‘সমস্যাটা কেউ জানতেই চাইল না’
· Prothom Alo

গত মৌসুমে তাঁর কোচিংয়েই লিগ শিরোপা জেতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কিন্তু ফলাফলে সন্তুষ্ট না হতে পেরে এবার লিগের মাঝপথে কোচ আলফাজ আহমেদকে ছাঁটাই করে দিয়েছে মোহামেডান। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলফাজ আক্ষেপ করে বলেছেন, কেন এই ব্যর্থতা, সেটা নাকি তাঁর কাছে শুনতেই চায়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ—
Visit esporist.org for more information.
গতবার শিরোপা জিতিয়েও এবার লিগের মাঝপথে সরে যেতে হবে, এমন কিছু কি ভেবেছিলেন?
আলফাজ আহমেদ: এভাবে বিদায় নিতে হবে, সেটা কখনো ভাবিনি। তবে আমার তো কিছু করার নেই, এটা একটা বড় প্রক্রিয়ার বিষয়। ক্লাব কখন কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা একান্তই তাদের বিষয়।
এভাবে চাকরি হারালেন, কোনো আক্ষেপ নেই?
আলফাজ: এটাকে পেশাদারভাবেই নিতে হবে। আমি একজন পেশাদার কোচ হিসেবে কাজ করেছি। সারা বিশ্বেই এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। খারাপ করলে বা পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে কোচ বদল হয়। এখানে আক্ষেপের চেয়ে বড় হলো বাস্তবতা মেনে নেওয়া।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন হয়েও এবার ১২ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট তালিকার ৭ নম্বরে মোহামেডান। এতটা খারাপ করার কারণ কী?
আলফাজ: একটা দল গড়তে অনেক পরিশ্রম ও পরিকল্পনার প্রয়োজন। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলটা পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল। এবার দলবদলের সময় অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। ভালো খেলোয়াড়দের আমরা ধরে রাখতে পারিনি, কারণ তারা যে পারিশ্রমিক চেয়েছিল, ক্লাব তা দিতে পারেনি। এবার নিয়মও বদলে গেছে, তিনজন বিদেশি আর একজন অনূর্ধ্ব-১৯ খেলোয়াড় খেলানোর নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগত। দলটাকে গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত সময় আমাকে দেওয়া হয়নি।
মৌসুমের মাঝপথে মোহামেডান থেকে ছাঁটাই হয়েছেন আলফাজ আহমেদসময় পেলে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে পারতেন?
আলফাজ: তখন ফলাফল অন্য রকম হতে পারত। সবচেয়ে বড় কথা, দলের সমস্যাটা ক্লাবের কেউ জানতেই চাইলেন না। কোনো আলোচনা ছাড়াই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলোচনা করলে হয়তো একটা সমাধান বের করা যেত। আমি তো চেয়েছিলাম অন্তত তাঁরা জানুন যে ঘাটতিটা ঠিক কোন জায়গায়।
ক্লাবের ওপর দলবদলে ফিফার নিষেধাজ্ঞা ছিল। এটা কতটা প্রভাব ফেলেছে?
আলফাজ: দ্বিতীয় লেগের আগে কিছু খেলোয়াড় আমরা নিতে পারতাম, নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। এখন মনে হচ্ছে, সব দায় আমার ওপরই এসে পড়েছে। আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে গিয়েছি।
কোচ হিসেবে আপনার পাওনা কি বুঝে পেয়েছেন?
আলফাজ: আমরা যারা কোচিং স্টাফ ছিলাম, নিজেদের বেতনের কথা কখনো মুখ ফুটে ক্লাবকে বলিনি। আমার সাত মাসের টাকা এখনো বকেয়া আছে। নতুন কমিটি এসে খেলোয়াড়দের কিছু টাকা দিলেও আমাদের পাওনা এখনো বাকি।
আলফাজ আহমেদখেলোয়াড়দের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল?
আলফাজ:খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সব সময়ই দারুণ। তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। তবে মূল সমস্যাটা কোথায় ছিল, সেটা এখন বললে হয়তো ক্লাবেরই ক্ষতি হবে। আমি আট মাস হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছি, কিন্তু এখনো নিজের পারিশ্রমিকটাও পাইনি। ক্লাব যদি আমার দেনা পরিশোধ না করে, তখন হয়তো সময় বুঝে মূল ঘটনাটা বলব।
মোহামেডান যদি আবার কখনো আপনাকে ডাকে, ফিরবেন?
আলফাজ: যত দিন সুস্থ আছি, দেশের প্রয়োজনে বা অন্য কোনো ক্লাবের প্রয়োজনে আমি মাঠে থাকব। শুধু মোহামেডান কেন, যে কেউ ডাকলে আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।
‘বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও দেখি’