–কিছু লেখেন ভাই!

· Prothom Alo

রস+আলোর বিভাগীয় সম্পাদক হওয়ার পর থেকে ঝামেলায় আছি। ফ্যামিলি থেকে বন্ধুবান্ধব, পরিচিত সবার ধারণা, দেশের যেকোনো সমস্যায় আমাকে কিছু না কিছু বলতে হবে। তাহলেই সমাধান হবে। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আমার কথায় কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। বরং আমি কিছু বললে, সমস্যা বাড়ে। লোকজন ‘মাইন্ড’ খায়। 

কেউ আমার কথা বিশ্বাস করে না। সবাই মনে করে, আমি ভয়ে লিখি না। আমি দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে ভাবি, ঘরের মানুষই আমার কথা বিশ্বাস করে না, বাইরের মানুষ কীভাবে করবে!

Visit turconews.click for more information.

সেদিন এক ছোট ভাই বলল, কারেন্টের যে এত বিল আসতেছে, এই নিয়ে কর্তৃপক্ষকে ধুয়ে দিয়ে কিছু লেখেন ভাই।

আমি বললাম, তুমি মজা করে কিছু লেখো। রস+আলোতে ভালো কার্টুন দিয়ে ছাপিয়ে দেব। তোমার নামটাও বড় করে দেব। লোকজন একনামে তোমাকে চিনবে।

ছোট ভাই আমার অফার প্রত্যাখ্যান করল। গম্ভীর মুখে বলল, আপনাকে আপন ভাইয়ের মতো মনে করছিলাম। আমাকে জেলে ঢোকানোর এমন বুদ্ধি আপনি দিতে পারলেন?

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মমতাদি অবলম্বনে মমতাদি দ্য কুইন

সে যাহোক, আমি নিজেই এই ভুতুড়ে কারেন্ট বিলের ভুক্তভোগী। এই নিয়ে প্রতিবাদী লেখা অনেকেই লিখছে। তাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ভাবলাম, ‘অভিযোগ’ করে দেখি একবার। সেদিন কারেন্টের অফিস থেকে এক দল লোক এসেছে। নিচে তারা গভীর মনোযোগ দিয়ে মিটার দেখছে। এত মনোযোগ কেউ তার প্রথম প্রেমেও দেয় না। আমি ভদ্রলোকের মতো অভিযোগ জানাতে গেলাম। ওই দলের একজন এলাকারই, চেনে আমাকে। আমি আর কী অভিযোগ করব, বেচারা আমাকেই উল্টা অভিযোগ জানিয়ে বলল, ভাই, আপনের তো চার গুণ বেশি বিল আসছে, আমার সম্বন্ধীর বাসায় আসছে ছয় গুণ বেশি। এই সব নিয়ে কিছু লেখেন ভাই, এইভাবে তো চলা যায় না…

না, যা বোঝার বুঝে গেছি আমি। চাকরিটা ছেড়েই দিতে হবে।

—বি.স. 

Read full story at source