‘ও বা এ লেভেল’ পরীক্ষা একই প্রশ্নে হলে, আমাদের বোর্ড পরীক্ষা আলাদা প্রশ্ন কেন হবে: শিক্ষামন্ত্রী
· Prothom Alo

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নফাঁসের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা চালাকি কঠোর হস্তে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো রকম চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যা দেখে অন্য অপরাধীরা আজীবন শিক্ষা পাবেন।’
আজ বৃহস্পতিবার আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড।
Visit sportbet.rodeo for more information.
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন উর রশিদ, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুছ আলী সিদ্দিকী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
এমফিলে ২ বছর মাসিক ১৫,০০০ টাকা হারে ৪ কিস্তিতে ফেলোশিপ প্রদান করা হবে। পিএইচডিতে ৪ বছর মাসিক ২০,০০০ টাকা হারে ৮ কিস্তিতে ফেলোশিপ প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে যদি “ও লেভেল বা এ লেভেল” পরীক্ষা একই প্রশ্নে হতে পারে, তবে আমাদের দেশে বোর্ডভেদে আলাদা প্রশ্ন কেন হবে? বোর্ডের চেয়ারম্যানরা আগে বলতেন, প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কায় তাঁরা আলাদা প্রশ্ন করেন। আমি বলেছি, প্রশ্ন ফাঁসই হতে দেওয়া হবে না। কোনো একটি বোর্ডের প্রশ্ন সহজ আর অন্য বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন—এই জিপিএ বৈষম্যের মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতেই আমরা একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এবার এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা পেছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা মাউশিরযে কয়েক দিন থাকব, সিংহের মতো চলব, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ছাড়ব: শিক্ষামন্ত্রী
বিগত সরকারের আমলের শিক্ষার করুণ চিত্র ও ঢালাও পাসের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলের নীতি ছিল—না পড়ে, নকল করে, ইন্টারনেটের সহায়তায় খাতায় বেশি নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দাও। এভাবে পাস করে যাঁরা ডাক্তার হয়েছেন, তাঁরা যদি কোনো অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা দিতে যান, তবে রোগীকে সামনে রেখেই তাঁদের নতুন করে বই পড়তে হবে। মেধার কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের “কর্তার ইচ্ছায় কর্ম” নীতির কারণে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে সবাইকে পাস করিয়েছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার লেখাপড়ার মান ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। আমরা যোগ্যতার নামে ক্ষমতায় বসে থাকতে চাই না, যে কয়েক দিন থাকব, সিংহের মতো চলব, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ছাড়ব।’
মেটার পিএইচডি ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়ন, জেনে নিন বিস্তারিতমাদ্রাসার শিক্ষকেরা মে ও জুনের বেতন একসঙ্গে পাবেন
মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত সরকার সেপ্টেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো ধরনের বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই ১৭ হাজার এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। তারা অঙ্কে কাঁচা ছিল, বাজেট অ্যালোকেশন করেনি। ফলে মে মাসে এসে আমাদের হাতে টাকা ছিল না। আমি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা শুধু জনতা ব্যাংকে ছাড় করেছি, যা দিয়ে চার ভাগের এক ভাগ শিক্ষক বেতন পাবেন। তবে আমি নিশ্চিত করছি, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আপনাদের বকেয়া এমপিও এবং মে ও জুনের সব বকেয়া বেতন একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে শিক্ষকদের টাকা অনলাইনে পাঠানোর জন্য ১০ কোটি টাকার ইএফটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা বাড়িয়ে ৮০ কোটি টাকা করা হয়েছে, কিন্তু কাজ শেষ করা হয়নি। এই প্রকল্পকে আগামী এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে শেষ না হলে এটি বন্ধ করে ম্যানুয়ালি কাজ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা নীতি, আসছে যে যে পরিবর্তনশিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলের ধারাবাহিকতায় শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হবে। তিনি কেন্দ্রসচিব ও কর্মকর্তাদের সারা দেশে পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থীকে অন্যায় সুবিধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।