বগুড়ায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাননি ১০ জন, কলেজের কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

· Prothom Alo

টাকা জমা দিয়েও প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড না পাওয়ায় বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। ফরম পূরণের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তাঁরা ফরম পূরণ করেছিলেন। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন। ফরম পূরণ না করে তাদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন কলেজের ওই কর্মচারী।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে এসে প্রবেশপত্র না পেয়ে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন গা ঢাকা দেন।

Visit esporist.com for more information.

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। গত ১৮ মার্চ ফরম পূরণের শেষ তারিখ ছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বেশ কিছু শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারেননি। মানবিক বিভাগের ফরম পূরণের নির্ধারিত ফি ছিল ২ হাজার ৪৩৫ টাকা।

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানান, দুই মাস আগে মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন। তাদের কাছ থেকে এই কাজের জন্য তিনি চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা করে নেন। গত ২৪ জুন কলেজের অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও তাঁদের জানানো হয়, বিলম্বে ফরম পূরণ করায় তাঁদের কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও তাঁরা কেউ প্রবেশপত্র বা নিবন্ধন কার্ড পাননি। তাঁদের অভিযোগ, ওই কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাঁদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সম্রাট নামের এক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, ‘ফরম পূরণের জন্য আমার কাছে কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন টাকা নেন। তিনি আমাকে বলেন, ফরম পূরণ হয়ে গেছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলেন; কিন্তু তিনি যে ফরম পূরণ করেননি, সেটি এখন বুঝতে পারছি।’

কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ১০ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র না পাওয়ার বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে জানায়নি। জানালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের হাতে প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেত। বিষয়টি আজ জানার পর নিজ উদ্যোগে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ১০ পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। শিক্ষা বোর্ড থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে তাঁদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে প্রথম দিনের পরীক্ষা আর নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের ওই বিষয়ে পরের বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।’

Read full story at source