‘ব্যান্ডসংগীতের ঝুঁকি নিতে সাহস দেখিয়েছিলেন বাদল’
· Prothom Alo

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের নেপথ্যের পথিকৃৎদের একজন ফারুক আহমেদ বাদল। ‘সারগাম’ স্টুডিও ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আশি ও নব্বইয়ের দশকে অসংখ্য ব্যান্ড ও শিল্পীর পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২ মে মারা যান তিনি। বাদলের স্মৃতিচারণা করেছেন ফিডব্যাকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সংগীত পরিচালক ফোয়াদ নাসের বাবু।
ফোয়াদ নাসের বাবুবাদলের সঙ্গে প্রথম দেখা আমার বাসাতেই। ছোটবেলার বন্ধু মাসুদের পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজি হই। নির্ধারিত সময়ে মাসুদ বাদলকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হলো। আমাদের দলের একটি গানের অ্যালবাম প্রকাশ করার ইচ্ছার কথা জানাল। তখন পর্যন্ত প্রকাশিত হাতে গোনা কয়েকটি বাংলা গানের অ্যালবামই শোনা হয়েছে। অথচ আমরা তখন কেবল একটি বা দুটি বাংলা গান রেকর্ড করেছিলাম, তা–ও বিটিভির জন্য।
Visit afrikasportnews.co.za for more information.
১২টি গান নিয়ে অ্যালবাম করার কথা শুনে একটু ভড়কে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাদলের বিনয়, আন্তরিকতা ও উৎসাহ দেখে রাজি হয়ে গেলাম। খুব বেশি চ্যালেঞ্জিংও মনে হয়নি, কারণ সেশন মিউজিশিয়ান হিসেবে ইতিমধ্যেই আমরা রেকর্ডিং ও প্রোডাকশনের কাজে বেশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম।
বালিশ, কাঁথা নিয়ে সংসার পাতলাম সারগামে...১৯৮৫ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘ফিডব্যাক সেলফ টাইটেলড’ ভীষণ সফল ও জনপ্রিয় হয়। পরে ‘উল্লাস’ (১৯৮৭) ও ‘মেলা’ (১৯৯০)—এই তিনটি অ্যালবামই সারগামের ব্যানারে প্রকাশিত হয়। বাদলকে কখনোই শুধু একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মানুষ বলে মনে হয়নি। বয়সে কিছুটা ছোট হলেও শিল্পী পরিচয়ের বাইরেও অত্যন্ত সম্মান ও সমীহ করে কথা বলত। গানের ধারা বা ধরন নিয়ে সে কোনোদিন কোনো মতামত চাপিয়ে দেয়নি; যা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়েই খুশি থেকেছে।
বাদলের একান্ত প্রচেষ্টায় সুমনা হকের ‘মায়াবী এ রাতে’ এবং নিলয় দাসের ‘কত যে খুঁজেছি তোমায়’ অ্যালবাম দুটো শেষ করতে পেরেছিলাম। আমি মনে করি, এই দুটি অ্যালবামের পরিচয়েই আজও অনেক মানুষ আমাকে মনে রাখেন।
ফোয়াদ নাসের বাবুডিস্কো, তিতুপীরা ও জাহিদ ইলেকট্রনিকস নামে অডিও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তখন বাজারে ছিল। কিন্তু সারগামের আগমন ছিল এই অঙ্গনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সারগামের মাধ্যমে একঝাঁক নতুন শিল্পী পরিচিতি পেতে শুরু করলেন। বিশেষ করে ব্যান্ড অ্যালবামের পথিকৃৎ বলতে হবে সারগামকে, কারণ তখন এই মাত্রার ঝুঁকি নেওয়ার সাহস খুব কম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই দেখাত।
আইয়ুব বাচ্চু: রুপালি গিটার ফেলে হারিয়ে যাওয়া অভিমানী জাদুকরআজ যখন বাদলকে বোঝার চেষ্টা করি, মনে হয় এমন বন্ধুবৎসল, পরোপকারী ও ভালো মনের মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যুসংবাদ শুনে প্রথমেই যে কথাটি মনে এসেছে, একজন নীরব বিপ্লবীর নীরব প্রস্থান। কী অভিমানে দেশ ছেড়েছিল, তা আমাদের কারও জানা নেই; যাওয়ার সময় সেই না-বলা কথাটিও সঙ্গে করে নিয়ে গেল। আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।