হজযাত্রীর লাগেজ হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০

· Prothom Alo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক হজযাত্রীর লাগেজ হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কসবার কদমতলী এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কসবা পৌরসভার শাহপুর গ্রামের মরিয়ম বেগম (৬২) এ বছর হজ পালনের উদ্দেশ্যে একটি হজ কাফেলার মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। ফেরার পথে তিনি সৌদি আরবে একটি লাগেজ হারিয়ে ফেলেন। ওই লাগেজ ছাড়াই তিনি দেশে আসেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাগেজটি ফিরে পেতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপজেলার আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ‘কসবা হজ কাফেলা’ ট্রাভেল এজেন্সিতে যান। কর্তৃপক্ষ জানায়, লাগেজের দায়িত্ব হজযাত্রীর। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে হজযাত্রীর পরিবারের সদস্যরা এজেন্সিতে ভাঙচুর চালান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।

Visit palladian.co.za for more information.

পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে কসবা পৌরসভার শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজন লাটিসোঁটা, ছুরি, দা, বল্লমসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে কদমতলী মোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ ছিল। বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে কসবা থানার পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দুপুর পর্যন্ত দুই গ্রামের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। দুপুরে বৃষ্টির সময় সংঘর্ষ বন্ধ হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাঁরা কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। শনিবার দুপুরে কসবা উপজেলার কদমতলী এলাকায়

একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় কসবা হজ কাফেলার পরিচালক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আনুমানিক ২০টি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Read full story at source