রাত দুইটায় স্বামীর গোঙানির শব্দ শুনে বারান্দায় এসে যা দেখলেন স্ত্রী

· Prothom Alo

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে শাহজালাল মিয়া (৫০) নামের এক কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ রোববার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরিবারের অভিযোগ, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে আপন ভাতিজার হাতে খুন হয়েছেন শাহজালাল। ভাতিজাকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল মিয়া গতকাল রাতের খাওয়া শেষে ঘরের বারান্দাসংলগ্ন আলাদা একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁর স্ত্রী পারুল বেগম ভেতরের ঘরে ঘুমান। দিবাগত রাত দুইটার দিকে গোঙানির শব্দ শুনে স্ত্রী পারুল বারান্দার কক্ষে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তাঁর স্বামীকে গলা কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় পালিয়ে যেতে দেখেন ভাতিজা গোলাম হোসেনকে। বিছানার পাশেই পড়ে ছিল ধারালো একটি ছুরি। পারুলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে পুলিশে খবর দেন। এর মধ্যে মারা যান শাহজালাল।

Visit rhodia.club for more information.

নিহত শাহজালালের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী তাঁর আপন ভাতিজা গোলাম হোসেনকে মাদক সেবনে বাধা দিতেন। এতে তাঁর ভাতিজা ক্ষিপ্ত ছিল। এর জেরে গোলাম হোসেন গতকাল গভীর রাতে কৌশলে দরজা খুলে আমার স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করে।’

পানজু মিয়া, নিহত জালাল মিয়ার ছেলেআমার বাবাকে হত্যার আগে বাইরে থেকে প্রতিবেশীদের ঘরের দরজা আটকে দেয় গোলাম হোসেন, যাতে কেউ আসতে না পারে। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবেই আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।নিহত শাহজালাল মিয়ার বাড়িতে পাড়া–প্রতিবেশীদের ভিড়। রোববার সকালে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় কেতকিরহাট এলাকায়

একই রকম ভাষ্য স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। প্রায়ই তিনি তাঁর স্ত্রীকে মারধর করতেন। এতে চাচা শাহজালাল প্রতিবাদ করলে তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হন গোলাম হোসেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান তাঁর স্ত্রী। পরে গোলাম হোসেনও ঢাকায় যান। গতকাল হঠাৎ ঢাকা থেকে এসে তিনি চাচাকে হত্যা করেন।

কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা জানান, কৃষক শাহজালালের ভাতিজা গোলাম হোসেনের সঙ্গে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গতকাল গোলাম হোসেন ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছে না। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

নিহত শাহজালালের ছেলে পানজু মিয়া (২৬) বলেন, ‘আমার বাবাকে হত্যার আগে বাইরে থেকে প্রতিবেশীদের ঘরের দরজা আটকে দেয় গোলাম হোসেন, যাতে কেউ আসতে না পারে। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবেই আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

এ ঘটনায় আজ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নিহত শাহজালালের ভাই আলিম মিয়া বাদী হয়ে ফুলছড়ি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে গোলাম হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ব্যক্তি থাকতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে গোলাম হোসেন পলাতক। তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুরুল হুদা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কী কারণে ও কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর হত্যার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। মামলার আসামি গোলাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Read full story at source