কুমিল্লায় ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার শিবির নেতা জিসান মিয়া সুস্থ, ছাড়পত্র দিল হাসপাতাল
· Prothom Alo

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে চার দিন পর ছাড়পত্র দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছুটি (ছাড়পত্র) দেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এদিন বেলা তিনটা পর্যন্ত জিসানকে আদালতে হাজির করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
Visit casino-promo.biz for more information.
কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় গত শুক্রবার রাতে। কিন্তু ওই ছাত্রশিবির নেতা নিজেকে ‘অসুস্থ দেখিয়ে’ পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এত দিন। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আদালতে প্রেরণ করেনি পুলিশ। যদিও যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, জিসান পুরোপুরি ‘সুস্থ’ আছেন।
ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার শিবির নেতা জিসান এখনো হাসপাতালে, কী পেল মেডিকেল বোর্ডএমন পরিস্থিতিতে জিসান প্রকৃতপক্ষে অসুস্থ কি না, সেটি জানতে গত রোববার চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা জিসান মিয়া প্রধানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে বসেন। এতে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা জিসানের শারীরিক অবস্থা ‘ভালো’ বা ‘সুস্থ’ দেখে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দেন। এর ভিত্তিতে আজ দুপুরে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা পর্যবেক্ষণ করে জিসান মিয়া সুস্থ বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। পরে আজ দুপুর ১২টায় তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন। পুলিশ সদস্যরা যেকোনো সময় তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন তাঁরা। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জিসানকে আদালতে হাজির করা হবে।
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার শুনে ‘চোখ খুলছেন না’ শিবির নেতা জিসানঘটনার পর থেকে পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে বিয়ে এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন জিসান। এরপর নাটকীয়ভাবে উদ্ধার হয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু এতে শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে থাকা অবস্থার মধ্যেই ওই নারীর করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে কথিত নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। জিসান মিয়া (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
জেলা পুলিশ জানায়, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে গত শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে যান শিবির নেতা জিসান, ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার: পুলিশ