জামায়াতের এমপি ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে বিরোধে জড়ান, পরে বাসভবনে এলাকাবাসীর হামলা
· Prothom Alo

রাস্তা নিয়ে যশোর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে বিরোধে জড়ানোর পর এলাকাবাসী তাঁদের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
Visit newsbetsport.bond for more information.
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও এমপি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ফেসবুক লাইভে এসে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানোর পাশাপাশি ক্ষমা চেয়ে মিলেমিশে থাকতে চেয়েছেন।
গোলাম রসুল যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির। তাঁর বাসভবন যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদ আছে। ওই মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরোধ চলছিল। এমপির মেয়ে অনন্যা গতকাল সোমবার মাদ্রাসার কয়েক শিক্ষার্থীকে ভয়–ভীতি দেখান। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়।
কয়েকজন বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আজ মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রেক্সোনা নামের স্থানীয় এক নারীর মাথা ফাটিয়ে দেন অনন্যা। তিনি পরে নাসির উদ্দিন নামে এক অভিভাবকের ওপর চড়াও হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংসদ সদস্য ও তাঁর মেয়ে বাসভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নিজেদের অবরুদ্ধ করেন।
কয়েকজন বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এমপি গোলাম রসুল তাঁর মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে বলেন, ভারতের হায়দরাবাদ ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করানো হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, গতকাল বাড়ির সামনের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংসদ সদস্যের মেয়ের বিরোধ হয়। ওই বিরোধের সূত্র ধরে আজ আবার এলাকাবাসীর সঙ্গে সংসদ সদস্যের মেয়ের ঝামেলা হয়। এরপর এলাকাবাসী তাঁদের বিচারের দাবিতে ওই বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন এলাকাবাসীএমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য গোলাম রাসুল ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ আছে। রাস্তাটি তাঁদের টাকা দিয়ে কেনা। সেটি সব সময় সচল রাখতে হবে। এটা নিয়ে তাঁর মেয়ের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও হুজুরদের কথা–কাটাকাটি হয়। তিনি বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আমি মর্মাহত। এই ভুলের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই।’
মাসুম খান, ওসি, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ সংসদ সদস্য ও তাঁর পরিবারকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলেছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নাই।এমপি গোলাম রসুল তাঁর মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে বলেন, ভারতের হায়দরাবাদ ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করানো হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ভীত, সন্ত্রস্ত। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। গানপাউডার এনে রেখেছে। যেকোনো সময় আমার বাড়িতে আগুন দেওয়া হতে পারে।’
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেন, ‘পুলিশ সংসদ সদস্য ও তাঁর পরিবারকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলেছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নাই।’