অবিলম্বে সীমান্তে এই অপতৎপরতা বন্ধ করুন: ভারতের উদ্দেশে মোয়াজ্জেম হোসেন
· Prothom Alo

‘পুশ ইন’–এর চেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ প্রসঙ্গে ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে সীমান্তে এই অপতৎপরতা বন্ধ করুন।’
Visit sportbet.rodeo for more information.
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মোয়াজ্জেম হোসেন এ আহ্বান জানান। ভারতীয় পুশ ইনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও তার অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম। সভায় মোয়াজ্জেম হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
পুশ ইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন বিএনপির চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসার জায়গা হচ্ছে—সীমান্তে বিজিবির যদি পাঁচজন সদস্য থাকেন, বাংলাদেশের পাঁচ হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে পুশ ইন প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিএসএফের (ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী) সঙ্গে কোনো ভারতীয় নাগরিককে দেখা যায় না। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ এই পুশ ইন প্রতিরোধ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ভারতকে অবিলম্বে এটা বন্ধ করতে হবে।
ঢাকায় নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে এই পুশ ইন বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার করতে তাঁর প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘নতুন হাইকমিশনার, আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি। আপনি এই প্রচেষ্টাকে জোরদার করে দিল্লিকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।’
পুশ ইনের প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের উদ্দেশে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে পুশ ইন করতে যখন এত আগ্রহ আপনাদের, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন। তাঁর বাড়ি তো বরিশাল। শুভেন্দু অধিকারীকে পাঠিয়ে দেন। আমরা আতিথেয়তা করে দেব। সম্মানের সঙ্গে তাঁকে আতিথেয়তা করব। কারণ, আমরা আপনাদের মতো আচরণ করি না।’
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের একটা বৈশিষ্ট্য আছে। এ দেশের মানুষ খুব অতিথিপরায়ণ। তাদেরকে বরণ করে নেয়। আবার যদি বেশি দিন থাকতে চায়, তাহলে অসম্মানিত করে, অপমান করে কীভাবে বিদায় করতে হয়, সেটিও তারা জানে।’
ভারতে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আপনারা ওখানে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর যে অত্যাচার আপনারা করছেন, এটা সারা বিশ্বে আজ নিন্দিত হচ্ছে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে বলে উল্লেখ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে, অগ্রগণ্য রেখে, সম্মানের সঙ্গে। তারপর হবে বন্ধুত্ব। এটা শুধু ভারত নয়, পৃথিবীতে যত দেশ আছে, সবার ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের মর্যাদা সামনে রেখে তারপরে কূটনীতি পরিচালিত হবে। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তারক রহমান বারবার সব জায়গায় বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ সবার আগে যদি বাংলাদেশ হয়, তাহলে আজ যারা বিভিন্নভাবে নানা রকমের চক্রান্ত, বুদ্ধি, দুর্বুদ্ধি, কুবুদ্ধি করছে; সেটা সফল হবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। বক্তব্য দেন জাতীয় গণফ্রন্ট সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক কে এম আই মন্টিসহ সংগঠন দুটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।