কবিগুরু-স্মরণে

· Prothom Alo

২৫ বৈশাখ ছিল বাঙালির প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ৮ মে বিকেলে সিলেট বন্ধুসভার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবিগুরু-স্মরণে’ শীর্ষক এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে অংশগ্রহণ করেন বন্ধুসভার সদস্যরা।

শুরুতেই সঞ্চালক বন্ধু অম্লান রায় স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির কাছে এক মহিরুহের মতো। তাঁর দর্শনের বিস্তৃত ছায়া ছড়িয়ে আছে উপন্যাস, গান ও কবিতাজুড়ে। সেই সাহিত্যই জীবনের নানা পদক্ষেপে একটি জাতিকে উজ্জীবিত করে চলেছে। সুখ–দুঃখ, অবসাদ অথবা সামাজিক অবক্ষয়, প্রেম–বিরহ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর লেখনী প্রাণশক্তিতে উদ্বুদ্ধ করে মানুষকে। শুধু একটি বিশেষ দিন নয়, বাঙালি প্রতিদিনই রবীন্দ্রনাথকে উদ্‌যাপন করে।’

Visit likesport.biz for more information.

একক সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। ধারাবাহিকভাবে একক গান পরিবেশন করেন বন্ধু অম্লান রায়, সুমন দাস, রেজাউল হক, দেব রায় সৌমেন, সূবর্ণা দেব ও শুভ তালুকদার। একক কবিতা আবৃত্তি করেন বন্ধু শেখ ফয়সাল আহমেদ। একক নৃত্য পরিবেশন করেন বন্ধু রায় ধীমহি।

সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঘিরে বন্ধুরা তাঁদের অনুভূতি ও ভালো লাগার কথা ব্যক্ত করেন। বন্ধু দেব রায় সৌমেন বলেন, ‘রবীন্দ্রদর্শন যে জীবনবোধের এক অফুরন্ত ভান্ডার, তা যিনি রবীন্দ্রনাথকে আত্মস্থ করতে পেরেছেন, তিনিই অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। বাঙালি ঘরে শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে যেমন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে, তেমনি তাকে পরিচিত করানো হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গেও। তাই কেবল ২৫ বৈশাখ উপলক্ষে নতুন করে বাঙালির সঙ্গে রবীন্দ্রচেতনার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।’

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট বন্ধুসভার আয়োজন।

বন্ধু ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ তাঁর সাহিত্যে বারবার ন্যায় ও অন্যায়কে ঘিরে নানা মূল্যবোধ তুলে ধরেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—“অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।”’

বন্ধু রায় ধীমহি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রগণ্য বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কবিগুরু, বিশ্বকবিসহ নানা অভিধায় তিনি ভূষিত।

বন্ধু রেজাউল হক বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন সমাজসংস্কারক ও রাজনৈতিক কর্মী। তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং স্বদেশি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নারীশিক্ষা ও নারীর অধিকারের প্রশ্নেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। বঙ্গদর্শন পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’

এ ছাড়া বন্ধু সমরজিৎ হালদার, সূবর্ণা দেব, সুমন দাস ও শুভ তালুকদার কবিগুরুকে নিয়ে তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

আলোচনা পর্ব শেষে নৌকাডুবি উপন্যাসকে কেন্দ্র করে একটি পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে সম্মিলিত সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে অনুষ্ঠানের। আয়োজনজুড়ে বিশেষ আকর্ষণ ছিল বন্ধু প্রণব চৌধুরীর আঁকা কবিগুরুর প্রতিকৃতি, যা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।

সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা

Read full story at source