পুরোনো ভূমিকায় লিটনের নতুন শুরু

· Prothom Alo

প্রশ্নটা এল লিটনের সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে—বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর দলটাই কি টি–টুয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে? মুখে হাসি নিয়ে বিচারের ভারটা তিনি তুলে দিলেন সাংবাদিকদের হাতেই, ‘আপনারাই উত্তর দিতে পারেন, আমি জানি না।’

লিটন শুধু জানেন, দায়িত্বটা বেশ উপভোগ করছেন তিনি। করবেন নাই–বা কেন! তাঁর নেতৃত্বে তো টি–টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ে নতুন একটা ধাপেও পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। টি–টুয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড তাঁরা নতুন করে লিখেছেন গত বছর। এক পঞ্জিকাবর্ষে টি–টুয়েন্টিতে ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো (১২৫.৯৭) স্ট্রাইক রেটেও বাংলাদেশ ব্যাট করেছে গত বছরই। তার মানে টি–টুয়েন্টির রসায়নটা বুঝতে শুরু করেছেন ব্যাটসম্যানরা।

Visit freshyourfeel.com for more information.

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হয়ে যাওয়া এ বছরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত গত বছর টি–টুয়েন্টি অধিনায়কত্ব পান লিটন। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত না খেললেও টি–টুয়েন্টিতে জয়ের সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সব সময়ের সেরা অধিনায়ক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে তিনি।

বিশ্বকাপ না খেলার ঘটনা থেকে ‘মুভ অন’ করেছে বাংলাদেশ, বললেন লিটন

২৯ ম্যাচের অধিনায়কত্ব অধ্যায়ে লিটন জয় পেয়েছেন ১৫টিতে। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর চেয়ে বেশি জয় আছে কেবল মাহমুদউল্লাহর (৪৩ ম্যাচে ১৬টি) আর সাকিব আল হাসানের (৩৯ ম্যাচে ১৬টি)।

মাহমুদউল্লাহ ৪৩ ম্যাচে ও সাকিব ৩৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে সমান ১৬টি করে জয় পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দুজনকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ লিটনের সামনে। বাংলাদেশের হয়ে অন্তত ১০ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে তো জয়ের হারে সবাইকে আগেই ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।  

উইকেট পরীক্ষা করে দেখছেন লিটন দাস

নতুন মেয়াদে ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া–নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়কত্বের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে লিটনের কাঁধেই। সর্বশেষ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার ঘটনা থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়া লিটন তাকিয়ে আছেন ভবিষ্যতের দিকে, ‘আগামী বিশ্বকাপ এশিয়ায় হবে না। ওভাবেই চিন্তাভাবনা করব।’

বিশ্বকাপ ২০২৮ সালে হলেও টি–টুয়েন্টিতে এ বছরই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। জুনে অস্ট্রেলিয়া আর আগস্টে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। লিটন অবশ্য ইতিবাচকতা খুঁজে পাচ্ছেন এখানেও, ‘এটা একটা ইতিবাচক দিক যে একবার খেললে (বিরতি না থাকায়) পরের সিরিজটাও আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে যাবে।’

টি–টুয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে ব্যাটসম্যান লিটনও আছেন কিছুটা স্বস্তিতে। তিন বছর পর ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়েছেন এই নিউজিল্যান্ড সিরিজেই। ওয়ানডেতে মিডল অর্ডারে চলে যাওয়া লিটন টি–টুয়েন্টিতে খেলবেন ৩ নম্বরে।

নিউজিল্যান্ড অনভিজ্ঞ? কী বলছেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম

দলের দুর্বলতার কথা বলতে গিয়ে লিটন অবশ্য বললেন টপ অর্ডারের কথাই। সেই শঙ্কা থেকেই তিনি চান, দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা যেন হাল ধরেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হবে, এটা করতে গেলে দু–একটা উইকেট দ্রুত পড়বেই। আমাদের যে মূল চিন্তার জায়গা, মেহেদী, নাসুম, রিশাদ; তাদের কাছ থেকে একটু ব্যাটিং আশা করি।’

পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই তিন সংস্করণে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লিটন। তবে লম্বা সময়ের জন্য অধিনায়কত্ব করেছেন শুধু টি–টুয়েন্টিতেই। পুরোনো ভূমিকায় নতুন যাত্রার আগে স্বাধীনভাবে দল গোছাচ্ছেন অধিনায়ক। ২০২৮ বিশ্বকাপটাকে পাখির চোখ করেছেন।

আগামী দুই বছরের জন্য তা করতে গিয়ে লিটন দলে খুঁজছেন আরেকটু বৈচিত্র্য আনার সুযোগও।

Read full story at source