থানার সামনে লাশ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

· Prothom Alo

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। আজ বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্তের পর মেহেদীর মরদেহবাহী গাড়ি রামগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে রেখে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে সেখানে মানববন্ধনও করা হয়।

প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে নিহত মেহেদীর মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা দাবি করেন, মেহেদীকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং এর জের ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালানোর পর ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

আজ বিকেলে ‘ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির’ পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়, একাডেমির কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার মেহেদী হাসান একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। অভিযোগপত্রে সে তার ওপর সংঘটিত শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়নের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মেহেদী হাসান ইছাপুর ইউনিয়নের জিয়া উদ্দিনের ছেলে। বিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত সে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাত ৮ থেকে ১২ পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালায়। পরে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত মেহেদী হাসান

পুলিশ বলছে, এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন চুরির ঘটনায় মেহেদীকে ‘মানসিকভাবে’ নির্যাতন করা হয়। এতে সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

আজ বিকেলে থানার সামনে মেহেদী হাসানের লাশ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, মেহেদীর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হত্যার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ আশ্বাসের পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।

শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল মেহেদী

নিহত শিক্ষার্থী মেহেদীর স্বজনদের দাবি, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। স্বজনদের এই দাবির পর তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিও বিষয়টি স্বীকার করেছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুন রোববার মেহেদীকে বিদ্যালয়ের কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী মারধর করে। এ ঘটনায় পরদিন সোমবার সে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

আজ বিকেলে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়, একাডেমির কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার মেহেদী হাসান একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিল। অভিযোগপত্রে সে তার ওপর সংঘটিত শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়নের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই একাডেমি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয় এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষোভ থেকে সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রতীয়মান হয়।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মেহেদীর লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি, চলমান তদন্তের স্বার্থ এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সব একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী সাত কর্মদিবসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানানো হয়।

জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস লাগিয়ে ওই ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে উত্তেজিত এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এখনো পুলিশ ওই প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছে।

Read full story at source