এমন অবস্থায় থেকেও কেন বড় গলায় জয়ের কথা বলছেন না মিরাজ

· Prothom Alo

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ও ধারাভাষ্যকার জেসন গিলেস্পির মনে হচ্ছে, মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট এখনো বেশ ভালো। এমনকি উইকেটটা নাকি ব্যাটসম্যানদের জন্য সেরা অবস্থায় চলে আসতে পারে টেস্টের চতুর্থ দিনেই।

দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার পেসার জস হ্যাজলউডের মুখেও একই কথা—উইকেটে ব্যাটিং করাটা এখনো সহজ। তার মানে ইনিংস পরাজয় তো অবশ্যই এড়াতে চাইবেন, হাতে থাকা ৬ উইকেট নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে বড় লক্ষ্য দেওয়ার আশা তাঁদের। সে জন্য অস্ট্রেলিয়া এগোতে চায় সেশন ধরে ধরে।

Visit extonnews.click for more information.

পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

কিন্তু বাংলাদেশ দল কি তাদের সেই সুযোগ দেবে? ৬৭ রানের দূরত্ব পেরিয়ে যাওয়া হয়তো অস্ট্রেলিয়ার জন্য কঠিন হবে না। কিন্তু এরপর আর কত দূরই–বা যেতে পারবে তারা! ডারউইন টেস্টের এই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কি ভাবছে ইনিংস জয়ের কথা? সেটি না হলেও অস্ট্রেলিয়াকে কাল চতুর্থ দিনেই হারিয়ে দেওয়ার কথা তো ভাবাই যায়।

তৃতীয় দিন শেষে আজ সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যার ১৫৪ বলে করা ৬৫ রানের বড় অবদান আছে বাংলাদেশের ৪২৮ রানের সংগ্রহে। ‘দল হিসেবে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি’ বললেও জয়ের প্রশ্নে মিরাজ কিন্তু রয়েসয়ে এগোনোর কথাই বলেছেন, ‘আমরা ওইভাবে চিন্তা করছি না, আমরা চেষ্টা করছি ভালো জায়গায় বল করার জন্য। প্রতিটি উইকেট নিতে গেলে কষ্ট করে বল করতে হবে, কারণ উইকেট অত সহজ নয়।’

হেডকে দুঃখের পঞ্চম স্তরে নামালেন হাসান মাহমুদ

তবে পরে আরেক প্রশ্নের জবাবে একটু খোলাসা করেই বলেছেন লক্ষ্যের কথা, ‘যত কম রান হয় ততই ভালো। এখনো খেলার দুই দিন বাকি। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এখান থেকে দ্রুত তিনটি উইকেট নেওয়া, কারণ ওরা সবাই ভালো ব্যাটিং করে। উইকেট দিন দিন আরও ভালো হচ্ছে। আমরা বড় লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা না করে ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোনোর চেষ্টা করছি।’

প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১২২ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটসম্যানরা থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারছেন না। তবে মিরাজ বলেছেন, অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের আউট করাটা সহজ ছিল না, ‘আমরা যে উইকেটগুলো পেয়েছি, অনেক কষ্ট করেই নিতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি রান যতটা আটকানো যায়। এই রানের ভেতরে যদি আরও তিন–চারটা উইকেট নিতে পারি, তখন আমাদের জন্য সহজ হবে। হয়তো রানের লক্ষ্যটাও বেশি থাকবে না।’

প্রথম ইনিংসে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকুর রহিম আউট হয়ে যাওয়ার পর মূলত টেল এন্ডারদের নিয়েই এগিয়েছেন মিরাজ। সন্দেহ নেই টেল এন্ডাররাও তাঁকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। তবে মাঠের বাস্তবতাটা মিরাজরাই ভালো জানেন। তিনি যেমন বলেছেন, ‘আমরা খুব ভালো ব্যাটিং করেছি।

মিরাজ–হাসানের জুটি থেকে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ৪৬ রান

তবে আমার জন্য ব্যাটিংটা একটু কঠিন ছিল, কারণ আমি যখন নেমেছিলাম, তখন মুশফিক ভাই আউট হয়ে গেছেন। আমি বোলারদের নিয়েই যা রান করার করেছি। ওই সময়ে রান করাটা আমার জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল।’ সেই চ্যালেঞ্জ যেমন তাঁরা জিততে পেরেছেন, মিরাজের আশা টেস্টের বাকি দুই দিনও বাংলাদেশ দল এভাবেই খেলবে।


ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট শুরু হলেও এখানে বাংলাদেশ দল এসেছে গত ১ আগস্ট। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাই লম্বা সময় পাওয়া গেছে। মাঝে খেলেছে একটা প্রস্তুতি ম্যাচও, যেটির দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস হারের তিক্ত স্বাদ নিতে হয়েছে দলকে।

এর আগে গত মাসে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও বাংলাদেশ হারে ইনিংস ব্যবধানে। সব মিলিয়ে ব্যাটিংটা যখন বাংলাদেশের জন্য মহা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখনই আসল জায়গায় এসে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো। মিরাজ এর পেছনে বড় করে দেখছেন নিজেদের ওপর থাকা নিজেদের আস্থাটাকেই, ‘আমরা সবাই বিশ্বাস করেছিলাম যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছি এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে বিশ্বাসটা ছিল।’

প্রথম ইনিংসে স্পিনাররা উইকেটশূন্য থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত একটি করে উইকেট নিয়েছেন দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মিরাজ। স্টিভেন স্মিথের উইকেটটি নিয়েছেন মিরাজ। তাঁর জন্য করা বোলিং পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মিরাজের কথা, ‘আমরা চিন্তা করেছি আমাদের সব সময় সঠিক জায়গায় বল করে যেতে হবে। তাকে খুব বেশি রান করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

আবারও হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড ট্রাভিস হেড


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত একটাই টেস্ট জয়। ২০১৭ সালে মিরপুরের সেই টেস্টেও স্মিথের উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। এক অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক সেটি মনে করিয়ে দিতেই মিরাজ হেসে বলেছেন, ‘এটি আমার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত ছিল। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, আর তার উইকেট নেওয়াটা আমার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত। আমি শুধু কীভাবে তাকে আউট করা যায়, সেটা নিয়েই ভেবেছি এবং পরিকল্পনাটা সহজ রেখেছি। তাকে রান করার সুযোগ দেওয়া এড়িয়ে গেছি, ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি এবং লাইন ও লেংথে পরিবর্তন এনেছি।’


মিরাজের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব হারানো নিয়েও কৌতূহল আছে অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়ার। যদিও এ প্রশ্নেও তিনি হেসেই বলেছেন, ‘এ রকম হতেই পারে। আমি এখন জানি আমাকে কী করতে হবে।’

Read full story at source