খামেনির পাশে রাখা ছোট্ট কফিনটি আসলে কার
· Prothom Alo

সবারই দৃষ্টি কেড়েছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বড় কফিনের পাশে রাখা একটি ছোট্ট, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন।
Visit rouesnews.click for more information.
তেহরানে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় শোক আয়োজনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক এই দৃশ্যটি সবাইকে ভেতরে ভেতরে আর্দ্র করে তুলছে। সবারই দৃষ্টি কেড়েছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বড় কফিনের পাশে রাখা একটি ছোট্ট, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বড় কফিনের পাশে রাখা একটি ছোট্ট, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনView this post on Instagram
ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজারো মানুষ সারিতে দাঁড়িয়েছেন। দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শোক ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন ইরানিরা। আজ শনিবার সকাল ৬টার দিকে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
গতকাল শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল তেহরানে বিদেশি নেতাদের বেশিরভাগই খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
View this post on Instagramসেই কফিনে আছে তাঁর মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির মরদেহ
আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের প্রয়াত কয়েকজন সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। আর এর মাঝেই দেখা যাচ্ছে ইরানের সুপ্রিম লিডার খামেনির মরদেহের পাশে রাখা ছোট্ট একটি কফিন। তেহরানে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় শোক আয়োজনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক এই দৃশ্যটি সবাইকে ভেতরে ভেতরে আর্দ্র করে তুলছে। সবারই দৃষ্টি কেড়েছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বড় কফিনের পাশে রাখা একটি ছোট্ট, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন।
View this post on Instagram
সেই কফিনে আছে তাঁর মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির মরদেহ, যার সংক্ষিপ্ত জীবন এক বিধ্বংসী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বিমান হামলায় শেষ হয়ে যায়।
দেশটির দীর্ঘদিনের নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো মানুষ জড়ো হলেও, উপস্থিত সবার হৃদয় সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে এই ছোট্ট কফিনটি। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ত্রিবর্ণ পতাকায় মোড়ানো কফিনটির পাশে রাখা ছিল হাস্যোজ্জ্বল শিশুটির একটি ফ্রেমবন্দী ছবি। সেই দৃশ্য যেন যুদ্ধের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির এক মর্মস্পর্শী প্রতীক হয়ে ওঠে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে চালানো ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতাসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এক রাতেই একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
এক রাতেই একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়এই ছোট্ট কফিনটি রাজনৈতিক সংঘাতের সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যায়জানাজায় উপস্থিত শোকাহত মানুষ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের কাছে এই ছোট্ট কফিনটি রাজনৈতিক সংঘাতের সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যায়। এটি হয়ে ওঠে যুদ্ধের মানবিক মূল্য ও নিরীহ মানুষের ওপর নেমে আসা ভয়াবহতার এক বেদনাদায়ক প্রতীক। ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও, গভীর শোকে ডুবে থাকা জাতির স্মৃতিতে সবচেয়ে ভারী হয়ে থাকবে সেই ছোট্ট কফিনের দৃশ্য।
সূত্র: এনডিটিভি, নিউজ এইটিন
ছবি: ইন্সটাগ্রাম