ্রাণ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতক্ষণ পর খিদের কথা মনে হলো। এত সুস্বাদু খিচুড়ি আমার জীবনে আর কোনো দিন খাইনি। মৌলবী সাহেব বললেন, আপনি শুয়ে পড়ুন, আপনার যখন দরকার হবে আপনি বের হয়ে যাবেন আমাকে ডাক দেওয়ার দরকার নেই।

ভোরের আলো ফুটতেই! পাখির কলতানে ঘুম ভেঙে গেল। মৌলভী সাহেব পাশের খাটে ঘুমাচ্ছেন, উনাকে ঘুম থেকে না জাগিয়ে আস্তে করে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বের হয়ে এলাম। রাস্তার নেমে এলাম ডানে–বামে তাকালাম সুনসান, কোথাও মানুষ নেই। পুব আকাশে সূর্য উঁকি দিচ্ছে, আশ্বিনের শেষের দিকে হওয়াতে হাল্কা হিম হিম আবহাওয়া বিরাজ করছে চারদিকে, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকালাম। যে পথে এসেছিলাম সে পথে আবার আস্তে আস্তে হাঁটা ধরলাম। কিছুক্ষণ পর একজন মুরব্বি লোকের দেখা পেলাম। হাতে বাজারের ব্যাগ। বললাম ওহিদ মাস্টারের বাড়ি যাব, কোন দিকে, একটু দেখি দিতে পারবেন। বললেন, সামনে দুটি বাড়ি পার হয়ে দেখবেন, একটা বড় পাকুড়গাছ, হাতের বাম পাশে একটা সরু রাস্তায় নেমে গেছে, ওটাই ওহিদ মাস্টারের বাড়ি। ধন্যবাদ দিয়ে সামনে হাঁটা ধরলাম। বর্ণনামতো পাকুড়গাছ ও সরু রাস্তা দেখতে পেলাম। দাঁড়িয়ে রইলাম কাউকে যদি দেখা পাই এই আশায়। বেশ কিছুক্ষণ পর ১০–১২ বছর একটা বাচ্চাকে ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছে দেখলাম। কিছুটা আশার সঞ্চার হলো। মনে হয় কোনো মক্তব বা মাদ্রাসা যাচ্ছে, বাড়ির সামনে অপরিচিত আমাকে দেখে একটু থমকে দাঁড়াল। আন্দাজের ওপরে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার দাদু কি বাড়িতে আছে। উত্তর না দিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরল আবার। আমিও পিছু পিছু বাড়িতে ঢুকে পড়লাম।

পুরোনো একটা বিল্ডিং দু–একটা টিনের ঘর একচিলতে উঠুন। উঠানের সামনে এসে দাঁড়ালাম। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ৭০–এর বেশি বয়সী একজন নারী বের হয়ে এলেন। পরনের সুতির অফ হোয়াইট শাড়ি, চেহারা একটা পবিত্র আভা, প্রচণ্ড ব্যক্তিত্বের ঝলক দেখা গেল। কাছে এসে পা ছুয়ে সালাম করতে চাইলাম, একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। বলেন বাবা তোমাকে তো চিনতে পারতেছি না। বললাম আপনাকে কি আমি মা বলে ডাকতে পারি। বললেন তা পারো বাবা কিন্তু... বললাম আমার বাড়ি মেঘনা নদীর ওই পারে চাঁদপুর। এবার ভালো করে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দৃষ্টি বোলালেন। বললেন বাবা আমার কাছে কি দরকারে এসেছ। বললাম আমি পুঁথির বন্ধু, মনে হলো উনি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন, চেহারার কপালের ভাঁজ শিথিল হলো, চেহারায় একটা আনন্দের ঝিলিক দেখা গেল।

বললাম, মা, পুঁথি কোথায়। বললেন তুমি যে পথ দিয়ে এসেছ, এই পথের বাম পাশে একটা ছোট পুকুর দেখবে, পুকুরপাড়েই আছে, যাও। ব্যাগ চেয়ার ওপরে রেখে নির্দেশনা মোতাবেক পুকুরের দিকে গেলাম। দূর থেকে আমি ওকে দেখতে পেলাম, কিন্তু ও আমাকে দেখতে পায়নি। দেখলাম, মাটিতে বসে ফুল কুড়াচ্ছে। সরাসরি সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, বসা অবস্থায় ওপর দিকে তাকিয়ে আমাকে দেখে হতভম্ভ হয়ে গেল; মাটিতে বসেই পড়ল। বসা থেকে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরল; শরীরে যত শক্তি আছে, তা দিয়ে। এরপর ফুলের ডালা থেকে একমুঠো ফুল হাতে নিয়ে আমার নাকের কাছে ধরে বলল, এই নাও, তোমার ছাতিম ফুলের গন্ধ...

Read full story at source