স্টারকিড নন, তবু বলিউডে রাজত্ব: এক সাক্ষাৎকারেই জীবনের সব গোপন স্বীকারোক্তি কৃতি শ্যাননের

· Prothom Alo

বলিউডে এমন অনেক তারকা আছেন, যাদের যাত্রা শুরু হয়েছে পারিবারিক পরিচয়ের হাত ধরে। কিন্তু কৃতি শ্যাননের গল্পটা একেবারেই আলাদা। কোনো চলচ্চিত্র পরিবার নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী থেকে নিজের পরিশ্রম, ধৈর্য আর প্রতিভার জোরে আজ তিনি বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী।

এক দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে কৃতি শুধু জনপ্রিয় অভিনেত্রীই নন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রযোজক ও উদ্যোক্তা হিসেবেও। সম্প্রতি ককটেল টু মুক্তির আগে ভারতীয় ম্যাগাজিন ফিল্মফেয়ারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন নিজের অভিনয়, আত্মবিশ্বাস, তুলনা, ব্যর্থতা এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। এবং ম্যাগাজিনটির জুন মাসের প্রচ্ছদ কন্যা হিসেবেও দেখা গিয়েছে কৃতি শ্যাননকে।

Visit mwafrika.life for more information.

ভারোনিকার চরিত্রই বেছে নিতাম

মূল ককটেল ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেলে তিনি দীপিকা পাড়ুকোনের ‘ভারোনিকা’ চরিত্রটিই বেছে নিতেন বলে জানান কৃতি। তার মতে, চরিত্রটিতে ছিল গভীরতা, জটিলতা এবং একাধিক আবেগের স্তর।

তবে ককটেল টু-এ তার ‘অ্যালি’ চরিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বাধীনচেতা, বাঁধনহীন এবং বর্তমান মুহূর্তে বাঁচতে ভালোবাসে অ্যালি—যা বাস্তব জীবনের কৃতির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। নিজেকে বরাবরই বিশ্লেষণধর্মী ও অতিরিক্ত ভাবুক মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

পর্দার সাহসী লুকের পেছনে কার অবদান?

ককটেল টু-এ কৃতির নতুন লুক নিয়ে ইতোমধ্যেই বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই লুক তৈরিতে নিজের কোনো কৃতিত্বই নিতে চান না অভিনেত্রী।

তার ভাষায়, চরিত্রটির পোশাক, চুল, মেকআপ–সবকিছুর পরিকল্পনা করেছেন কস্টিউম ডিজাইনার অনাইতা শ্রফ আদাজানিয়া এবং পুরো টিম। নিজের একমাত্র অবদান ছিল চরিত্রের জন্য শরীরকে আরও ফিট ও টোনড করে তোলা।

দীপিকার সঙ্গে তুলনা নিয়ে কী ভাবেন?

ককটেল ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ হওয়ায় দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে তুলনা হবেই, এটা জানতেন কৃতি। তবে বিষয়টি নিয়ে তার কোনো অস্বস্তি নেই।

বরং তিনি মনে করেন, অ্যালি এবং ভারোনিকা দুই চরিত্রের শক্তি বা ব্যক্তিত্বের কিছু মিল থাকলেও তারা সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ। একই চরিত্র আবার নতুন করে করার কোনো অর্থ নেই বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।

‘আমার প্রতিযোগিতা শুধু নিজের সঙ্গে’

বলিউডে অভিনেত্রীদের মধ্যে তুলনা, বক্স অফিসের হিসাব কিংবা কে এগিয়ে–এসব আলোচনা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না কৃতি।

তার বিশ্বাস, প্রত্যেক শিল্পীর নিজস্ব শক্তি রয়েছে। তাই অন্য কাউকে হারানোর চেয়ে নিজের আগের কাজকে ছাড়িয়ে যাওয়াই তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। প্রতিটি নতুন ছবিতে তিনি চান দর্শক বলুক—এটাই তার এখন পর্যন্ত সেরা অভিনয়।

ব্যর্থতাই শিখিয়েছে সবচেয়ে বড় শিক্ষা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কিংবা ফিল্মফেয়ার জয় কৃতিকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে ঠিকই, তবে তিনি মনে করেন ব্যর্থতাই তাকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষা দিয়েছে।

শুধু বড় প্রজেক্ট বা সম্ভাব্য বক্স অফিস সাফল্যের কথা ভেবে কোনো কাজ বেছে নেওয়া ঠিক নয়। বরং যে গল্প তাকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়, সেই গল্পই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে।

প্রযোজক ও উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন পথচলা

অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের প্রযোজনা সংস্থা এবং স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটছে কৃতির। তার মতে, একজন অভিনেতা হিসেবে ভালো স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়া যতটা সহজ মনে হয়, প্রযোজক হিসেবে ভালো গল্প খুঁজে পাওয়া তার চেয়েও কঠিন। এই অভিজ্ঞতা তাকে লেখক ও চিত্রনাট্যকারদের প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল করেছে।

আত্মবিশ্বাস জন্মগত নয়

আজকের আত্মবিশ্বাসী কৃতিকে দেখে অনেকেই মনে করেন, তিনি সব সময় এমনই ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শৈশবে তিনি ছিলেন ভীষণ লাজুক। স্টেজে উঠতে ভয় পেতেন। প্রতিটি নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে করতেই ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। তার বিশ্বাস, ভয়কে জয় করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সেই ভয়কেই বারবার মোকাবিলা করা।

ভালোবাসা ও সম্পর্ক নিয়ে কৃতির ভাবনা

ব্যক্তিগত জীবনে একদিন সংসার করতে চান কৃতি। তবে সবকিছুরই একটি সঠিক সময় আছে বলে মনে করেন তিনি। তার কাছে একটি সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো সততা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্মান। ভালোবাসা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন একজন মানুষ নিজের সব ভালো-মন্দ দিক নিয়েই অন্যের সামনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন।

নিজের জন্য যে উত্তরাধিকার গড়তে চান

দশ বছর পর মানুষ তাকে কীভাবে মনে রাখবে। এই প্রশ্নের উত্তরে কৃতি বলেন, তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, প্রযোজক ও উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের ছাপ রেখে যেতে চান। তবে সবচেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে তিনি চান, তার গল্প অন্যদের অনুপ্রাণিত করুক। কোনো চলচ্চিত্র পরিবার ছাড়াই যদি তিনি নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন, তাহলে অন্যরাও নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। এই বিশ্বাসই ছড়িয়ে দিতে চান কৃতি শ্যানন।

সূত্র: ফিল্মফেয়ার

ছবি: কৃতি শ্যানন এর ইনস্টাগ্রাম

Read full story at source