একজনের ভিসায় আরেকজনকে ইতালি পাঠানো: গ্রেপ্তার ৭ আসামির দুজন রিমান্ডে, কারাগারে ৫
· Prothom Alo
একজনের ভিসায় অন্যজনকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে দুজনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্য পাঁচজনের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
Visit mchezo.life for more information.
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্ত বেলায়েত ও নাজমুলের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর আসামি মেহেদী হাসান, কাওসার হোসেন, মো. সোলাইমান সুমন, মো. তৌহিদুর রহমান ও ফজলে রাব্বীর জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তনুনন্দন রুরাম আজ আদালতে সাত আসামিকে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন।
মামলার এজাহারের তথ্যানুযায়ী, ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তারের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় ধরে পাসপোর্ট জমা থাকায় মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে দূতাবাস থেকে তা নবায়নের জন্য বলা হয়। নবায়নের জন্য দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গেলে আসামি নাজমুল হাসানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দিতে সক্ষম ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে তাঁকে গুলশান-১ এলাকার একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন। চুক্তিতে ভিসা হওয়ার পর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। ভিসা হওয়ার পর ওই নারী দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করলে নাজমুল তাঁর কাছ থেকে চুক্তির টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি তাঁর পাসপোর্ট নিয়ে নেন। পাসপোর্ট ফেরত পেতে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ও ১১ মে দুই দফায় ওই নারী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা দেন। টাকা পাওয়ার পর তাঁকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরে গিয়ে নারী জানতে পারেন, তাঁর ভিসায় আরেকজন ইতালি চলে গেছেনরিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ভিসা পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী তাঁদের জন্য বিমানের টিকিট কাটেন। নির্ধারিত দিনে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে গেলে কর্মকর্তারা জানান, তাঁর পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে গত ২৪ এপ্রিলই অন্য আরেক নারী ইতালি চলে গেছেন। এ ঘটনার পর তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ তদন্তের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার গুলশান-১ নম্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ গুলশান থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার। এরপর আসামিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সিআইডি জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, ৩টি সিপিইউ, ১টি ল্যাপটপ, ১টি এম্বোস সিল এবং আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।