শহর এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা: অংশীজনদের ভূমিকা পুনর্নির্ধারণ

· Prothom Alo

দ্য চ্যালেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সহযোগিতায় সাজেদা ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘শহর এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা: অংশীজনদের ভূমিকা পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

মর্জিয়া হক

পরিচালক (এমআইএস), পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

পরিবার পরিকল্পনার মাঠপর্যায়ের কাজের গতি নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের স্টোর বা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত করে দেওয়া এবং মেডিক্যাল অফিসারদের ওপর প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ায় কাজের মূল ধারাটি ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে আমাদের কর্মীর স্বল্পতা রয়েছে; ৫০ শতাংশের বেশি পদ খালি। ফলে মাঠকর্মীদের সপ্তাহে দুদিন কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করতে হয়, তাঁরা আগের মতো বাড়ি বাড়ি গিয়ে সময় দিতে পারেন না।

সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ের নিচে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার একটি সুন্দর পরিকল্পনা করছে। এটি অবশ্যই একটি সুদূরপ্রসারী চিন্তা। কিন্তু এখনো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একটি সাধারণ কম্পোনেন্ট হিসেবে পরিবার পরিকল্পনাকে দেখা হয়। আমরা যদি পরিবার পরিকল্পনাকে যথাযথ গুরুত্ব না দিই, তবে আগামী পাঁচ বছরে আমাদের জনসংখ্যা কয়েক কোটি বেড়ে যেতে পারে।

একসময় আমাদের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ছিল, কিন্তু এখন তা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শহর এলাকায় জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় একজন কর্মীকে ১৫০০-২০০০ দম্পতি সামলাতে হচ্ছে, ফলে নিয়মিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় শহরের ১৯০টি সেন্টার কার্যকর করা, সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া ও শহর স্বাস্থ্যসেবা সরাসরি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা জরুরি—তাহলে কাজের দ্বৈততা কমবে ও মনিটরিং সহজ হবে।

ব্রিগে. জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

শহর এলাকার পরিবার পরিকল্পনার কিছু নিজস্ব বিশেষত্ব ও ধরন আছে। এখানে কিছু উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। যেমন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকাতেই প্রায় ১ হাজার ৭০০ বস্তি বা অনানুষ্ঠানিক জনবসতি রয়েছে। আবার গুলশান বা বনানীর মতো উচ্চবিত্ত এলাকাও আছে, যেখানে আমাদের প্রবেশাধিকার নেই। এ ধরনের কমিউনিটিগুলোতে আমরা টাইফয়েড টিকা বা টিসিভি ক্যাম্পেইনগুলো পর্যন্ত ঠিকমতো করতে পারি না।

উত্তর সিটি করপোরেশনে অনেকগুলো এনজিও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু তাদের কাজের কোনো জবাবদিহি সিটি করপোরেশনের কাছে নেই। আমরা জানিও না কে কী কাজ করছে। তাদের সব জবাবদিহি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কাছে। এমনকি আমাদের নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যে এনজিওগুলো কাজ করে, তারাও তাদের কার্যক্রমের রিপোর্ট সরাসরি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কাছে পাঠায়। আমরা কিছুই জানাতে পারি না। এখানে একটি বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়ে গেছে।

বর্তমানে এনজিওগুলোর কাজগুলো অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন ও সমান্তরালভাবে চলছে। একই এলাকায় একই ধরনের কাজ অনেকে করছে। এই কাজগুলোকে যদি একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা যায়, তবে আমরা আরও ভালো ফল পাব। এই লক্ষ্য অর্জনে সিটি করপোরেশনগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষমতায়ন করা প্রয়োজন।

জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

শহরের হাসপাতালগুলোয়ও অনেক কিশোরী আসে গর্ভবতী অবস্থায়। বাল্যবিবাহের কারণে তারা স্বাভাবিক প্রসব করতে পারে না, শেষ পর্যন্ত সিজারিয়ান সেকশনের প্রয়োজন হয়। হাসপাতালের বিছানায় একটি কিশোরী মায়ের কোলে আরেকটি ছোট শিশুকে দেখা—এই বাস্তবতা অত্যন্ত কষ্টের।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার সময় পর্যাপ্ত উপকরণের অভাবে তাদের প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা দেওয়া যায় না। ১৫ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রজনন জীবনে তারা কত দিন পিল বা ইনজেকশনের ওপর নির্ভর করবে? সচেতনতার অভাবে তারা বাজার থেকে এমএম কিট কিনে ব্যবহার করে ও পরে ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন নিয়ে আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা তীব্র রক্তশূন্যতায় তারা শকে চলে যায়। এ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন না করা গেলে আমাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে না।

শহর এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি উপকরণ পাচ্ছে না। তাই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জরুরি, যেখানে সরকারকে নেতৃত্ব দিতে হবে। বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

সচেতনতা বাড়াতে বস্তিতে সন্ধ্যাকালীন কাউন্সেলিং, ‘উঠান বৈঠক’ চালু করা ও ধর্মীয় ভুল ধারণা দূর করতে ইমামদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। পাশাপাশি একটি জরুরি স্বাস্থ্য ফান্ড গঠন ও সেবাকে বেসরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো রয়েছে। আমাদের চারটি মাতৃসদন হাসপাতাল আছে, যার মধ্যে একটি ১০০ শয্যার ও অন্য তিনটি ৫০ শয্যার। এ ছাড়া আমাদের ৫০টি ওয়ার্ডে আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সিস্টেম ও ৩৩৫টি ইপিআই সেন্টার রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সব খাত মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ একটি হেলথ সেটআপ। প্রতিবছর আমরা প্রায় ৯ লাখের বেশি নাগরিককে সেবা প্রদান করছি। চট্টগ্রামের আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে এই ৯ লাখ মানুষকে আমরা প্রায় বিনা মূল্যে সেবা দিচ্ছি।

আমাদের পরিবার পরিকল্পনাকর্মীও রয়েছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির অভাবে বর্তমানে তাঁদের আমরা ইপিআই কার্যক্রমে স্থানান্তরিত করেছি।

বর্তমানে আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনা। আমাদের স্থাপনা আছে, ৩৩৭টি কেন্দ্র ও জনবলও রয়েছে। আমাদের কর্মীদের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ দরকার, যাতে তাঁরা মানুষের কাছে গিয়ে সঠিকভাবে কাউন্সেলিং করতে পারেন। এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি অনুষঙ্গগুলোও আমাদের দরকার।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বা কোনো দাতা সংস্থা যদি আমাদের সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, তবে এই কার্যক্রমটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।

মো. ইমাম হোসেন

ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

পরিবার পরিকল্পনা এখন অত্যন্ত জরুরি একটি ইস্যু এবং একে যেকোনোভাবেই ধরে রাখতে হবে। তা না হলে আমরা ভবিষ্যতের অন্ধকারে হারিয়ে যাব। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে থাকে। আমাদের এখানে ১৩২ জন চিকিৎসক আছেন। সব মিলিয়ে মোট জনবল ১ হাজার ২১৪ জন।

আমাদের এ কার্যক্রমকে সফল করতে বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট অত্যন্ত জরুরি। যাঁরা বর্তমানে কর্মরত, তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর কিছু এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। সেগুলোর সংস্কার প্রয়োজন।

আমাদের ইপিআই কার্যক্রমে যেসব স্বাস্থ্য সহকারী কাজ করছেন, তাঁদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনার কাজে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সিটি করপোরেশনকে অনেক বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়, যা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার রয়েছে।

এ ছাড়া আমাদের ৫টি হাসপাতাল, ৭টি জোনে বিভক্ত ইপিআই কেন্দ্র ও বেশ কিছু স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সাপোর্ট পেলে আমরা আরও বড় পরিসরে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারব।

জাহেদা ফিজ্জা কবির

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সাজেদা ফাউন্ডেশন

সাজেদা ফাউন্ডেশন শহর ও উপশহর এলাকায় বেশি কাজ করে। আমরা দেখছি যে শহর এলাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভাব অনেক বেশি প্রকট। এ প্রেক্ষাপটেই আমরা জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির একটি গ্লোবাল উদ্যোগ দ্য চ্যালেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ (টিসিআই) বাংলাদেশে শুরু করতে যাচ্ছি।

পরিবার পরিকল্পনা শুধু একটি স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়; এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত। যেমন বাল্যবিবাহের বিষয়টিকে শুধু স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আমরা সফল হতে পারব না। আমাদের সেই পুরোনো সফল মাঠকর্মীদের পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে ও তাঁদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

আমাদের একটি ‘হেলথ ইমারজেন্সি প্রটোকল’ থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রটোকলের আওতায় লজিস্টিকস, ফান্ডিং ও ইমপ্লিমেন্টেশনের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকবে।

আমরা দেখেছি যে দুর্নীতির ভয়ে কেনাকাটা বা প্রকিউরমেন্ট বন্ধ করে রাখা হয়, অথচ মানুষ বা শিশুরা মারা গেলেও যেন কারও কিছু যায়–আসে না। এই স্থবিরতা ভাঙতে হবে।

আমাদের নতুন করে শেখার কিছু নেই। ইপিআই বা পরিবার পরিকল্পনা কীভাবে সফল করতে হয়, তা আমরাই একসময় বিশ্বকে শিখিয়েছি। এখন শুধু প্রয়োজন সেই ধাক্কা দিয়ে স্থবির হয়ে যাওয়া ইঞ্জিনটি আবার চালু করা।

ইমরানুল হক

চিফ অব পার্টি, সাজেদা ফাউন্ডেশন

আমরা শহরকে বাইরে থেকে সুন্দর ও চাকচিক্যময় দেখি, কিন্তু এর ভেতরে দারিদ্র্য, অভিবাসন ও বস্তির নিম্নবিত্ত মানুষ রয়েছে এবং এসব অপরিকল্পিত বসতি আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

গত ৩০ বছরে পরিবার পরিকল্পনা খাতে আমরা অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছি, কিন্তু সেই অর্জন ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শহর এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধান সমস্যা হলো দ্বিধাবিভক্ত কাঠামো, যেখানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কাজের স্পষ্টতা নেই, ফলে সেবা মাঠপর্যায়ে পৌঁছায় না এবং মানুষ ফার্মেসি বা প্রাইভেট খাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ করে। জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর স্টকআউট ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে উপকরণ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যা খাতটির জন্য একটি বড় ধাক্কা।

সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, নতুন কোনো সুপারিশের প্রয়োজন নেই; কারণ, অনেক ভালো সুপারিশ আগে থেকেই রয়েছে, এখন কেবল সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও মিউনিসিপ্যালিটিগুলোকে নেতৃত্ব নিতে হবে।

দ্য চ্যালেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প থেকে আমরা নতুন কিছু নয়; বরং বিদ্যমান কাঠামোকে শক্তিশালী করা, তহবিল সংগ্রহ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছি।

মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম

অধ্যাপক, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবার পরিকল্পনা খাতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। শহর এলাকার পরিবার পরিকল্পনা প্রেক্ষাপট ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এখানে যারা আসছে, তাদের বড় অংশই হলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু হওয়া অভিবাসী। আমাদের কৌশলে এই কর্মক্ষম নারীদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন খুব সামান্য। আন্তর্জাতিকভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘থ্রি জিরো’ অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে আমাদের যে অবস্থা, তাতে আগামী চার বছরে এই লক্ষ্য অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।

ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া বা নাইজেরিয়ার মতো আমাদের দেশেও একটি ‘পপুলেশন কমিশন’ গঠন করা উচিত। আমাদের শুধু কৌশল বানালেই হবে না, দ্রুত এর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে বাস্তবায়নের দিকে যেতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনাকে শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ হিসেবে না দেখে একে মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বৈষম্য দূর করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে ৫ শতাংশ জিডিপি বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু পরিবার পরিকল্পনায় কতটুকু বিনিয়োগ হবে, তা স্পষ্ট নয়।

আন্তর্জাতিক ডোনারদের ফান্ডিং কমে আসছে, তাই আমাদের নিজেদের তহবিল গঠনের দিকে নজর দিতে হবে। গবেষক ও শিক্ষাবিদদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি; কারণ, আমাদের দায়িত্ব হলো নতুন জ্ঞান তৈরি করে সরকারকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া।

আজমল হোসেন

প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট, নগর স্বাস্থ্য, ইউএনএফপিএ

শহরের একটি বড় অংশ হচ্ছে কর্মজীবী নারী। অনেকে বস্তিতে বাস করেন। তাঁদের জন্য পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে মিলে ‘বিকল্প সার্ভিস ডেলিভারি মেকানিজম’ বা ‘বিকল্প শিফট’ তৈরির কথা ভাবতে হবে।

ইউএনএফপিএ ও আইপাস বাংলাদেশ বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ, উত্তর ও চট্টগ্রাম—এই তিনটি সিটি করপোরেশনে সরাসরি গর্ভনিরোধক সামগ্রী নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ফার্মেসিগুলোতে নারী ফার্মাসিস্ট তৈরি বা নারী ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েট নিয়োগ দিতেও পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নারীরা সরাসরি সেখান থেকে গর্ভনিরোধক বা প্রজননস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারেন।

কেন যেন আমরা পরিবার পরিকল্পনাকে কেবল ‘গরিব মানুষের পদ্ধতি’ বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু শহরগুলোতে যাঁরা বড় বড় উঁচু ভবনে বাস করেন, তাঁদের কথা কি আমরা আদৌ ভাবছি? এ ধারণা থেকে আমাদের বের হতে হবে।

আমরা ২০ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পদ্ধতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও সেই জায়গায় অনেক পিছিয়ে আছি। অথচ প্রসব–পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা আমাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ হতে পারত। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে যেখানে ৮৫ শতাংশ সি সেকশন হচ্ছে, সেখানে পিপিএফপির ওপর আমাদের অনেক বেশি নজর দেওয়া উচিত। পরিবার পরিকল্পনাকে কেবল জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি জীবন রক্ষাকারী হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখতে হবে। এটি ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সক্ষম।

সাইদ রুবায়েত

কান্ট্রি ডিরেক্টর, আইপাস বাংলাদেশ

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মিলে সুন্দর গাইডলাইন তৈরি করলেও বর্তমানে দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সরকারিভাবে আমাদের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বছরে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ দম্পতিকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে সেই সেবার সক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থা আমাদের নব্বইয়ের দশকের অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দেয়।

অতীতের জন্য আক্ষেপ না করে এখন আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তবে সমস্যা হলো, সরকার যতক্ষণ না উপকরণের ব্যবস্থা করছে, ততক্ষণ আমাদের সবার হাত-পা বাঁধা। অনেকেই মনে করতে পারেন যে বেসরকারি খাত হয়তো এই ঘাটতি পূরণ করছে। জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ও খরচ বিবেচনায় সরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পদ্ধতির গুরুত্ব অনেক বেশি।

পরিবার পরিকল্পনা সেবায় ঘাটতি হলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের সংখ্যা বাড়বে। বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মাতৃমৃত্যু রোধ করছিল। এখন যদি আমাদের সেবার পরিধি অর্ধেক হয়ে যায়, তবে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৭৫০ জন মায়ের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে, যার দায়ভার কে নেবে? অথচ আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু লাখে ৭০-এ নামিয়ে আনার এসডিজি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

মো. আবুল কাশেম

সহকারী প্রধান, পরিকল্পনা ইউনিট, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

গ্রামীণ এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবার ক্ষেত্রে আমাদের সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো ও জনবল থাকলেও শহর এলাকায় এর বড় ঘাটতি রয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও আমাদের কিছু অর্জন আছে—আমরা একটি নতুন পরিবার পরিকল্পনা নীতিমালা, কৌশলপত্র ও দুর্গম এলাকার জন্য বিশেষ কৌশল তৈরি করতে পেরেছি। বিশেষ করে শহর এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থাটি একদমই অনুপস্থিত। অথচ সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে প্রায় সাত কোটি মানুষ বসবাস করে।

শহর এলাকায় সেবার মান বাড়াতে সরকারও বেশ সক্রিয়। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি ৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে নির্ধারণ করা যায়, শহর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে প্রদান করা হবে। স্থানীয় সরকারের অধীনে থাকা ১৯০টি ভবনকে নগরস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার একটি প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

আমরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি। যেহেতু সিটি করপোরেশনগুলোর নিজস্ব কোনো পরিবার পরিকল্পনা কাঠামো নেই ও আমাদের জনবলও সাত কোটি মানুষের জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল, তাই সাজিদা ফাউন্ডেশনের মতো সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য জরুরি।

শাহীন আকতার ডলি

নির্বাহী পরিচালক, নারী মৈত্রী

বর্তমানে আমরা পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের সেবার মান নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। এই জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের যে দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি।

আমরা গত জুলাই মাস থেকে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রজেক্ট পরিচালনা করছি। আমরা যখন এই প্রকল্পগুলো নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে চালাতে যাই, তখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় উপকরণের অভাব। সরঞ্জামের অভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেবা দিতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছি।

আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও সরকার আমাদের এই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করত। এখন আমাদের নিজস্বভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। যেহেতু পদ্ধতিটি নতুনভাবে এসেছে, তাই কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম কেবল হাতে গোনা কিছু কিশোর-কিশোরীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে ব্যাপকভাবে প্রতিটি ক্লিনিকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, সচেতনতার অভাব কেবল নিম্নবিত্তদের মধ্যে নয়, উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মধ্যেও রয়েছে। তাই মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত সব স্তরে এই শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

তছলিম উদ্দীন খান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এসএমসি

বাংলাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী সরবরাহে বেসরকারি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশে বর্তমানে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ব্যবহারের ৬০ শতাংশই আসে বেসরকারি খাত থেকে। এই ৬০ শতাংশের মধ্যে এসএমসি তার নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রায় ৯০ শতাংশ উপকরণের জোগান নিশ্চিত করছে।

তবে একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের উদ্যোগ যদি আরও জোরালো না হয়, তবে আমি এই কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত শঙ্কিত। পরিবার পরিকল্পনা এমন কোনো বিষয় নয়, যা একবার করে ফেললেই শেষ হয়ে যাবে। এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

শহরে সেবার সুযোগ থাকলেও গ্রামীণ এলাকার মতো এখানে কোনো সুসংগঠিত কাঠামো নেই। গ্রামে যেমন কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, শহরে তেমন কিছু নেই। মানুষ কেবল হাতের কাছের ফার্মেসি থেকে গর্ভনিরোধক সামগ্রী কিনে নিচ্ছে।

সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে, যাতে শহর অঞ্চলেও গ্রামীণ এলাকার মতো একটি সুসংগঠিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি চালু করা যায়।

জহিরুল ইসলাম

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সিডা

আমরা আগে দেখেছি, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এভাবে নির্ভর করে চলা সম্ভব নয়, আমাদের নিজস্ব তহবিলের ওপর জোর দিতে হবে। এর প্রধান দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। তবে সরকারের ভেতরেই কিছু কাঠামোগত অস্পষ্টতা রয়েছে, যা দ্রুত নিরসন করা জরুরি।

আমরা একটি সংস্কারের কথা শুনছি, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে একীভূত করার ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনাকে একীভূত করার মডেল নিয়েও এখনো স্পষ্টতা নেই। নগরায়ণের ধরনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বস্তিকেন্দ্রিক নগরায়ণে নিরাপত্তাহীনতার কারণে দ্রুত বিয়ে হচ্ছে, যে কারণে প্রজনন হার বাড়াচ্ছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে শহর এলাকায় কার কী ভূমিকা হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ জরুরি। আমি মনে করি, দক্ষ ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে এবং ‘সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ’ মডেলে এগোনো এখন সময়ের দাবি।

সাদিয়া আফরোজ

প্রকল্প ব্যবস্থাপক, নগরস্বাস্থ্য প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

অনেক সময় বলা হয়, শহর এলাকায় মাঠপর্যায়ে কাজ হয় না, কিন্তু আমরা নিয়মিত সবার কাছে যেতে চেষ্টা করছি। তবে শহর ও গ্রামের বাস্তবতা এক নয়—শহরের উচ্চ জনঘনত্ব ও প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ভাসমান জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইপিআই, পরিবার পরিকল্পনা ও কিশোর-কিশোরীদের সেবার জন্য কাউন্সিলর রয়েছেন।

প্রসব-পরবর্তী ও গর্ভপাত-পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা সেবায় আমরা আইপাসের সঙ্গে কাজ করে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু এই সাফল্য মূলত স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতিনির্ভর, যা দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর নয়। দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমাদের কাছে নেই, ফলে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

আমি অনুরোধ করব, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা ও একটি স্থায়ী নীতিমালা নিশ্চিত করা হোক, যাতে শহর এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা টেকসইভাবে শক্তিশালী করা যায়।

আব্দুল হান্নান খান

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, হিস্প বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন

শহর এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, এটি টেকসই হচ্ছে না। আমরা সিস্টেম তৈরি করি, কিন্তু সেটি ভবিষ্যতে কীভাবে টিকে থাকবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিই না। ফলে প্রকল্প শেষ হলেই নগরস্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। তবে আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ারে আমরা শুরু থেকেই এটিকে ভোক্তাকেন্দ্রিক ও স্বল্প ব্যয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালানোর লক্ষ্য নিয়েছিলাম।

তথ্য বিশ্লেষণে আমরা দেখেছি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর শহরে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় তীব্র পতন ঘটেছে। যেখানে প্রতি তিন মাসে প্রায় ১ লাখ সেবা দেওয়া হতো, তা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এডিবি বা সরকারি তহবিল বন্ধ হওয়ার পর সেবা প্রায় ৬০ শতাংশে স্থির আছে।

শহর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়নে সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। অনেক প্রকল্প নাজুক অবস্থায় আছে। বিসিসি কার্যক্রমের ঘাটতিও স্পষ্ট। অনেক স্যাটেলাইট ক্লিনিক আঙিনাভিত্তিক হওয়ায় এর কার্যক্রম সীমিত।

সুপারিশ

  • মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি সেবা পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।

  • দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পদ্ধতির উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

  • প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।

  • প্রকল্পনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব তহবিল বাড়ানো দরকার।

  • স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে পরিবার পরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

  • সিটি করপোরেশনকে নেতৃত্ব দিয়ে সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।

অংশগ্রহণকারী: মর্জিয়া হক, পরিচালক (এমআইএস), পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। মো. ইমাম হোসেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। জাহেদা ফিজ্জা কবির, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সাজেদা ফাউন্ডেশন। ইমরানুল হক, চিফ অব পার্টি, সাজেদা ফাউন্ডেশন। মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজমল হোসেন, প্রোগ্রাম অ্যনালিস্ট–নগর স্বাস্থ্য, ইউএনএফপিএ। সাইদ রুবায়েত, কান্ট্রি ডিরেক্টর, আইপাস বাংলাদেশ। মো. আবুল কাশেম, সহকারী প্রধান, পরিকল্পনা ইউনিট, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। শাহীন আকতার ডলি, নির্বাহী পরিচালক, নারী মৈত্রী। তছলিম উদ্দীন খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এসএমসি। জহিরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সিডা। সাদিয়া আফরোজ, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, নগরস্বাস্থ্য প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আবদুল হান্নান খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, হিস্প বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। মো. ফজলুল হক, উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সাজেদা ফাউন্ডেশন। খুশি রবি দাশ, যুব প্রতিনিধি। সঞ্চালক: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো।

Read full story at source