ইনফান্তিনোকে সরাতে ফিফাকে ‘অচল’ করার ছক বিরোধীদের
· Prothom Alo

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতি পদ থেকে সরাতে জোট গঠন করেছে ফুটবলের প্রভাবশালী কয়েকটি কনফেডারেশন। তাদের দাবি, ইনফান্তিনো স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়লে তাঁকে কার্যত অচল করে দিতে ফিফার কার্যক্রম বর্জন থেকে শুরু করে বিকল্প আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন পর্যন্ত নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Visit h-doctor.club for more information.
ইনফান্তিনো সম্প্রতি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন। তীব্র সমালোচনায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর পদত্যাগের চাপ বেড়েছে। এখন তিনি পুরোনো মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নেতারা ইনফান্তিনোকে সরাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আগামী মার্চে তিনি যদি চতুর্থ মেয়াদের জন্য আবারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাঁকে ঠেকাতে বিভিন্ন কৌশল এরই মধ্যে ঠিক করা হয়েছে।
গদি বাঁচাতে ট্রাম্পের সাহায্য চান ইনফান্তিনো, হোয়াইট হাউসের অস্বীকারইনফান্তিনোর বিরোধীরা ‘গভর্ন্যান্স বয়কট’ বা প্রশাসনিকভাবে বর্জনের পরিকল্পনাও করেছে। এর আওতায় তারা ফিফা কাউন্সিল ও বিভিন্ন কমিটির বৈঠকে অংশ নেবে না এবং ফিফার সিদ্ধান্ত অনুমোদনেও অস্বীকৃতি জানাবে। প্রয়োজন হলে তারা বিকল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতেও প্রস্তুত। জানা গেছে, ২০১৭ সালে উয়েফা একটি বৈশ্বিক নেশনস লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা তৈরি করেছিল, যা এত দিন বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ফিফার ২১১ সদস্যদেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫টি দেশ ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর তাঁর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (বাঁয়ে) ও উয়েফা সেফেরিনবিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ‘দ্য টাইমস’-কে বলেছে, ‘সবাই একমত যে তাঁর সরে যাওয়া উচিত। তিনি যদি না যান, তাহলে তাঁকে সরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিষয়টিও এর মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার বড় দলগুলো কি ফ্রান্স বা স্পেনের বিপক্ষে খেলতে চাইবে, নাকি লেবানন কিংবা জিবুতির বিপক্ষে?’
প্রয়োজনে ফিফা কাউন্সিলের জরুরি সভা ডাকার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে। কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এতে সম্মত হলে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হবে। এরই মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোর প্রতি আগের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে কিংবা প্রত্যাহারের পথে। এর মধ্যে রয়েছে দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ), ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলস, সার্বিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং সুইডিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত জুনের শেষ দিকে ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থনপত্র পাঠালেও এখন তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, বিশ্ব ফুটবল যেন স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য ফিফার নেতৃত্ব ও সুশাসন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর পর্যালোচনা প্রয়োজন।
ইনফান্তিনো যেভাবে ক্ষমতা হারাতে পারেন, তাঁর রক্ষাকবচ কীওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের জন্য ফিফা সভাপতি পদে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, ‘সুশাসন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক, যোগাযোগ ও বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে ইনফান্তিনোর প্রতি আমাদের আস্থা আর নেই। ফুটবলের সর্বোচ্চ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হওয়া এমন একটি বিষয়, যা আমরা মেনে নিতে পারি না।’
ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ইনফান্তিনোকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবীদের মাধ্যমে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস (এফএফই)’ পরিকল্পনা নিয়ে আইনি ব্যবস্থা, সালিসি কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ পরিকল্পনা-সংক্রান্ত সব নথি, ই-মেইল এবং সংরক্ষিত তথ্য অবিলম্বে সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো অভ্যন্তরীণ নথি সংরক্ষণ নীতি বা নিয়মিত তথ্য মুছে ফেলার প্রক্রিয়ার অজুহাতে এসব তথ্য ধ্বংস করা যাবে না।