দেশে শুরু হলো হৃদ্‌রোগ–পরবর্তী পুনর্বাসনে বৈশ্বিক গবেষণা

· Prothom Alo

হৃদ্‌রোগ (কার্ডিওভাসকুলার রোগ) এখনো বিশ্বজুড়ে মৃত্যু ও অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক দেশে কার্ডিয়াক পুনর্বাসন সেবায় পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব রয়েছে। তাতে লাখ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার পর রোগীদের নিয়মিত পুনর্বাসন এবং বিষণ্নতা বা উদ্বেগের মতো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো সবার নাগালের মধ্যে নয়। এ বাস্তবতায় হৃদ্‌রোগ পরবর্তী পুনর্বাসন আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও কার্যকর করতে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা কর্মসূচি ‘অ্যাফোর্ডেবল কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন: অ্যান আউটরিচ ইন্টার ডিসিপ্লিনারি স্ট্র্যাটেজিক স্টাডি’, সংক্ষেপে অ্যাক্রস।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

আজ বুধবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের (বিইউএইচএস) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অ্যাক্রস শিরোনামে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পরিচালিত পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণার লক্ষ্য হলো হৃদ্‌রোগের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকেও সমন্বিতভাবে পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় আনা। গত বছরের ১ জুলাই থেকে গবেষণার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়। গবেষণাটি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চের (এনআইএইচআর) অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।

কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো ও ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার। বাংলাদেশে এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস)। এ কাজে সহযোগিতা করছে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হন। এ বাস্তবতায় রোগী, পরিচর্যাকারী, স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী, সাশ্রয়ী এবং ঘরে বসে গ্রহণযোগ্য একটি কার্ডিয়াক পুনর্বাসন মডেল তৈরি করবে অ্যাক্রস। একই সঙ্গে হৃদ্‌রোগের পাশাপাশি উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মতো মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যার সমন্বিত সেবার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অ্যাক্রস কর্মসূচির সহ-নেতা ও ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোর অধ্যাপক রড টেইলর বলেন, হৃদ্‌রোগ এখনো বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং অক্ষমতার অন্যতম বড় উৎস। দক্ষিণ এশিয়া এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী পুনর্বাসনসেবা নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব লিভিং অ্যান্ড লার্নিংয়ের অধ্যাপক ও অ্যাক্রসের সহ-নেতা ইমরান চৌধুরী বলেন, এ কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা-পেশাজীবীরা। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়বে এবং কার্ডিয়াক ও মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসনে টেকসই সুফল পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের উপাচার্য অধ্যাপক জে এম এ হান্নান বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত এ গবেষণা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণভিত্তিক তথ্য তৈরি করবে। এসব তথ্য নীতিনির্ধারণ ও বাস্তব প্রয়োগে সহায়ক হবে। দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ ব্যবস্থাপনায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও জোরদার করবে।

Read full story at source