কেউ পছন্দ করত না অরিজিতের কণ্ঠ, আর এখন...
· Prothom Alo

আজ ২৫ এপ্রিল ৩৯ বছরে পা দিলেন জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন এই গায়ক। ভক্ত, সহকর্মী ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অনুরাগীরা নানা বার্তায় জানাচ্ছেন ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। তবে এই সফলতার পথটা মোটেও সহজ ছিল না—একসময় নিজের কণ্ঠস্বরকেই পছন্দ করতেন না তিনি।
Visit freshyourfeel.com for more information.
অরিজিৎ সিংএক পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ সিং জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাঁর কণ্ঠ নিয়ে তেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছিল না। তাঁর কথায়, ‘মানুষ আমার কণ্ঠস্বর পছন্দ করত না। আমি যখন ওই ভয়েসে গান গাইতাম, তখন অনেকেই গ্রহণ করত না।’ এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নিজের কণ্ঠের ওপর আরও বেশি কাজ শুরু করেন।
অরিজিৎ জানান, নিজের কণ্ঠের টেক্সচার বদলাতে তাঁকে কঠোর অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বলেন, ‘আমাকে আমার কণ্ঠস্বর বদলাতে হয়েছে। বলা যায়, গলা ভেঙে ভেঙে আজকের টেক্সচার তৈরি করেছি। নিজের ওপর অনেক কষ্ট করেছি, যাতে ভয়েসের প্রজেকশন বদলায়। রাত জেগে নিয়মিত রেওয়াজ করেছি, গলা ক্লান্ত হয়ে যেত, তারপর ঘুমিয়ে পড়তাম।’
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে অরিজিৎ সিং ঘোষণা করেন তিনি আর প্লেব্যাক করবেন না। এখনো তাঁর কিছু প্লেব্যাক করা গান মুক্তি পাচ্ছে। যে যে প্রজেক্টে তিনি সই করেছেন, সেগুলো করবেন, কিন্তু নতুন কোনো প্রজেক্ট আর নেবেন না। প্লেব্যাক থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন। কিন্তু স্বাধীনভাবে গান নিয়ে কাজ করবেন। ছবি বানাবেন। সম্প্রতি তাঁর গাওয়া ‘রানা’ গানটি শ্রোতাদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে।
১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন অরিজিৎ সিং। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০০৫ সালে অংশ নেন ফেম গুরুকুল রিয়েলিটি শোতে। গুর রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারির অনুপ্রেরণায় অংশ নিয়েছিলেন এখানে। সেই প্রতিযোগিতা জেতা হয়নি তাঁর। কিন্তু এই প্রতিযোগিতাই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগে দীর্ঘ সময় মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেন। তৈরি করেন নিজের স্টুডিও। এই সময় অরিজিৎ সিং কাজ করেন শঙ্কর এহসান লয়, মিঠুন, প্রীতম, বিশাল শেখরের মতো শিল্পীদের সঙ্গে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শিখতে থাকেন। এরপর সুযোগ পান এবং বাকিটা ইতিহাস!
প্লেব্যাক ছাড়লেন কেন, জানালেন অরিজিৎ সিংবলিউডে প্রথম বড় সুযোগ পান ‘মার্ডার ২’ ছবিতে, যেখানে তাঁর গাওয়া ‘ফির মহব্বত’ গানটি শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ২০১৩ সালের ‘আশিকি ২’ ছবির গান ‘তুম হি হো’। এই গানটি তাঁকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয় এবং তিনি হয়ে ওঠেন সমসাময়িক বলিউড সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠ।
এনডিটিভি অবলম্বনে