বইয়ের ঘ্রাণে যে তথ্য লুকিয়ে আছে
· Prothom Alo
বইপ্রেমীদের অনেকেই নতুন বই খুলেই ঘ্রাণ নিতে পছন্দ করে! কাগজ, কালি আর আঠার ভেতরে থাকা নানা উপাদান মিলে তৈরি হয় সেই পরিচিত ঘ্রাণ। আবার পুরোনো বইয়ের গন্ধ হয় একেবারেই অন্য রকম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাগজের ভেতরের লিগনিন ভেঙে গিয়ে হালকা মিষ্টি, অনেকটা ভ্যানিলার মতো সুবাস তৈরি করে। তাই পুরোনো লাইব্রেরিতে ঢুকলেই আমরা যেটাকে ‘বইয়ের গন্ধ’ বলি, সেটারও আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। এই ঘ্রাণ নিয়ে গবেষণাও হয়েছে। কারণ, এতে বইয়ের বয়স সম্পর্কেও একটা ধারণা পাওয়া যায়।
Visit tr-sport.bond for more information.
গন্ধ শুঁকে বইয়ের বয়স নির্ধারণ
বিজ্ঞানীরা এখন বইয়ের ঘ্রাণ বিশ্লেষণ করে সেটি কত পুরনো বা সেটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কি না, তা বুঝতে পারেন। একে বলা হয় ‘হেরেডিটেমোলজি’। ২০০৯ সালে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের গবেষকরা একটি ‘হেরিটেজ স্মেল হুইল’ তৈরি করেছিলেন। এর মাধ্যমে লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত প্রাচীন বইগুলোর রাসায়নিক অবস্থা পরীক্ষা করে সেগুলোর সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
যে পাঁচ অঞ্চলে কম্পাস ঠিকভাবে কাজ করে নাঘ্রাণ ও স্মৃতির অদ্ভুত সংযোগ
আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশটি ঘ্রাণ নিয়ন্ত্রণ করে, তার সাথে স্মৃতি ও আবেগের কেন্দ্রের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। একে বলা হয় ‘প্রুস্ট ফেনোমেনন’। এ কারণেই পুরনো বইয়ের ঘ্রাণ আমাদের দ্রুত শৈশবে বা কোনো বিশেষ স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
লাইব্রেরির ঘ্রাণ
যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি প্রকল্পে কাজ করছেন যেখানে বিখ্যাত লাইব্রেরিগুলোর বিশেষ ঘ্রাণকে কৃত্রিমভাবে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ।
লেখা নিয়ে আরও
একেকজন লেখকের লেখার ধরন একেক রকম। লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে যেমন লেখার জন্য ‘মুড’-এর অপেক্ষা করতে চাইতেন না কখনো। আর লেখার ধরনও ছিল কিছুটা অপ্রচলিত। তিনি প্রতিদিন ভোরবেলা উঠে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লিখতেন! প্রতিদিন কত শব্দ লিখলেন, তা গুনেও রাখতেন আলাদা কাগজে। কোনো দিন বেশি লিখতেন, কোনো দিন হয়তো কম, কিন্তু হিসাবটা ঠিকই রাখতেন।
প্রজাপতিকেও কেন কিছু মানুষ ভয় পায়