আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস ২০২৬- এর প্রতিপাদ্য : আমাদের করণীয়
· Prothom Alo
প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় গত ২৫ জুন ২০২৬ প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৭৮ তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ । ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস । প্রতি বছরের মতো এবারও এই দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এইবারের প্রতিপাদ্য বিষয়টি ছিল — ‘ বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী ফলাফল’। অনুষ্ঠানটি সাক্ষাৎকার আকারে তুলে ধরা হলো।
আপনাকে আমাদের আজকের আয়োজনে স্বাগত জানাচ্ছি।
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
ডা. আহমেদ হেলাল: আপনাকে এবং প্রথম আলোর সকল দর্শককে অনেক ধন্যবাদ। আমার মনে হয় এ বছরের প্রতিপাদ্যটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খুবই বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী ।
প্রতিপাদ্যের প্রথম অংশেই বলা হয়েছে ‘চলমান সংকট এবং নতুন চ্যালেঞ্জ’ । বিশ্বজুড়ে মাদকের এই যে বিস্তার, তা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের প্রাথমিকভাবে কোন কোন বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত এবং আমাদের ঠিক কী করা প্রয়োজন?
ডা. আহমেদ হেলাল: দেখুন, মাদক সমস্যার সমাধানের জন্য আমাদের হাতে কোনো সময় ব্যয় করার সুযোগ নেই । আমাদের খুব দ্রুত বা ‘আর্লি রেসপন্স’ করতে হবে । চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা যেন দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করি, কারণ ‘আর্লি ইন্টারভেনশন বেটার রেজাল্ট’ বা প্রাথমিক পর্যায়ের পদক্ষেপ সবসময়ই চমৎকার ফলাফল দেয় । একই সাথে মাদকের যে বিস্তার, এর পরিবহন, উৎপাদন এবং চোরাচালানি বা স্মাগলিংয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে অত্যন্ত দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, কারণ এখানে প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
আরেকটি বড় বিষয় হলো ‘নতুন চ্যালেঞ্জ’ । আমরা যদি ২০ বছর আগের পুরনো ধ্যান-ধারণা বা তত্ত্বের মধ্যে আটকে থেকে আজকের মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই, তবে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ব। কারণ যারা মাদকের ব্যবসা বা অবৈধ প্রচলন করছে, তারা প্রযুক্তির সাথে সাথে অনেক এগিয়ে গেছে । বর্তমানে মাদকের রুট বা পরিবহনের পথ বদলে গেছে, মাদকের ধরন ও প্রকারভেদ বদলেছে এবং মাদক গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে । নিত্যনতুন রাসায়নিক ও উদ্ভাবনী মাদক বাজারে আসছে, যা আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অত্যন্ত জটিল ও নতুন ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করছে । তাই তাদের চেয়ে আমাদের সবসময় এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে।
মাদক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, চিকিৎসক, অভিভাবক এবং সমাজের সচেতন মানুষ— সবারই কম-বেশি ভূমিকা রয়েছে । কিন্তু আমাদের মূল ভয়টা থাকে মূলত কিশোর বা টিনেজ বয়সের সন্তানদের নিয়ে, যারা এই বয়সে এসে ভালো-মন্দের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলে । এই বয়সের সন্তানদের আত্মবিশ্বাস দিতে এবং সঠিক পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কার ভূমিকা সবচেয়ে স্ট্রং বা শক্তিশালী হওয়া উচিত?
ডা. আহমেদ হেলাল: আমি নিজে একজন শিশু-কিশোর মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ । সেই জায়গা থেকে আমার লেন্স এবং সামান্য অভিজ্ঞতার আলোতে যদি বলি— সমাজে কারো ভূমিকাই কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয় । সরবরাহ কমাতে বা সাপ্লাই রিডাকশনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পলিসি মেকারদের রোল আছে; ক্ষতি কমাতে ‘হার্ম রিডাকশন’ বা চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের রোল আছে; আবার সচেতনতার জন্য শিক্ষকদেরও বড় রোল আছে ।
তবে এই সবকিছুর উপরে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান ভূমিকাটি রাখতে পারে ‘ফলাফলের টার্গেট বা জিপিএ-৫’-এর পেছনে না ছুটে পরিবার যদি শিশুর উজ্জ্বল ও সুষম বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয় । এখানে উজ্জ্বল বিকাশ বলতে কিন্তু আমি পরীক্ষার জিপিএ বা ভালো রেজাল্ট বোঝাচ্ছি না । আমি বোঝাচ্ছি তার সামাজিক দক্ষতার (Social Skills) বিকাশ । যে পরিবারে একটি শিশুর সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক বিকাশ সুন্দরভাবে হয়, সেখানে পরবর্তীতে তার মাদক গ্রহণ করার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই অনেক কমে যায় । পরিবারকে যদি আমরা মানসিকভাবে সক্রিয় ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সচেতন করতে পারি, তবে মাদকাসক্তির এই মরণব্যাধিকে আমরা অনেকখানি প্রতিহত করতে পারব ।
আপনি সুষমভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশের কথা বললেন । কিন্তু বর্তমান সময়ে বাবা-মার মনোযোগও ডিভাইসে, আবার সন্তানের মনোযোগও ডিভাইসে । সন্তান যখন স্ক্রিন স্ক্রল করছে, বাবা-মাও তখন ফোনে ব্যস্ত । এই ডিজিটাল যুগে আমরা কি সন্তানদের সুষম পরিবেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছি?
ডা. আহমেদ হেলাল: আমি বলব আমরা পুরোপুরি পিছিয়ে পড়িনি, তবে আমরা সঠিক ব্যবহারের জায়গা থেকে কিছুটা বিচ্যুত বা ডেভিয়েটেড হয়েছি । এই ডিজিটাল মিডিয়া, ইন্টারনেট বা আধুনিক প্রযুক্তি কিন্তু আমাদের সন্তানদের বিকাশের জন্য একটি অত্যন্ত বড় সহায়ক শক্তি । অগ্রসরমান এই পৃথিবীতে তাদের এগিয়ে রাখার জন্য এই ডিভাইসগুলোর সাথে তাদের পরিচিত করাতেই হবে । সমস্যাটা প্রযুক্তিতে নয়, সমস্যাটা হলো আমাদের মাইন্ডসেটে এবং এর ব্যবহারে । তারা কি এটিকে ইতিবাচক ও প্রোডাক্টিভ ওয়েতে ব্যবহার করছে, নাকি নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষতি করছে— সেটাই দেখার বিষয় ।
আমি বিষয়টিকে সবসময় একটি বিদ্যুতের তারের সাথে তুলনা করি । বিদ্যুৎ না থাকলে আমরা আলো পেতাম না, ফ্যান চলত না, আধুনিক জীবন অচল হয়ে যেত । কিন্তু তাই বলে কি আমরা বিদ্যুতের খোলা তার হাত দিয়ে স্পর্শ করি? অবশ্যই না। আমরা তারটিকে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখি, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি রেগুলেটর, সুইচ বা রিমোট ব্যবহার করি । প্রযুক্তির ব্যবহারটাও ঠিক তেমনি বাবা-মাকে একটু একটু করে ‘রেগুলেট’ বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে । সন্তান যদি সারাদিন শুধু অনলাইন গেমের ভেতরে বা স্ক্রিনের গ্রিলের পেছনে আটকে থাকে, তবে তার সামাজিক বিকাশ ব্যহত হবে । অতিরিক্ত নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে বাচ্চাদের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে, রাত জাগছে, দিনে ঘুমাচ্ছে, আচরণ উগ্র বা এগ্রেসিভ হয়ে উঠছে এবং রিলস বা শর্টস দেখে রুচির বিকৃতি ঘটছে । তাই প্রযুক্তিকে বৈরী বা শত্রু না ভেবে, এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
যারা বর্তমানে টিনেজ বা কিশোর বয়সী সন্তানদের অভিভাবক, তাদের সন্তানদের এই ডিভাইস আসক্তি বা মাদক আসক্তির হাত থেকে বাঁচাতে খুব সহজ ভাষায় কী কী করণীয় রয়েছে?
ডা. আহমেদ হেলাল: অভিভাবকদের জন্য আমার ৪টি সুনির্দিষ্ট ও বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ থাকবে:
প্রথমত, কোনো টার্গেট বা জিপিএ-৫ চাপাবেন না: সন্তানকে কখনই বলবেন না যে তোমাকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেতেই হবে কিংবা ও লেভেল বা এ লেভেলে আটটা স্টার পেতেই হবে । পরীক্ষার ফলাফল সন্তানের জীবনের বা মেধার একমাত্র সূচক নয়।সন্তান সমাজে কতটা গ্রহণযোগ্য (Acceptability), সমাজ তাকে কতটা গ্রহণ করেছে এবং সে চারপাশকে কতটা ভালোবাসতে পারছে— সেটিই সুষম বিকাশের আসল প্রমাণ । রেজাল্ট ভালো কিন্তু কোনো বন্ধু তার সাথে মেশে না বা খেলে না— এমন রেজাল্ট দিয়ে সুষম বিকাশ হয় না ।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিকে ভয় পাবেন না: ডিভাইস বা প্রযুক্তিকে দূরে ঠেলে না দিয়ে এর চমৎকার ও ইতিবাচক দিকগুলো সন্তানের সামনে তুলে ধরুন এবং শিক্ষণীয় ও সৃজনশীল কাজে তা চর্চা করতে উৎসাহিত করুন ।
তৃতীয়ত, সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন: আমরা প্রায়ই সন্তানের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দিই । এতে করে বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে তার নিজস্ব বিচার-বিবেচনা সংকুচিত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে না নিয়ে বন্ধুদের বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় । খুব ছোট ছোট বিষয়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন; যেমন— সকালে সে ফার্মের ডিমের ওমলেট খাবে নাকি দেশি ডিমের? স্কুলে কেডস পরে যাবে নাকি শু পরে যাবে? কোন টিশার্টটি পরে খেলতে যাবে ? তাকে তার নিজের মতো করে ভাবতে দিন ।
চতুর্থত, পরনির্ভরশীল করবেন না এবং কারণ বুঝিয়ে বলুন: অনেক বাবা-মা গর্ব করে বলেন, ‘আমার সন্তান আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না’— মনে রাখবেন, বিপদ কিন্তু ওখানেই শুরু ! সন্তানের স্কুলের বই বাবা-মা মুখস্থ করবেন না, সন্তানের ব্যাগ সন্তানকেই গুছাতে এবং বহন করতে দিন (যতটুকু তার পক্ষে সম্ভব) । ব্যাগ বহন করার মধ্যে স্নেহের বহিঃপ্রকাশ ঘটে না, বরং সন্তানকে পঙ্গু ও পরনির্ভরশীল করে ফেলা হয় । কোনো কিছু নিষেধ করার সময় শুধু ‘এটা খারাপ, এটা দেখবে না বা করবে না’— এমন ডিরেক্টিভ বা আদেশ না দিয়ে, কেন সেটি খারাপ আর কেন ভালো তা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।
এবার আসি প্রতিপাদ্যের শেষ অংশে— ‘উদ্ভাবনী ফলাফল’ বা ইনোভেশন । মাদক চিকিৎসার ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন কী ইনোভেশন বা পরিবর্তন আসছে?
ডা. আহমেদ হেলাল: এখানে সবচেয়ে বড় ইনোভেশনটি হলো আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন বা ‘প্যারাডাইম শিফট’ । আমাদের সমাজ মনে করে যে মাদক নেয় সে একজন অপরাধী । কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে— মাদক গ্রহণকারী কোনো অপরাধী নয়, সে পরিস্থিতির শিকার একজন রোগী এবং মাদকাসক্তি একটি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি । যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে দেখা বন্ধ না করব, ততক্ষণ কোনো নতুন ইনোভেশন বা ফলাফল আসবে না । আমাদের হাত-পা ভেঙে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় বা চাকরি থেকে যেমন কেউ আমাদের বের করে দেয় না, তেমনি মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে কাউকে সমাজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা যাবে না । তাকে রোগী জ্ঞান করে তার প্রতি সমব্যথী হতে হবে।
দ্বিতীয় ইনোভেশনটি হলো কমিউনিটি বেজড ট্রিটমেন্ট (সমাজভিত্তিক চিকিৎসা) । আমরা মনে করি মাদকাসক্ত হওয়া মানেই তাকে ধরে কোনো রিহাব সেন্টারে বা হাসপাতালে ৬ মাস বা ৯ মাস আটকে রেখে বন্দি করে চিকিৎসা করতে হবে । তথাকথিত রিহাবের এই বন্দিজীবন অনেক সময় রোগীর মানবাধিকারের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায় । আধুনিক ইনোভেশন বলছে— রোগীকে তার পরিবারে রেখে, সমাজের ভেতরে রেখে, তার চাকরি, পড়ালেখা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রেখেই চিকিৎসা করা সম্ভব এবং এটি অনেক বেশি কার্যকর । থাইল্যান্ড বা জাপানের মতো দেশে এই মডেল সফলভাবে চলছে । আমাদের দেশে সামাজিক ঐক্য এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি অনেক বেশি । আমরা বন্যায়, খরায় বা কোভিডের সময় দেখেছি মানুষ কীভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে । তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে কেন আমরা সমাজভিত্তিক এই ঐক্য গড়ে তুলব না মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, পরিবারের পরিমণ্ডলে রেখেই তার চিকিৎসা করা এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও ইনোভেটিভ মডেল।
আমরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রায়ই শুনি যে মাদকাসক্তি এবং ডিভাইস আসক্তি নাকি আমাদের মস্তিষ্কের একই অংশে কাজ করে। এই বিষয়ে যদি একটু বিস্তারিত বলতেন।
ডা. আহমেদ হেলাল: হ্যাঁ, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সত্য । মাদকাসক্তি আমাদের ব্রেনের বা মস্তিষ্কের যে সার্কেলে কাজ করে, ডিভাইস আসক্তি বা যেকোনো বিহেভিওরাল অ্যাডিকশনও (আচরণগত আসক্তি) ঠিক একই সার্কেলে কাজ করে । ব্রেনের এই অংশটিকে বলা হয় ‘রিওয়ার্ড সার্কিট’ বা সহজ বাংলায় ‘ভালোবাসা সার্কিট’। ফলে আসক্তির কারণে মানুষের যে বাহ্যিক আচরণ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা মানসিক বহিঃপ্রকাশ— তা মাদকের ক্ষেত্রেও যা হয়, ডিভাইস আসক্তির ক্ষেত্রেও হুবহু একই রকম হয় । এদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো— মাদকের ক্ষেত্রে আসক্তিটি কেমিক্যাল বা রাসায়নিক নির্ভর, আর ডিভাইসের আসক্তিটি নন-কেমিক্যালের ওপর নির্ভর। এছাড়া এদের মধ্যে আর কোনোই তফাত নেই । তাই দুই ধরনের আসক্তিতে আক্রান্ত সন্তানের প্রতিই আমাদের সমান সহানুভূতি ও সচেতনতা দেখাতে হবে।
আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে আমাদের দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা আছে কি?
ডা. আহমেদ হেলাল: দর্শকদের উদ্দেশ্যে আমি শুধু এটুকুই বলব— মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে না দেখে একজন সাধারণ রোগী হিসেবে বিবেচনা করুন । এটিকে আমাদের সমাজে কোনো ‘ট্যাবু’ বা সামাজিক কলঙ্ক (স্টিগমা) বানিয়ে ফেলবেন না, যার ফলে পরিবারগুলো লোকলজ্জার ভয়ে সত্যটি অস্বীকার বা ডিনায়াল করতে শুরু করে । তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে না দিয়ে, তাকে বুকে টেনে নিন । অন্যান্য সাধারণ রোগের মতোই প্রিয়জনকে নিজেদের কাছে রেখে, ভালোবেসে তার চিকিৎসার ভার গ্রহণ করুন । আমাদের ভালোবাসা ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমেই কেবল সে এই ভুলের পথ থেকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারবে।