ইরানের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ হুমকির মধ্যে তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা

· Prothom Alo

যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, বর্তমানে সেটা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে আলোচনায় গতি ফেরাতে নানা কূটনৈতিক তৎপরতা নেওয়া হচ্ছে।

Visit grenadier.co.za for more information.

এ তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরানের রাজধানী তেহরানে গেছেন মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিরা। সেখানে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তাঁরা। মূলত চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও বড় পরিসরে আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই তেহরানে তাঁদের এ সফর।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা। সে প্রক্রিয়ায় কাতারও জড়িত ছিল। কিন্তু যুদ্ধ থামেনি। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার পর, সেই সমঝোতা স্মারকের শর্ত কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা নিয়ে ইরানের কর্মকর্তারা সন্দিহান।

নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণ কী, সমঝোতা স্মারক কি টিকবে

সম্প্রতি ইরানের অন্তত পাঁচটি প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলা হয়েছে সামরিক ও বেসামরিক—উভয় অবকাঠামোয়। এসব হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে সমঝোতা স্মারকটি বাতিলের কথা বলেছেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর যুদ্ধ বন্ধে মার্কিনদের উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানের সংশয় আরও জোরালো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান কখনোই ‘আত্মসমর্পণ’ করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। গালিবাফ সতর্ক করে আরও বলেন, ইরান ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, কোনো ধরনের ‘জবরদস্তিমূলক কূটনীতির’ কাছে তেহরান নতিস্বীকার করবে না। এমনকি তাঁদের দাবি, আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো মেনে চলতে হবে।

ইরানে খামেনির দাফনের দিন বিস্ফোরণের দায় নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, তাহলে হামলার জন্য দায়ী কে

বিশেষ করে প্রাথমিক এ চুক্তির ১ ও ৫ নম্বর শর্ত পূরণে জোর দিচ্ছে তেহরান। ১ নম্বর শর্তে বলা আছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। আর ৫ নম্বর শর্ত হলো, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে। এ জলপথ পরিচালনায় ইরানকে সার্বভৌম অধিকার দিতে হবে।

সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর শর্ত মেনে নিজেদের জ্বালানি তেল রপ্তানির অধিকার বুঝে পাওয়ার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে হতাশ যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হওয়া অনেকটাই অনিশ্চিত বলে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরাশক্তির মর্যাদাকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ইরান

জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নে ইরান এখনো সফল হতে পারেনি। কাজেই দেশটি নতুন করে একটি বড় পরিসরের পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাবে, এমন আশা খুবই কম।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি এ নিয়ে হতাশার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, শেষ পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব কি না।’

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি ভূগর্ভে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে দিতে ব্যর্থ হয়, তবে কোনো পারমাণবিক চুক্তি হতে পারে না।

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আবার হরমুজে অচলাবস্থা, কমেছে জাহাজ চলাচল

Read full story at source