চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘গেটওয়ে টু ওয়ার্ল্ড ট্রেড’ বলা হয় কেন

· Prothom Alo

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দর। প্রতিদিন এই বন্দরের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজার থেকে খাদ্যশস্য, চিনি, সার, সিমেন্ট, অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম আমদানি করা হয়। অন্যদিকে পাট, চা, তৈরি পোশাক (আরএমজি), চামড়া, হিমায়িত মাছ এবং চিংড়ি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিকারক পণ্য। বন্দরের পথ দিয়ে দেশের কাঁচামাল, পোশাক, তৈরি পণ্য, কৃষিপণ্যসহ অধিকাংশ পণ্যের রপ্তানি পরিচালিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জিডিপি এবং কর্মসংস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এখানে আট হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত আছেন; যাঁদের মধ্যে ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ বন্দরে এবং ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ শুল্ক বিভাগে কর্মরত। এ ছাড়া আশপাশে শিল্পায়নের ফলে বন্দর এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিদের প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরটি অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি দেশের অবকাঠামোতেও প্রধান অবদানকারী; যা সড়ক, রেললাইন এবং অন্যান্য পরিবহন নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। একটা সময়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়া, এবং বর্তমানে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিনির্ভর একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থল।

Visit saltysenoritaaz.org for more information.

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর কবে প্রতিষ্ঠিত হয়
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর, যাকে দেশের ‘লাইফ লাইন’ বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত চট্টগ্রাম নগরীকে বাণিজ্যের প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে মনে করা হতো। বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নগর খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে ‘শ্বেতগঙ্গ’ বা ‘গঙ্গার ব-দ্বীপ’ নামে পরিচিত ছিল। নবম শতকে মধ্যপ্রাচ্যের ওমানি ও ইয়েমেনি আরবীয় বণিকেরা উপমহাদেশে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর তৈরি করেন। সে সময় চট্টগ্রামের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে জাহাজ নোঙর করার সুরক্ষিত পথ তৈরি হওয়ার কারণে তাঁরা এটিকে বাণিজ্য ও ব্যবসার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে চতুর্দশ শতকে মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা এবং ইতালীয় বণিক নিকোলো দে কন্টিও এই বন্দর পরিদর্শন করেন। ১৫২৭ সালের দিকে ইউরোপীয়-পর্তুগিজ ঔপনিবেশিকেরা প্রথম চট্টগ্রাম বন্দরে ভ্রমণ করতে আসেন এবং আধিপত্য স্থাপন করেন। তখন পর্তুগিজরা এর নাম দেন ‘পোর্তো গ্রান্দে দে বেঙ্গালা’ বা ‘বাংলার মহাবন্দর’। আর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকেরা চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘পোর্ট গ্র্যান্ড’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৬৬৬-৬৮ সালের মধ্যে মোগল সেনাপতি শায়েস্তা খান বাংলায় ক্ষমতা দখল করে আরাকান ও পর্তুগিজদের পরাজিত করে চট্টগ্রাম থেকে তাদের বিতাড়িত করে। পরবর্তী সময়ে ইংরেজ সরকার ১৮৮৭ সালে ‘পোর্ট কমিশনার’স অ্যাক্ট’-এর অধীনে চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রথম প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কাঠামো তৈরি করে। একই বছরে ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’ গঠিত এবং ১৮৮৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

১৯১০ সালে বছরে ৫ লাখ টন পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চারটি জেটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৬০ সালে রেল ব্যবস্থাপনার জন্য ‘চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা এবং বন্দরকে ‘মেজর পোর্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সে সময় চট্টগ্রাম বন্দরকে রেলওয়ে এবং বন্দর কমিশনারদের দ্বারা পরিচালনা করা হতো। তারপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তৎকালীন সরকার ‘চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাস্ট’ বিলুপ্ত করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’ স্বায়ত্তশাসিত রূপ লাভ করে।

২০২২ সালের ৫ এপ্রিল, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশটি রহিত করে ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২২’ পাস করা হয় এবং ১৩ এপ্রিল ২০২২ রাষ্ট্রপতি বিলটিতে স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর

বৈশ্বিক রপ্তানিমূলক শিল্প ও পণ্যের সাপ্লাই চেইন
আন্তর্জাতিক পোশাকের বাজারে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বখ্যাত পোশাক ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম, জারা, ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন কোম্পানির নিজস্ব তৈরি পোশাকের রপ্তানিমূলক বাজার সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর মূল চালিকাশক্তি। আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের বিপুল চাহিদার বেশির ভাগই এই বন্দরের মাধ্যমে কনটেইনারে করে ইউরোপ, আমেরিকা ও বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি করা হয়।

২০২৫-২৬ সালের আন্তর্জাতিক শিপমেন্ট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, নিটেড অ্যাপারেলস বাবদ প্রায় ১৭ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ওভেন অ্যাপারেলস বাবদ প্রায় ১৩ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য এই বন্দর দিয়ে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয়েছে। ফুটওয়্যার ও চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি বাবদ প্রায় ৮১৫ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে টেক্সটাইলসামগ্রী হিসেবে বিছানার চাদর, পর্দা, তোয়ালে, নিটেড ফেব্রিকস এবং পাটজাতভিত্তিক পণ্য, কাঁচা পাট, পাটের সুতা, চট, বস্তাসহ কৃষিজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চা, হিমায়িত চিংড়ি, ইলিশ, সামুদ্রিক মাছসহ নানা ধরনের খাদ্য রপ্তানি করা হয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের এই সময়ে রপ্তানিমূলক পণ্যের চাহিদায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মোট শিপমেন্টের প্রায় ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ, জার্মানি ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ, স্পেন ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং নেদারল্যান্ডস ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ পণ্য আমদানি করেছে।

বৈশ্বিক বাজার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে যা আসে
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্য খালাস করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বন্দর দিয়ে প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানিকৃত পণ্য দেশে ক্রয় করা হয়েছে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি, তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পোশাক, খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাত জ্বালানি ও খনিজ তেল। তার মধ্যে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনের জন্য ব্যাপক পরিমাণে আমদানি করা হয়। এ ছাড়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের জন্য নিয়ে আসা হয়। এলপিজি ও এলএনজি সিলিন্ডার গ্যাস, শিল্পকারখানার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণে আমদানি করা হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প সচল রাখতে তুলা, সুতা ও কাপড় তৈরির প্রধান, প্লাস্টিক–সামগ্রী ও প্যাকেজিং শিল্পের কাঁচামাল, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সিমেন্ট ক্লিংকার, দেশের রড ও স্টিল মিলগুলোর জন্য প্রধান কাঁচামাল স্ক্র্যাপ মেটাল ও আয়রন পাথর, মেগা প্রজেক্ট নির্মাণ কাজের জন্য ক্রাশড স্টোন, দেশের মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোজ্যতেল হিসেবে অপরিশোধিত পাম অয়েল, সয়াবিন তেলসহ বিপুল পরিমাণ গম, চাল, ভুট্টা, ডাল, ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে আমদানিকৃত নিত্যপণ্য। তা ছাড়া কৃষি খাতের জন্য কেমিক্যাল, সার, ইউরিয়া ও টিএসপি সার এবং শিল্পের কেমিক্যাল হিসেবে সোডা অ্যাশ, সোডিয়াম সালফেট এবং ডাইং কেমিক্যাল আমদানি করে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি টার্মিনাল রয়েছে। এসব টার্মিনালে সাধারণ রপ্তানি অথবা আমদানিকারক জাহাজ নোঙর করে সহজভাবে পণ্য ও মালামাল ওঠা-নামা করানো হয়। আবার একেকটি টার্মিনালে ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের জাহাজ নোঙর করে থাকে। টার্মিনালে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ক্রেন থাকায় জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস করা যায়। এতে একটি জাহাজকে বন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না এবং দ্রুত সাগরে ফিরে যেতে পারে। বন্দরে জাহাজের অবস্থানকাল কমিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়।

জেনারেল কার্গো বার্থ: বন্দরের সবচেয়ে পুরোনো টার্মিনাল। এখানে সাধারণত খোলা ও ভারী পণ্য লোহা, সিমেন্ট, সার এবং কনটেইনার দুই-ই খালাস করা হয়। এটি সম্পূর্ণ কনটেইনারবাহী জাহাজের জন্য বিশেষায়িত টার্মিনাল।

চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল: বন্দরের মোট কনটেইনার স্থানান্তরের প্রায় ১৬ শতাংশ এককভাবে এই টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য এখানে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল: জাহাজ থেকে সরাসরি পণ্যবহনযোগ্য কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য ২০০৭ সালে এটি নির্মিত হয়। এটি সুপার স্ট্রাকচারসমৃদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে যে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল চালু রয়েছে, তার মধ্যে ৯৫০ মিটারের লম্বা সবচেয়ে বড় টার্মিনাল এটি।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল: কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে অবস্থিত নতুন এবং আধুনিক টার্মিনাল এটি, যা বন্দরের ধারণক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে। এই টার্মিনালে পূর্ণাঙ্গ গেটওয়ে ভেসেল অপারেশন শুরু করেছে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল। সমুদ্রের তীরে এই মেগা টার্মিনাল নির্মিত হওয়ায় বড় জাহাজগুলো জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর না করেই সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে।

এক দেশের তিন প্রেসিডেন্ট, ব্যতিক্রমী শাসনব্যবস্থা

২০২৬ সালের রেকর্ড ও জাহাজের জিরো ওয়েটিং টাইম
চলিত বছরে আন্তর্জাতিক শিপিং রিপোর্টের তথ্য অনুসারে, চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলো কনটেইনারবহনযোগ্য জাহাজগুলো নোঙর করার পর দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা কমিয়ে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’-এ নিয়ে এসেছে। ফলে জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে, যা বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরে সম্পন্ন হয়, তাই এই বন্দর শুধু প্রতিবছর ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়-ই করে না, বরং দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও অবদান রাখতে পারছে। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজনির্মাণ, বস্ত্র ও রাসায়নিক শিল্প, যেগুলো পণ্য রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও ভুটান এটিকে ট্রানজিট বন্দর হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছে। এই দেশগুলোকে বন্দরটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্বও আসে, যা সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বন্দরটি মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮টি ইইউ কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ টন কার্গো প্রক্রিয়াজাত করেছে, যা ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে নির্দেশ করে। এ ছাড়া জাহাজ স্থানান্তরের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৬-এ দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ আর্থিক সূচকেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের অবদান রাখছেন। কনটেইনার জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনের মধ্যে নিয়ে আসার ফলে, জাহাজের অপেক্ষাকালীন সময় প্রায় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে; যা শিপিং কোম্পানিগুলোর পরিচালনা ব্যয় কমিয়েছে এবং বন্দরের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়িয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে বন্দরে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয় ৬ হাজার ৬২৯ দশমিক ১৭ কোটি টাকা এবং রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ৪ হাজার ৩৫৫ দশমিক ২১ কোটি টাকা। বর্তমানে সরকারকে ৯৬০ দশমিক ৪ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছে। কর-পরবর্তী রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৩ হাজার ৩৯৫ দশমিক ১৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা বন্দরের আর্থিক সক্ষমতায় একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।

বন্ধু, কক্সবাজার বন্ধুসভা এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, গ্লোবাল অনবিক রিসার্চ হাব

Read full story at source