সিট পছন্দ দেখে বলে দেওয়া যায় ব্যক্তিত্বের ধরন

· Prothom Alo

বিমানে ওঠার পর বোডিং পাস হাতে নিয়ে তোমার নজর সবার আগে কোথায় যায়? জানালার ধারের সিট, নাকি আইল সিট? অনেকে আবার কপাল দোষে মাঝখানের সিটে গিয়ে গুটিসুটি মেরে বসেন। তুমি হয়তো ভাবছ, এটা শুধু একটা সিট, এ নিয়ে এত চিন্তা করার কী আছে! কিন্তু ফ্লাইটের কেবিন ক্রু বা বিমানবালাদের চোখে, তোমার এই সিট বাছাই করার ধরন তোমার ব্যক্তিত্বের পুরো একটা বায়োডাটা খুলে দেয়।

অনেকেই জানালার পাশের সিট পেলে হুডি টেনে এমনভাবে ঘুম দেন, যেন তাঁকে পরম মমতায় দোল দিয়ে ঘুম পাড়ানো হচ্ছে! আবার কেউ কেউ আইল সিট পছন্দ করেন। আইল সিট মানে হাঁটার রাস্তার ঠিক পাশের সিট। কারণ, অনেকের এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকলে হাঁসফাঁস লাগে, একটু পরপর উঠে হাঁটাচলা করতে হয়। তবে তোমার যে সিটই পছন্দ হোক না কেন, সিট বাছাইয়ের পেছনে মানুষের অবচেতন মন ও স্বভাবই মূল কলকাঠি নাড়ে!

Visit grenadier.co.za for more information.

চলো দেখে নিই, ৩৫ হাজার ফুট ওপরে তোমার সিট সিলেকশন তোমার সম্পর্কে ঠিক কী কী তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে।

কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক যেভাবে দুই শ রাজ পেঙ্গুইন সংরক্ষণ করলেন

বোর্ডিং পাসেই কি স্বভাব লুকিয়ে থাকে

সব সময় যে আমরা নিজেদের পছন্দে সিট পাই, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় টিকিট কাটতে দেরি হলে বাধ্য হয়ে যেকোনো ফাঁকা সিটে বসতে হয়। কিন্তু যখন তোমার হাতে অপশন থাকে, তখন তুমি কোন সিটটা বেছে নিচ্ছ, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

২০ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্লাইটে কাজ করা অভিজ্ঞ বিমানবালা সিডনি বলেন, ‘আমি ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারব না, তবে যাত্রীরা কে কোথায় গিয়ে বসবেন, সেটা তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও হাবভাব দেখেই আমি বেশ নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারি।’ আরেক বিমানবালা লরেটা জানান, এর সঙ্গে খরচেরও একটা সম্পর্ক আছে। যাঁরা একটু বেশি টাকা দিয়ে আপগ্রেডেড সিট কেনেন, তাঁরা ফ্লাইটের ভেতরেও খাবার বা অন্যান্য জিনিসে বেশ উদারভাবে টাকা খরচ করেন।

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রিকে ঘিরে বার্সা-রিয়ালের ‘এল ক্লাসিকো’

যাঁরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভালোবাসেন

আইল সিট যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁরা সাধারণত আরামের চেয়ে কাজের সুবিধা বা চলাফেরার স্বাধীনতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। সিডনি জানান, ‘এই সিটগুলোয় সাধারণত বিজনেস ট্রাভেলার বা চাকরিজীবীদের বেশি দেখা যায়। কারণ, এখানে বসে ল্যাপটপ বের করে কাজ করা সহজ।’

এই যাত্রীরা মূলত নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পছন্দ করেন। বাথরুমে যাওয়ার জন্য পাশের জনকে ঘুম থেকে তুলে ‘এক্সকিউজ মি’ বলতে তাঁদের চরম অস্বস্তি হয়। আবার ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর সবার আগে ব্যাগপত্র গুছিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার জন্যও এই সিট তাঁদের প্রথম পছন্দ।

ঘুমকাতুরে ও স্বপ্নবাজ যাঁরা

তুমি যদি জানালার ধারের সিট পছন্দ করো, তবে অভিনন্দন! তুমি সম্ভবত একজন দুর্দান্ত ঘুমকাতুরে, অথবা আকাশ দেখতে খুব ভালোবাসো, কিংবা দুটোই। জানালার পাশে মাথা এলিয়ে দিয়ে আরামে ঘুমানোর যে সুবিধা, তা আর কোথাও নেই। মাঝপথে কেউ বাথরুমে যাওয়ার জন্য তোমাকে ডিঙিয়ে যাওয়ারও বিরক্তি নেই।

যাঁরা ভিড় ভয় পান, তাঁদের আবার এই সিটগুলো খুব পছন্দ। কারণ, আইলের ধারের হাঁটাচলার রাস্তা থেকে তাঁরা বেশ দূরে থাকতে পারেন। এ ছাড়া আরেকটা বড় কারণ হলো, জানালার পর্দা! কখন রোদ আসবে আর কখন অন্ধকার থাকবে, সেই নিয়ন্ত্রণটুকু নিজের হাতে রাখার জন্যই অনেকে এই সিট বেছে নেন।

প্রকৃতিকে যেভাবে ভালোবাসতে শুরু করেছিলেন ডেভিড অ্যাটেনবরো

বাধ্য হয়ে বসেন যাঁরা

কেউ সাধ করে মাঝখানের সিটে বসতে চান না। এটা সাধারণত একদম শেষ সম্বল। তবে এই সিটটা কীভাবে পূরণ হচ্ছে, সেটা দেখে অনেক কিছু বোঝা যায়। সিডনি জানান, ‘অনেক সময় তরুণ কাপলদের মধ্যে পুরুষ সঙ্গী ইচ্ছা করে মাঝখানের সিটে বসেন, যেন তাঁর সঙ্গিনী জানালার ধারের আরামটা পান।’

তবে মাঝখানের সিট নিয়ে সবচেয়ে বিরক্তিকর কৌশলটা খাটান একটু বয়স্ক বা দীর্ঘদিনের বিবাহিত কাপলরা। তাঁরা ইচ্ছা করে জানালার ধার ও আইল সিটটা বুক করেন, আর মাঝখানেরটা ফাঁকা রেখে দেন। তাঁদের আশা থাকে, মাঝখানের সিটটা ফাঁকাই থাকবে আর তাঁরা বেশ আয়েশ করে বসতে পারবেন। কিন্তু যদি কপাল গুণে সেখানে কোনো অচেনা যাত্রী এসে পড়েন, তখন দুই পরিচিত মানুষের মাঝখানে বসে বেচারাকে পুরো রাস্তা অস্বস্তিতে কাটাতে হয়!

আর হ্যাঁ, কেউ যদি সত্যিই নিজ থেকে মাঝখানের সিট বেছে নেন, তবে বুঝতে হবে তিনি হয়তো যেকোনো ধরনের ঝগড়া বা কনফ্লিক্ট এড়িয়ে চলতে চান। অথবা সে চরমমাত্রার আড্ডাবাজ, যাঁর দুই পাশের দুজন মানুষের সঙ্গেই কথা বলার তীব্র বাসনা রয়েছে!

ডেভিড অ্যাটেনবরো কেন সেরা

লম্বা মানুষদের রাজত্ব

এক্সিট রো বা একটু বেশি পা ছড়িয়ে বসার সিটগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিত্বের চেয়ে বরং শারীরিক কাঠামোর সম্পর্ক বেশি। যাঁদের উচ্চতা বেশি, তাঁরাই সাধারণত একটু বাড়তি টাকা খরচ করে এই সিটগুলো নেন। তবে এখানে বসলে ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থায় ক্রুদের সাহায্য করার মতো শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হয়।

সামনে বসা ভালো, নাকি পেছনে

যাঁরা ফ্লাইটের একদম সামনের দিকের সিট বেছে নেন, তাঁরা সাধারণত খুব গোছানো হয়। তাঁদের লক্ষ্য থাকে কোনো ঝামেলা ছাড়া দ্রুত নেমে যাওয়া। অনেকে আবার একটু নার্ভাস থাকে বলে ক্রু বা পাইলটের কাছাকাছি বসতে স্বস্তি বোধ করে। অন্যদিকে, পেছনের সিটগুলোয় যাঁরা বসেন, তাঁরা অনেক বেশি চিন্তামুক্ত স্বভাবের হন। অনেক সময় ছোট বাচ্চা থাকা পরিবারগুলো পেছনের দিকে বসে, যাতে বাথরুম বা ক্রুদের গ্যালির কাছাকাছি থাকা যায়।

কেমন করে তৈরি হয় এক স্কুপ আইসক্রিম

বিমানবালাদের রাডার থেকে বাঁচার উপায় নেই

বিমানবালারা শুধু সিট দেখেই বসে থাকেন না, কে কেমন আচরণ করছে, তারও হিসাব রাখে। যেমন সামনের সিটের হাতলে পা তুলে দেওয়া যাত্রীদের তাঁরা প্রচণ্ড বিরক্তিকর এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে মনে করেন। আবার অনেকে ইচ্ছা করে অন্যের সিট দখল করে কানে হেডফোন লাগিয়ে ঘুমের ভান করেন, যাতে আসল সিটের মালিক লজ্জায় কিছু বলতে না পারেন!

এই সবকিছু খেয়াল রাখার একটা বড় কারণ হলো, এতে বিমানবালারা আগে থেকেই বুঝতে পারেন কোন যাত্রীর কী প্রয়োজন হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে যখন বিমানে উঠবে, তখন মনে রেখো; তুমি সিটে বসে আকাশ দেখছ, আর কেউ একজন তোমাকে পড়ে ফেলছে একদম খোলা বইয়ের মতো!

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

নতুন ভাষা শিখলে মস্তিষ্ক হবে আরও দক্ষ, নতুন গবেষণা

Read full story at source