সংস্কৃতিচর্চা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: ‘সৃজন’-এর পাঠচক্রে বক্তাদের বক্তব্য
· Prothom Alo

একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নকল্পে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঠিক সমন্বয় ও বিকাশ প্রয়োজন। শিক্ষা ও সংস্কৃতির সুসমন্বয় ছাড়া একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে উন্নত করতে পারে না, যদি না এর পাশাপাশি মানুষের চিন্তাচেতনা পরিশীলিত, উদার ও মানবিক হয়ে ওঠে। আর এই মানবিক সমাজ গঠনের জন্য সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
সম্প্রতি ৩ জুলাই বাংলাদেশের বাংলা একাডেমিতে শিল্প-সাহিত্যের ঐতিহ্যবাহী অন্যতম সংগঠন ‘সৃজন’ আয়োজিত এক প্রাণবন্ত পাঠচক্রে বিশিষ্ট আলোচকেরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
Visit newsbetting.club for more information.
প্রথম পর্ব: গ্রন্থ আলোচনা ও সংস্কৃতির সংকট
পাঠচক্রের প্রথম পর্বে প্রাবন্ধিক ও বিতার্কিক রাজীব সরকারের সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক কুদরত-ই-হুদা এবং নূর-ই আলম সিদ্দিকী।
নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সুকুমার বৃত্তির চর্চার অভাব মানুষকে সৃজনশীলতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর ফলে সমাজে বিচ্ছিন্নতা ও সুযোগসন্ধানী মনোভাব বাড়ে, যা সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে স্তিমিত করে দেয়। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ বই পড়া ও নিয়মিত সংস্কৃতিচর্চা।’
কুদরত-ই-হুদা লেখকের কাজের প্রশংসা করে বলেন, এই পাঠবিমুখ সময়েও লেখকের নিরবচ্ছিন্ন সংস্কৃতিচর্চা ও গবেষণাধর্মী কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রন্থটিতে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এ অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রভাবশালী রূপ ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
লেখক রাজীব সরকার আলোচনা শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, মানুষের চিন্তাচেতনা পরিশীলিত না হলে যেকোনো উন্নয়নই অর্থহীন হয়ে পড়ে। তিনি একই সঙ্গে রাজধানীর বাইরে তৃণমূল পর্যায়েও সংস্কৃতিচর্চাকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
দ্বিতীয় পর্ব: মা দিবসের গল্প প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
পাঠচক্রের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সৃজন আয়োজিত ‘মা দিবস গল্প প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সেই আয়োজনে বিজয়ী হয়েছেন যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন কাজী আজমিরী, আল মামুন তালুকদার ও ফারহানা আশা।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্ব: একক কবিতা পাঠ ও মূল্যায়ন
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কবি সফিকুল ইসলাম তাঁর স্বরচিত সাতটি কবিতা এককভাবে পাঠ করে শোনান। তাঁর এই কবিতাগুলোর ওপর বিশদ আলোচনা করেন দেশের প্রথিতযশা কবি ও সমালোচকেরা।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]