জেলে নিখোঁজের জেরে মোংলায় কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা, গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ

· Prothom Alo

এক জেলে নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবন লাগোয়া কোস্টগার্ডের একটি স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মোংলা উপজেলার জয়মনির ঠোঁটা এলাকায় ঘটনার সূত্রপাত। এতে বাহিনীটির কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে কোস্টগার্ড।

তবে কোস্টগার্ড বলছে, গ্রামবাসী নয়, একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম পরিচালনার সুবিধার্থে সেখান থেকে কোস্টগার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

Visit extonnews.click for more information.

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জয়মনির ঘোল এলাকার মিরাজ শেখ (৩০) নামের এক জেলে দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ। পরিবার ও গ্রামবাসীর অভিযোগ, কোস্টগার্ড তাঁকে তুলে নেয়। তবে এখন পর্যন্ত তারা তাঁকে আটক দেখায়নি।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার তিনজন বলেন, মিরাজের সন্ধান দাবিতে গত মঙ্গলবার কোস্টগার্ড বেজের (পশ্চিম জোন) সামনে গ্রামবাসী একটা মানববন্ধন করে। সেখানে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। ব্যানার–ফেস্টুন যা ছিল কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কোস্টগার্ডের পন্টুনে (হারবারিয়ায় স্টেশন) যান নিখোঁজ মিরাজ শেখের মা, বোন, স্ত্রী ও শাশুড়ি। সেখানে তাঁরা কোস্টগার্ড সদস্যদের কাছে মিরাজের সন্ধান চান। এ পর্যায়ে তাঁরা পন্টুনে উঠে বসে পড়েন। তখন পন্টুন থেকে নামানোর জন্য কোস্টগার্ড তাঁদের লাঠিপেটা করে। যা দেখে স্থানীয় জনতা একত্র হয়ে বোট নিয়ে পন্টুনে ওঠেন।

ওই তিন ব্যক্তি আরও বলেন, গ্রামবাসী সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিক্স নিয়ে এসেছেন তাতে মিরাজের কোনো তথ্য আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য। এ সময় একদল লোক কোস্টগার্ডের পন্টুন ও একটি স্পিডবোটে ভাঙচুর চালান। এরই মধ্যে দিগরাজ থেকে কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্যরা এসে ফাঁকা গুলি করেন। এরপর কোস্টগার্ডের সদস্যরা তীরে উঠে (জয়মনি ঠোঁটা এলাকায়) ঘরে ঘরে ঢুকে লোকজনকে লাঠিপেটা করেন। এতে ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। কোস্টগার্ড নিখোঁজ মিরাজের মা, বোন ও স্ত্রীকে আটক করে।

এ নিয়ে দিনভর ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী বলেন, কোস্টগার্ড ছাড়াও সেখানে পুলিশ ও র‌্যাবের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।
ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, নৌকা ও ট্রলারে করে ঝাড়ু, লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল নারী-পুরুষ কোস্টগার্ডের স্টেশনের দিচ্ছে যাচ্ছেন। একদল সেখানে উঠে ভাঙচুর করে। পাশে থাকা বাহিনীটির একটি স্পিডবোটও ভাঙতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বেশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে কোস্টগার্ড। তখন বোট থেকে লোকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে তাঁরা তীরে ওঠেন।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে কোস্টগার্ড লাঠি ও বুট দিয়ে প্রকাশ্যে দুজনকে মারধর করছে। এক নারী কান্না করতে করতে সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গ্রামে ঢুকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘কোস্টগার্ডের ওপর যখন তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে, আত্মরক্ষার্থে তারা তখন ছত্রভঙ্গ করার জন্য লাঠিপেটা করেছে।’

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ওই এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা ওই এলাকায় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি চায় না।

Read full story at source