দুর্যোগ–দুর্ভোগ: ক্রমবর্ধমান বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমাধান কোন পথে
· Prothom Alo
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কারণ বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা ও জলাবদ্ধতার জন্য কিছুটা দায়ী হলেও মূল কারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেনে চলা বিভিন্ন ভ্রান্ত নীতি। প্রায় ৭০ বছর ধরে বাংলাদেশ এই নীতি অনুসরণ করছে। ফলে আশ্চর্যের নয় যে এখন এগুলোর পুঞ্জীভূত প্রতিফল প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমাধান নিয়ে লিখেছেন নজরুল ইসলাম।
Visit newsbetsport.bond for more information.
বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ভাসছে দেশ। কোথাও কোথাও এই দুই সমস্যা মিলেমিশে একাকার হয়েছে। সমস্যা সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলায়। তার মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। বিশেষভাবে আক্রান্ত হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ এলাকা। এসব এলাকার দুর্ভোগ বর্ণনাতীত। বহুল প্রচারিত ঢাকা-কক্সবাজার লাইনের ট্রেন পানিবন্দী হয়ে আটকে পড়েছিল। বৃহত্তর সিলেটেও ব্যাপক বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার সমস্যা দেখে দিয়েছে।
নিঃসন্দেহে আশুকরণীয় হলো দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁদের জীবন রক্ষাকরা; পানি না নামা পর্যন্ত টিকে থাকার ব্যবস্থা করা এবং পানি নামার পর পুনর্বাসনে সহায়তা করতে হবে। পাশাপাশি কিছু দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাও করা দরকার। কেন বাংলাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে? কীভাবে বাংলাদেশ এই দুই সমস্যা থেকে প্রতিকার পেতে পারে?
এই প্রশ্নগুলো নিয়ে জাতীয় ভিত্তিতে গভীরভাবে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। সে আলোচনার সূত্রপাত করাই এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য।
বৈশ্বিক কারণগুলো
ক্রমবর্ধমান বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণগুলোকে মোটাদাগে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে—বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ। বৈশ্বিক কারণের মধ্যে মূল হলো জলবায়ু পরিবর্তন। এর ফলে একদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে; জোয়ারের পানি আরও ভেতরে প্রবেশ করছে; ফলে নদীর পানি সমুদ্রে চলে যাওয়ার পরিবর্তে দুই কূল প্লাবিত করছে।
বাংলাদেশের উপকূলজুড়েই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে; তবে পূর্ব উপকূলে এর হার বেশি। যেমন পশ্চিম সুন্দরবন উপকূলে ১৯৮৫-১৯৯৮ সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের বার্ষিক উচ্চতা বৃদ্ধি ৩ দশমিক ২৪ মিলিমিটার হলেও কক্সবাজারে ১৯৭৮-১৯৯৮ সময়কালের জন্য এর পরিমাণ ছিল বার্ষিক ৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার।
জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বিতীয় অভিঘাত হলো বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ঋতুভেদ বৃদ্ধি। গবেষণা দেখায় যে ১৯৪৮ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বার্ষিক গড়ে ৩ দশমিক ৯৬ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। তবে এর মধ্যে বর্ষাকালে বাড়ার পরিমাণ ছিল ২ দশমিক শূন্য ৫ মিলিমিটার।
পক্ষান্তরে শীতকালে তা ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২ মিলিমিটার। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ামূলক ঘটনার সংখ্যা ও প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে অসময়ে কিংবা স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং ঘূর্ণিঝড়ের আপতন এবং ব্যাপ্তি বৃদ্ধি।
এসব বৈশ্বিক কারণ প্রশমনে বাংলাদেশের খুব বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। তবে অভিযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগুলোর অভিঘাত প্রশমিত করতে পারে। কীভাবে সম্ভব, সে বিষয়ে আমরা পরে আসছি।
তলিয়ে গেছে সাতকানিয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেঅভ্যন্তরীণ কারণ
বাংলাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধির বড় কারণ হলো দেশের অভ্যন্তরে মেনে চলা ভুল নীতি। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে বিদেশি ঋণদানকারী সংস্থা এবং পরামর্শকেরা বাংলাদেশের ওপর নদ-নদীর প্রতি ‘বেষ্টনী পন্থা’ চাপিয়ে দেয়। এ পন্থার মর্ম হলো বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে প্লাবন এবং জোয়ারভূমিকে নদী খাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।
বিদেশি পরামর্শকেরা ভেবেছিলেন যে এর ফলে এসব ভূমি প্লাবনমুক্ত হবে, ফলে সেখানে বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। কিন্তু বেষ্টনী পন্থা বিদেশি পরামর্শকদের স্বল্প এবং ঋতুভেদহীন বৃষ্টিপাতসম্পন্ন দেশের জন্য উপযোগী হলেও বাংলাদেশের মতো অতি এবং চরম ঋতুভেদসম্পন্ন বৃষ্টিপাতের দেশের জন্য তা সম্পূর্ণই অনুপযোগী।
দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকেরা বিদেশি পরামর্শক ও সংস্থাগুলোর এই ক্ষতিকর পরামর্শ মেনে নেয়; এই পরামর্শের ভিত্তিতে প্রণীত পানি উন্নয়নের ‘মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করে। সারা দেশে বেড়িবাঁধ এবং পোল্ডার নির্মাণের হিড়িক পড়ে যায়। শুধু উপকূলেই প্রায় ৫ হাজার মাইলের বেশি দৈর্ঘ্যের বেড়িবাঁধের মাধ্যমে প্রায় ১৪০টি পোল্ডার নির্মিত হয়। দেশের অভ্যন্তরেও শত শত পোল্ডার নির্মিত হয়।
এটা করতে গিয়ে পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভুলে যায় যে বেড়িবাঁধ নদীর পানি ভেতরে আসা বন্ধ করলেও একই সঙ্গে তা পোল্ডারের ভেতরে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নদীতে চলে যাওয়াকেও বাধাগ্রস্ত করবে এবং তাঁর ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। বেড়িবাঁধের আগে বাংলাদেশে জলাবদ্ধতা বলে কিছু ছিল না। প্লাবন ও জোয়ারভূমিগুলো নদীর জন্য উন্মুক্ত ছিল। বর্ষাকালে নদীর পানি আসত; আবার বর্ষা শেষ হলে তা নদীতে চলে যেত। রেখে যেত নবায়িত জলাশয় এবং পলি, যা জমির উর্বর ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি করত।
পার্বত্য ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা কী বার্তা দিলএটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য উপযোগী ‘উন্মুক্ত পন্থা’। প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগের ফলে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে পানির উচ্চতা বেশি হতো না। ফলে বন্যাও কম হতো। এই উন্মুক্ত পন্থা পরিত্যাগ করে বেষ্টনী পন্থার অবলম্বনই হলো বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার মূল কারণ।
উদাহরণস্বরূপ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, টঙ্গী খাল, বালু (কিংবা শীতলক্ষ্যা) দ্বারা পরিবেষ্টিত ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার কোনো প্রকৃতিসৃষ্ট কারণ নেই। কিন্তু ১৯৮৮ সালের বন্যার পর এরশাদ সরকার তড়িঘড়ি করে ‘বৃহত্তর ঢাকা পশ্চিম তীর বাঁধ’ নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা শহরকে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আগে বুড়িগঙ্গা নদী ধানমন্ডি লেক এবং হাতিরঝিলের মাধ্যমে বালু নদের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।
এখন এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন। যে প্রায় ৫০টি খালের মাধ্যমে ঢাকা শহর এসব নদ–নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, সেগুলো প্রায় সবই মৃত অথবা মুমূর্ষু। বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির চাপে এবং তাদের পয়োনিষ্কাশনের ভার বহন করে বালু নদের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে।
বান্দরবানে বন্যার পানিশুধু বেড়িবাঁধ নয়। এর সঙ্গে অনুষঙ্গী হয়েছে নদ–নদীর ওপর যত্রতত্র স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট, রেগুলেটর ইত্যাদি নির্মাণ। এগুলোর ফলেও নদীর পানি বাধাগ্রস্ত হয় এবং দুপাশে বন্যা দেখা দেয়। এ কারণে প্রায় সর্বত্র সাধারণ মানুষ এসব স্লুইসগেট ভেঙে দিতে চায়। বেশির ভাগে ক্ষেত্রে পাউবো কর্তৃপক্ষ এবং কোথাও কোথাও চিংড়ি ব্যবসায়ীরা তাতে বাধা দেন, যার ফলে পানি সরতে পারে না। ১৩ জুলাই প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চকরিয়া শাখার সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো এমনটাই অভিযোগ করেছেন সেখানকার এক স্লুইসগেট সম্পর্কে।
প্লাবনভূমিতে বাড়িঘর ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল, যাতে নদীর পানির অবাধ চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে। সে জন্য প্লাবনভূমিতে মাটি উঁচু না করে পিলারের ওপর সড়ক নির্মাণের সাধারণ নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। প্লাবনভূমিতে তো বটেই, এমনকি বিলে এবং হাওরের মধ্যেও মাটি উঁচু করে মহাসড়ক নির্মিত হয়েছে। এটা কি কাকতালীয় যে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এবং রেললাইন নির্মাণের পর এ এলাকায় ঘন ঘন বন্যা এবং জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে?
তিন পার্বত্য জেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার খবর নিতান্তই বিয়োগান্ত ঘটনা। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত শহরে বন্যা কিংবা জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার কথা নয়। তবে বেষ্টনী পন্থার এমনই ‘মাহাত্ম্য’ যে তা বন্যা ও জলাবদ্ধতাকে পাহাড়ের ওপরেও নিয়ে যেতে পারে। কারণ, এসব শহরেও ভবন, কাঠামো ও সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে চলে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখার প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয়নি।
এর সঙ্গে আরও কাজ করেছে পাহাড়ি এলাকার প্রতি অন্যান্য কিছু ক্ষতিকর নীতির প্রয়োগ। একটি হলো নিরাপত্তার যুক্তিতে সেখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সমতলের লোকজনের অভিবাসন এবং তাদের কর্তৃক পাহাড়ের জন্য অনুপযোগী বসতি নির্মাণ এবং কৃষির প্রবর্তন। দ্বিতীয় হলো, পাহাড়ের গা অনাবৃত করে বিভিন্ন প্লানটেশন কৃষির বিস্তার। এর ফলে পাহাড়ের মাটি উদ্বেগজনক হারে আশপাশে নদীর তলদেশ ভরাট করেছে এবং এসব নদীর পানি উপচে তীরবর্তী শহরে প্রবেশ করছে। ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা উভয়ই দেখা দিয়েছে।
কী করা প্রয়োজন
সুতরাং বৈশ্বিক কারণ ( যেমন জলবায়ু পরিবর্তন) এবং আঞ্চলিক কারণ ( যেমন ভারত কর্তৃক হঠাৎ করে বাঁধ দ্বারা সঞ্চিত পানি ছেড়ে দেওয়া) বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা ও জলাবদ্ধতার জন্য কিছুটা দায়ী হলেও মূল কারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুসৃত বিভিন্ন ভ্রান্ত নীতি। তাঁর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নদ–নদীর প্রতি বেষ্টনী পন্থার অনুসরণ। প্রায় ৭০ বছর ধরে বাংলাদেশ এই নীতি অনুসরণ করছে। ফলে আশ্চর্যের নয় যে এখন এগুলোর পুঞ্জীভূত প্রতিফল প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে।
এখন যেটা সবার আগে প্রয়োজন, তা হলো বাংলাদেশের জন্য বেষ্টনী পন্থার অনুপযোগিতা স্বীকার করে উন্মুক্ত পন্থাকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করা। শুধু পানি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, প্লাবনভূমিতে গৃহীতব্য সব নির্মাণকাজকে এই নীতির ভিত্তিতে মূল্যায়িত হতে হবে।
এই সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের ঘোষণা দিয়েছে। প্রথমে ঢাকা শহরের খালগুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই লক্ষ্য দ্রুত অর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যেতে পারে। এটা হবে প্রথম ধাপ।
দ্বিতীয় ধাপে সব সড়কের পানি যাতে এসব খালে পৌঁছাতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয় ধাপে ঢাকার পশ্চিম তীর বাঁধের সঙ্গে এসব খালের সংযোগ উন্মুক্ত করতে হবে, যাতে খালের পানি অবাধে নদীতে পৌঁছাতে পারে। তুরাগ, টঙ্গী খাল, বালু এবং শীতলক্ষ্যা নদীর দিকে প্রবাহিত খালগুলোর জন্যও একই ধরনের তিন ধাপবিশিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের খালের নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করা গেলে সেগুলোতে বর্ষার পানি ধরে রেখে শীতকালের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। ঢাকা শহরের সবুজ রক্ষা এবং তাপমাত্রার চরমভাবাপন্নতা প্রশমনেও তা সহায়ক হবে। ঢাকার এই সফল অভিজ্ঞতা থেকে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য শহর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
দ্বিতীয়ত, সারা দেশে বেষ্টনীগুলোর ভেতরে নদীর পানি যাওয়া-আসার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ভবদহসহ দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমের জলাবদ্ধতা নিরসনের এটাই একমাত্র উপায়।
তৃতীয়ত, প্লাবনভূমিতে মাটি উঁচু করে নির্মিত সড়কগুলো হয় সম্পূর্ণরূপে পিলারের ওপর নির্মাণ করতে হবে কিংবা এগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত সেতু এবং কালভার্ট অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা যায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চট্টগ্রামের মেরিন ড্রাইভ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের ডিজাইন পুনর্নিরীক্ষা করতে হবে। একইভাবে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামসহ হাওর ও বিলের মধ্যে নির্মিত অন্যান্য মহাসড়ক ও সড়কের পুনর্নিরীক্ষণ করতে হবে।
চতুর্থত, উপকূলের পোল্ডারগুলোর বেড়িবাঁধগুলোকে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরিত করতে হবে, যাতে বর্ষাকালের পলিসম্পন্ন পানি এসব পোল্ডারে প্রবেশ করতে পারে এবং পলি পতনের মাধ্যমে পোল্ডারের ভেতরের ভূমি উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তার ফলে এসব এলাকা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিমজ্জনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। প্রশ্ন হলো কায়েমি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সরকার এসব নীতি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না।
নজরুল ইসলাম অধ্যাপক, এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান।
মতামত লেখকের নিজস্ব