ইরানের সঙ্গে আজ আবার আলোচনা শুরু হচ্ছে, জানালেন ট্রাম্প

· Prothom Alo

ইরান যুদ্ধ অবসানে আজ সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ছয় মাসে গড়িয়েছে। গত জুনে যুদ্ধবিরতি হলেও পরে তা ভেস্তে যায় এবং দুই দেশ আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে।

Visit rouesnews.click for more information.

গত শুক্রবার ইরানের ওপর নতুন করে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। পরদিন শনিবার ওই হামলা পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর কথা জানান।

গতকাল রোববার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি আলোচনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি নতুন নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

যদিও গতকাল প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা এই কৌশলগত জলপথে এখনো বিদ্যমান অস্থিরতার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

ট্রাম্প নতুন আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার পর আজ সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে যায়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭২ ডলারে নেমে আসে।

ট্রাম্প নতুন আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার পর আজ সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে যায়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭২ ডলারে নেমে এসেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আগ্রাসন চালায়। সেদিন থেকেই আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে এ যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলতে থাকে। ফলে ছয় মাসের এই যুদ্ধে কয়েক দিনের যুদ্ধবিরতিও এসেছে।

গত মাসে আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলে যুদ্ধ আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তার মধ্যেই ট্রাম্প নতুন করে ব্যাপক হামলার হুমকি দিলে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ‘ছাই করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দেয়। এ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল।

ইরানের গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার করে বলেছে, তেহরান তাঁকে হামলা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কোনো অনুরোধ জানায়নি।

গত শনিবার ট্রাম্প ওই হুমকি থেকে সরে এসে বলেন, দ্রুত একটি চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক কাঠামো বা রূপরেখা এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে।

গতকাল এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছি। আগামীকাল (সোমবার) বিকেল থেকে আলোচনা শুরু হবে।’

তবে কোথায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইরান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাঁকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল।

ট্রাম্পের দাবি, হামলাটি চালানো হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আক্রমণ হতো।

ইরানের গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, তেহরান তাঁকে হামলা থেকে বিরত থাকার কোনো অনুরোধ জানায়নি।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ও আইনপ্রণেতা হাসান ঘাশঘাভি গতকাল বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন।

ওই সমঝোতাটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হিসেবে নয়; বরং একটি বিস্তৃত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পথ সুগম করার মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে করা হয়েছিল। তবে এতে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত কিছু বিধানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ঘাশঘাভি বলেন, ‘তারা জানে কোনটা মূল বিষয়, কিংবা প্রকৃত অর্থে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। তাই হ্যাঁ, এ বিষয়ে মতবিনিময় চলছে।’

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের এমনভাবে চেষ্টা করতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষকে তারা যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে বাধ্য করা যায়।’

দ্রুত চুক্তির আশায় ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ওমানের কী চুক্তি হয়েছে

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজের অবাধ চলাচল ছিল। তবে যুদ্ধের সময় ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয় এবং বর্তমানে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ও জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায়ের ওপর জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করছে।

এই বিরোধই গত মাসে আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরুর অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। কারণ, তেহরান ইরানের উপকূলঘেঁষা পথ ছাড়া অন্য কোনো নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে অবস্থিত ওমানের সঙ্গে প্রণালিটি দিয়ে নতুন নৌপথ চালুর বিষয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে।

ইরানে আজ বা আগামীকালের মধ্যে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

বাঘাই আরও বলেন, ‘এখন আমরা এমন একটি নৌপথ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছি, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে—এটি উত্তর দিকের পথ হবে না, আবার দক্ষিণ দিকের পথও হবে না। বরং এটি এমন একটি পথ হবে, যা উভয় পক্ষের সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান করবে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখবে।’

তবে এ ধরনের কোনো সমঝোতার অর্থ এই নয়, প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে—জোর দিয়ে বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।

সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ গত শুক্রবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে অন্যান্য দেশের জ্বালানিক্ষেত্র ভস্ম করে দেওয়ার হুমকি ইরানের

Read full story at source