ইবনে বতুতার পায়ের ছাপ
· Prothom Alo

ধবধবে সাদা রঙের একটা শহর। অলিগলি তস্য গলি সবই সাদা রং করা। দেখে কেন জানি মনে হচ্ছে হিজরি ৭০০ সনের আন্দালুসিয়ার কোনো একটা বন্দরের তীর ধরে গড়ে উঠেছে লোকালয়। আমি যতই সদর রাস্তা ধরে এগোচ্ছি, ততই সাগর আমার কাছে চলে আসছে। ঢালু একটা পথ সোজা নিচে নামতে নামতে সাগরে নেমে গিয়েছে যেন। কিন্তু আমি তো অত দূরে যাব না। আমি পথিমধ্যেই বাঁয়ে ঘুরে যাব। এর আগে পথের মাধুর্য যতখানি দেখা যায় দেখে নিই। খোদা–তাআলা আর কিছু না দিলেও দুচোখ ভরে দুনিয়া দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই যে পথের পাশে আলস্য ভরে সারি সারি সাদা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, এরাও নিশ্চয়ই পথিক দেখে। দেখে দেখে চোখ জুড়ায়। কারণ, এদের আশপাশেই এমন একজন ছিলেন, যিনি দুনিয়া দেখে চোখ ভরিয়েছেন। আমিও কি তাঁর মতো নই? আমিও কি দুনিয়াদারি ছেড়ে দিয়ে দুনিয়া দেখছি না!
Visit casino-promo.biz for more information.
সাদা সাদা বাড়ির মাঝে হলুদ বর্ডারে নানা লতাপাতা আর তার নিচে কাঠের জাফরি দেওয়া জানালা, জানালার সামনে ঝুল–বারান্দা। শীত চলে আসা একটা বিকেলের তেরচা মিষ্টি আলো তাতে এসে পড়েছে। এ রকম সারি সারি বাড়ির বহর দেখতে সাগর থেকে উড়ে উড়ে গাংচিল চলে এসেছে। কে জানে হয়তোবা বাড়ির কোনো এক বাসিন্দাকে দেখতে এসেছে। আমিও যাচ্ছি তাঁকে দেখতেই। আর তখনই রাস্তার মানুষ, হাঁকডাক দেওয়া দোকানদার, পথিক এদের সবার অস্তিত্ব আমার কাছে ম্লান হয়ে আসে। আমার কাছে মুখ্য এখন শুধু একজন। যাঁর পায়ের ছাপ মিশে আছে এই পথে।
আমি চট করে বাঁয়ে ঘুরে সেই গলিটা ঠিকই চিনে নিই। মরক্কোবাসী এই গলি আর তার আশপাশের গলিকে বলে মেদিনা। মেদিনা মানে হলো পুরোনো শহর। তাঞ্জিয়ের শহরের এই মেদিনা থেকেই দুনিয়ার ধুলা পায়ে মাখতে তিনি হিজরি ৭২৫ সনে বেরিয়ে পড়েন। আর আমি আজকের সময়ে এসেছি তাঁরই আবাস দেখতে।
এই যে পথের পাশে আলস্য ভরে সারি সারি সাদা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, এরাও নিশ্চয়ই পথিক দেখে। দেখে দেখে চোখ জুড়ায়। কারণ, এদের আশপাশেই এমন একজন ছিলেন, যিনি দুনিয়া দেখে চোখ ভরিয়েছেন। আমিও কি তাঁর মতো নই? আমিও কি দুনিয়াদারি ছেড়ে দিয়ে দুনিয়া দেখছি না!ইবনে বতুতার সমাধির আশেপাশের গলি
মেদিনায় এখন রমরমা বাজার বসে গিয়েছে। সে মরক্কোর সব মেদিনাতেই বসে। তবে যেখানে পর্যটকদের আসা–যাওয়া, সেখানে মহল্লাবাসীর দরকারি জিনিস ছাড়াও মনোরঞ্জনের জন্য আকর্ষণীয় আরও অনেক জিনিস বিক্রি হয়। গলিতে ঢুকতেই মিলল ফলের দোকান। অনেক বিক্রেতা পথেই বসে পড়েছেন ফল নিয়ে। এরপর এল মসলার দোকান। মরক্কোর খাবার খেতে অতি উপাদেয়। তাতে প্রায় সব মসলারই প্রয়োজন হয়। এখানে পাশাপাশি শুকনা হলুদ, আদা, জিরা, ধনে এবং সব ধরনের গরমমসলা রাখা। মসলার দোকানের পর এল চায়ের দোকান। এত ধরনের চা পাশাপাশি রাখা যে খেই হারিয়ে ফেলতে হয়। এর পাশে হাতে বানানো সাবান। এসবের পাশে পোশাক, ব্যাগ, জুতা ইত্যাদির দোকান। কিন্তু আমি এসব দেখছি কেন? আমি কেন খেই হারিয়ে ফেলছি? আমার তো একজনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা। এসব চমকদার জিনিস দেখে পথভ্রষ্ট হওয়ার অবকাশ নেই। এখান থেকে পালিয়ে আমি মহল্লার ভেতরে চলে গেলাম। একটা রুটির দোকানে জিজ্ঞেস করলাম তাঁর ঠিকানা। তারা পথ দেখিয়ে দিয়ে বলল, ‘রুটি নিয়ে যাও।’ আমি বললাম, ‘জানোই তো, যাঁর কাছে যাচ্ছি তিনি এসব খেতেটেতে পারেন না। আমি ফেরার পথে নিজের জন্য নেব নিশ্চয়ই।’
এদিকে দিনের আলো ফুরিয়ে যাচ্ছে। তিনি আবার রাগ করে না বসেন। কোন কুক্ষণে যে বাজারের সওয়াল করতে গিয়েছিলাম। এখন দেরি হয়ে গেল। মহল্লার বাচ্চারা সরু গলিতেই ফুটবল খেলছে। আর এসবের মধ্যেই আমি দ্রুতপায়ে হাঁটছি গলি দিয়ে। হঠাৎ সাদা জোব্বা আর সাদা টুপি পরিহিত একজন বুজুর্গের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম। আমি আসলেই চোখ কপালে তুলে হাঁটছিলাম। বুজুর্গ আবার না আমায় ধিক্কার দেন। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না। ফিরে তাকালেনও না। আমি লজ্জিত ভঙ্গিতে আবার চললাম আঁকাবাঁকা গলির সরু পথ ধরে। এ গলির পুরোনো বাড়িগুলো আর এর দরজার ইতিহাস জানার সময় আমার নেই। আমি আগে তাঁর কাছে পৌঁছাতে চাই। আরেকটু এগিয়ে চড়াই দিয়ে উঠতে হচ্ছে। এই গলির বাঁকে বাঁকে সিঁড়ি করা আর পাশাপাশি প্রতিটি বাড়ির নিচের দিকের অংশ হালকা নীল রং করা আর ওপরের অর্ধেক সফেদ রঙে আবৃত। কিছু কিছু বাড়ির সামনে ফুলের ছোট ছোট টব রাখা। তাতে ফুল ফুটেছে। কিন্তু এসব দেখারও আমার সময় নেই। আলো থাকতেই তাঁর কাছে পৌঁছাতে হবে। এরপর যদি না ঢুকতে দেয়!
মাগরিবের ওয়াক্তের আলো–আঁধারিতে পথ চিনতে ভুল হয়, সাদা বাড়িগুলোকে আমার বেহেশতের পান্থশালা বলে ভ্রম হয়, সরু গলির সিঁড়িকে আমার নিজের মহল্লার সিঁড়ি বলে মনে হয়। আশপাশে কেউ নেই, প্রতিবেশীদের দুয়ার বন্ধ। ঝপ করে এখানে সন্ধ্যা নেমে এল, নেমে এল গাঢ় ধূসর বেলা। আমার এখন কাঁদোকাঁদো অবস্থা। কীভাবে দেখা পাব তাঁর? তিনি তো আমাকে চেনেনই না। মুসাফিরির আত্মীয়তার খাতিরে আমি মনেপ্রাণে চাই তিনি আমায় চিনে নিক।
এত চেষ্টা করেও তাঁর দুয়ার আমার জন্য বন্ধ। আমি প্রতিবেশীর বাড়ির দিকে অসহায় চোখে তাকাই। তার পেছন আর সামনের বাড়ি গাছপালার চাদোয়ায় সুসজ্জিত। বাড়ির সামনে গোলাপি বাগানবিলাস ফুটেছে আর ছোটখাটো ডালিমগাছে ফুটেছে লাল ফুল। আমি জানি না কাকে ডেকে তাঁর দুয়ার খোলাব।
অনেক ডানে-বামে ঘুরে, অনেকগুলো সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে হাঁপাতে হাঁপাতে, দুরুদুরু বুকে একসময় ঠিক যখন তাঁর দরজার সামনে পৌঁছালাম, তখনই মাগরিবের আজানের সুরধ্বনি এল মসজিদ থেকে। হায় খোদা, এই মাগরিবির কাছে আসার জন্য মাগরিবের আজানই কি তবে শ্রেষ্ঠ সময়! আমার জানা নেই।
মুসাফিরি কেউ কাউকে শেখাতে পারে না, আপনাতেই রক্তে বয়ে যায়। যে মুসাফিরির পেয়ালা তুলে নিয়েছে ঠোঁটে, তার ইহজীবন, পরজীবন সব লিখে দিতে হয় পথকে, সব সম্পদ জমা রাখতে হয় পথের সরাইখানায়, সব উপার্জন খরচ হয়ে যায় পথকে আপন করে পেতে।
এই সন্ধ্যায় তেমন এক মুসাফিরের সন্ধানে এসেছি। পথে পথে কাটে যাঁর জীবন তিন তো আরেক পথিকের খোঁজ করতেই পারেন। কত অচেনা পথ, অলিগলি, ঝকমকে শহর, নিরুপদ্রব গ্রাম, মরুভূমির ঝড়বৃষ্টি দেখিয়ে তবে এই পথের দেখা পেয়েছি, সে আমিই জানি।
একটি সুনসান মহল্লার মাঝে এক কামরার একটি ঘর হলো তাঁর আবাস। মহল্লার রাস্তার বাতি জ্বলে উঠেছে আর মাথার ওপরে আকাশ তখনো নীল আভা দিচ্ছে। এত চেষ্টা করেও তাঁর দুয়ার আমার জন্য বন্ধ। আমি প্রতিবেশীর বাড়ির দিকে অসহায় চোখে তাকাই। তার পেছন আর সামনের বাড়ি গাছপালার চাদোয়ায় সুসজ্জিত। বাড়ির সামনে গোলাপি বাগানবিলাস ফুটেছে আর ছোটখাটো ডালিমগাছে ফুটেছে লাল ফুল। আমি জানি না কাকে ডেকে তাঁর দুয়ার খোলাব।
একটা আফ্রিকান ছেলে দেখি এদিকেই আসছে। মনে হয় ট্যুরিস্ট। কারণ, মরক্কোর মানুষদের বলা হয় মাগরিবি, মানে যারা দেখতে আরব দেশের মানুষদের মতো। শুধু মরক্কোই নয় তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মিসরের মানুষদেরও মাগরিবি বলা হয়। এই ছেলেটিও আমার মতোই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। আমি দেখা না করে যাব না। ছেলেটি এসেছে সুদান থেকে আর এখানকার আরবি ভাষা জানে। এখানকার আরবি ভাষা আবার মধ্যপ্রাচ্যের আরবি ভাষা থেকে খানিকটা আলাদা।
প্রতিবেশীর বাড়ির কড়া নাড়তেই একজন মাঝবয়সী নারী দরজা খুললেন। ছেলেটি আরবিতে বাতচিত করে আমাকে বলল, এই বাড়ির দেখাশোনা করেন একজন অন্ধ বৃদ্ধ। তিনি আবার সব সময় থাকেন না। কখন থাকেন তাও কেউ জানে না। ভদ্রমহিলা আমাকে পরদিন এসে খোঁজ নিতে বললেন। এত বিখ্যাত একজন মানুষের জন্য এত ছোট একটা ঘর বরাদ্দ দেওয়া, কেউ তাঁকে দেখতে আসে না জেনে খুব অভিমান হলো। এই দুনিয়ায় চিঠি, ই–মেইল, মেসেজ পাঠানোর ব্যবস্থা আছে; কিন্তু অভিমান পাঠানোর ব্যবস্থা নেই। যদি মাগরিবের আকাশে ছড়িয়ে পড়া লালিমার মতো অভিমান ছড়িয়ে দেওয়া যেত, তবে নির্ঘাৎ পুরো পৃথিবীর আকাশ ঠিক এই মুহূর্তে অভিমানে ছেয়ে যেত আর জেনে যেত আমার খুব অভিমান হয়েছে। কিন্তু কার সঙ্গে অভিমান করব! তিনি তো আমায় চেনেনই না।
আমি হতাশ মুসাফির, আমার অভিমানে সত্যিই কি তাঁর কিছু এসে যায়! কিন্তু আমার তো অনেক কিছু এসে যায়।
তাঁর ঘরের দেখভাল করা ব্যক্তির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আমি তাঁর সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছি এই খানিক আগে। কিন্তু তিনি আমাকে একটুও বকেননি। আর আমিও তাঁকে চিনতে পারিনি। এখন বন্ধ দরজার আর একফালি একটা ঘর বাইরে থেকে দেখে চলে যেতে হবে?ইবনে বতুতার সমাধির আশেপাশের বাজার
প্রতিবেশী নারীটি তখনো দরজা ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠলাম, ‘তাঁর ঘরের দেখভাল করা ব্যক্তির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আমি তাঁর সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছি এই খানিক আগে। কিন্তু তিনি আমাকে একটুও বকেননি। আর আমিও তাঁকে চিনতে পারিনি। এখন বন্ধ দরজার আর একফালি একটা ঘর বাইরে থেকে দেখে চলে যেতে হবে?’
আমাকে এখন একজন অন্ধ ব্যক্তিই আলো দেখাতে পারেন। তাঁর রওজায় আলো জ্বালাতে পারেন। কোথায় পাব সেই অন্ধ ব্যক্তিকে?
পরদিন সকাল হতেই আবার মেদিনায় যাই। আমার আর তর সইছে না। এ–গলি ঘুরি, ও–গলিতে গিয়ে তড়পাই। বেকারির দোকানদারের সঙ্গে ভাব জমাই। চিজ পাই এর রেসিপি ধার করি। একসময় হাঁটতে হাঁটতে এ শহরের দুর্গের কাছে পৌঁছে যাই। কোথাও চড়াই কোথাও উতরাই পেরিয়ে, কামান-গোলা পাশ কাটিয়ে দুর্গের একেবারে ওপরের তলায় এসে যাই। এখান থেকে ভূমধ্যসাগরের নীল হাতছানি দিয়ে ডাকছে৷ আর তার সঙ্গে কী এক তৃষ্ণায় মিশে গিয়েছে জিব্রাল্টার প্রণালি। রং নীল তবু মনে হচ্ছে এরাও তাঁকেই খুঁজছে, যাঁকে আমি খুঁজি। এই সাগরে কি তিনি নাও ভাসিয়েছিলেন? নিশ্চয়ই ভাসিয়েছিলেন, না হলে এরা এমন কাতর নয়নে কেন চেয়ে থাকবে আমার দিকে। যেন দেখা না হওয়ার বেদনা এরাও কিছুটা নিতে চায়।
এদের ছেড়ে আবার তাঁর ছোট ঘরের কাছে যাই; কিন্তু এবারও দুয়ার বন্ধ পাই। কখন যে বুজুর্গের দেখা পাই, কখন যে তিনি চাবি নিয়ে আসেন, সে তিনিই জানেন।
এই শহরে আমি একটা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করেছি তিন দিনের জন্য। সাবেকি আমলের সাবেকি বাড়ির একটা অংশ বুঝিয়ে দিতে দিতে বাড়ির মালিক ছেলেটি বলল, ‘জানো, আমারও মুসাফির হওয়ার বাসনা ছিল। কিন্তু তুরস্কে গিয়ে কী যে হলো, এক আমেরিকান মেয়ের মায়ায় জড়িয়ে গেলাম, সংসার শুরু করলাম। আর হলো না পৃথিবীর পথে পথে পা ফেলা।’ আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি, ‘আমি কারও মায়ায় জড়াইনি বা কেউ আমার মায়ায় জড়ায়নি, তবু পৃথিবীর পথে পথে আমিই কি তাঁর মতো হাঁটতে পেরেছি?’
দুপুরের পর আরেক ধারের সমুদ্রসৈকত দেখতে যাই; কিন্তু একটুও শান্তি পাই না। যাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তাঁর দেখাই পেলাম না। চোখজুড়ানো পান্না, সবুজ সাগরের জল, এর পেছনে গাঢ় সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য এখন আমার কাছে ফিকে লাগে।
আবার গেলাম তাঁর ডেরায়। আগের মতোই নীরবতা ছেয়ে আছে। হঠাৎ একজনকে দেখি এই গলি ধরে আসছে। জিজ্ঞেস করলাম বৃত্তান্ত। সে কিছু জানে না। দুনিয়া ঘুরে আসা মুসাফিরকে কেন এত অবহেলা এ দেশের মানুষের! ঘর করে দিয়েছে তাও আবার কয়েক হাত কুঠুরির মতো। তবে কি লোকে যা বলে তা–ই সত্য, সাড়ে তিন হাত জায়গা ছাড়া অন্য কিছু অর্থহীন!
পরদিন ভোরে গেলাম, দুয়ার বন্ধ, প্রতি ওয়াক্তে যাই দুয়ার বন্ধ। আবার পরের দিন আসি এখানে। সিঁড়িতে বসে থাকি, প্রতিবেশীর সঙ্গে আলাপ করি। পথ আমাকে ধোঁকা দেয় না। এই সরু গলি আর কয়েক হাত লম্বা ঘর আমার ঠিকানা হয়ে গিয়েছে যেন।
অলিগলি ঘুরে সেই অন্ধ বুজুর্গকে ঠিক খুঁজে পেলাম মসজিদের কাছে। আরজি জানালাম—‘দেখতে চাই আমার চির মুসাফিরকে।’ যাঁর কাছে সংসারজীবন তুচ্ছ, মুসাফিরির পাকে পড়ে যে পুরো জীবন কাটিয়েছেন পথে। আমার সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়া খুব জরুরি। বন্ধ দরজার ওপাশ থেকে তো কথা বলতে পারি না।ইবনে বতুতার সমাধি
তাঁকে নিয়ে এ তল্লাটে কোনো উন্মত্ততা নেই, তাঁর ভবন সাধারণের চেয়ে সাধারণ, তাঁর কাছে কেউ বসে থাকে না, দোয়া পড়ে না, মোনাজাত করে না। অথচ দুনিয়ার সব কোনায় তিনি পায়ের ছাপ রেখে গিয়েছেন, নিজের মুসাফিরির ইতিহাস লিখে গিয়েছেন বইয়ের পাতায়। তবে সবার কেন এত অবহেলা? মুসাফিরের ভাগ্যে কি অবহেলা লিখে দেন পরওয়ারদিগার হেলাফেলায়?
তাঁর সঙ্গে দেখা না করে আমি এই শহর ছাড়ছি না। আমার মুসাফিরির পেয়ালা পরিপূর্ণ না করে আমি নড়ছি না। অলিগলি ঘুরে সেই অন্ধ বুজুর্গকে ঠিক খুঁজে পেলাম মসজিদের কাছে। আরজি জানালাম—‘দেখতে চাই আমার চির মুসাফিরকে।’ যাঁর কাছে সংসারজীবন তুচ্ছ, মুসাফিরির পাকে পড়ে যে পুরো জীবন কাটিয়েছেন পথে। আমার সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়া খুব জরুরি। বন্ধ দরজার ওপাশ থেকে তো কথা বলতে পারি না। সে আমাকে চিনতে পারে না, জানতে পারে না।
বুজুর্গ আমায় নিয়ে চললেন আমার সফরের কিনারায়, যেখান থেকে তাঁকে দেখা যায়। দুয়ার খোলার আগে যেমন আমার হৃৎপিণ্ড সজোরে ঘণ্টা বাজিয়ে যাচ্ছিল, তেমনি দুয়ার খোলার পরও মনে হচ্ছিল সে আওয়াজ আসমান জমিন ভেদ করে সব জায়গায় পৌঁছে যাবে। কিন্তু বাইরে আর তাঁর রওজায় সুনসান নীরবতা। যেমন নীরবতা নামে সাঁঝবেলায়, যেমন নীরবতা নামে ঝড়ের পরে।
সাধারণ ঘরের মাঝে সাধারণ সমাধি তাঁর। এত ছোট ঘর যে দুজন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়ালে ঘর ভরে যাবে। আর দেয়াল ঘেঁষে তাঁর রওজা। সাধারণ মখমল কাপড় দিয়ে ঢাকা। আর কোথাও তাঁর রেখে যাওয়া কোনো চিহ্ন নেই।
আমি দ্বিধায় কাছে যাই। ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছা জাগে না। কিছু মানুষ আর তাদের স্মৃতি দূর থেকেই প্রিয় হয়ে থাকে। তাঁর স্মৃতিও এমনই থাকুক আমার মনে।
কেউ আসে না, কেউ দেখে না, কেউ জানে না বলে কি তিনি শান্তিতে আছেন?
দেশ-বিদেশ ঘুরে তাঁর দেশে এসেছি তাঁকে একনজর দেখব বলে, কিছু কথা কইব বলে। তারপর মুসাফিরির মালা গলায় পরে নেব আবার।
তিনি ইবনে বতুতা। তাঁকে চিনে নিতে হয়। অনন্য চির মুসাফির ইবনে বতুতা। আমি চাই তিনি আমাকে চিনুক, আমাকে জানুক। আমার এই আকুলতা কেউ তো বুঝুক!
ইবনে বতুতার সমাধি ভবনের সামনে লেখকমক্কায় বসে বতুতা সিদ্ধান্ত নেন যে এবার ভারতের দিকে সফর করবেন এবং যদি ভারতের শাসক কাজ দেন তাহলে তিনি সেখানে কাজ করবেন। সৌদি আরব থেকে তিনি তাই তুরস্কের আনাতোলিয়ার দিকে রওনা দেন। আনাতোলিয়া তাঁর কাছে এতই ভালো লাগে যে তিনি সেখানকার ২৫টির মতো শহর ঘুরে দেখেন।
(আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে বতুতার জন্ম ১৩০৪ সালে মরক্কোর তাঞ্জিয়ের শহরে। বতুতার পরিবার ছিল বিচারক বা কাজি পরিবার এবং মরক্কোর ব্যারব্যার গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে নিজ শহর ত্যাগ করেন। সে সময়ে ভ্রমণ করা আজকের দিনের মতো সহজ ছিল না। মূলত পায়ে হেঁটে, উট বা ঘোড়ায় চড়ে, সমুদ্রপথে জাহাজে করে পুরো পথ পাড়ি দিতে হতো। ইবনে বতুতা মরক্কো থেকে সড়কপথে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়ায় পৌঁছান। সেখানে দুই মাস অবস্থান করেন এবং প্রথমবারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে কোনো কারণে বনিবনা না হওয়ায় সেই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তিনি মিসরের পথে রওনা হন। মিসরে তিনি মামলুক সুলতানের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সেখানে শেখ বোরহানউদ্দিন নামক একজন ধার্মিক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন এবং বোরহানউদ্দিনই আবিষ্কার করেন যে বতুতা একজন একনিষ্ঠ পর্যটক এবং আরও বলেন যে ভারত ও চীন দেশে তাঁর ভাইয়েরা আছে। বতুতা যেন সেদিকে ভ্রমণ করেন এবং চাইলে তাঁর ভাইদের কাছ থেকে সহায়তা নিতে পারেন। মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া হয়ে কায়রো পৌঁছান বতুতা। একটু ঘুরে ঘুরে মক্কা যাওয়ার বাসনা ছিল তাঁর। সেখান থেকে দামেস্ক হয়ে জেরুজালেম, বেথেলহাম ঘুরে অবশেষে মক্কায় পৌঁছাতে তাঁর সময় লাগে প্রায় ১৬ মাস। হজ পালন করে ইবনে বতুতা মদিনায় চলে যান। এবং সেখান থেকে ইরাক, ইরান ও তুরস্ক সফর করেন।
ইবনে বতুতা সাধারণত কাফেলা বা দলের সঙ্গে ভ্রমণ করতেন। পথে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দস্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি দলের সঙ্গে ভ্রমণ করতেন।
দ্বিতীয়বার হজ পালনের উদ্দেশ্যে বতুতা আবার মক্কায় চলে যান। সেখান থেকে ইয়েমেন হয়ে সোমালিয়ায় পৌঁছান।
সোমালিয়া থেকে জলপথে সোয়াহিলি অঞ্চল ধরে কেনিয়ার মোম্বাসায় পৌঁছান। এবং সেখান থেকে চলে যান তানজানিয়ায়। তানজানিয়ায় কিছুদিন অবস্থান করার পর ওমান ও হরমুজ প্রণালি পার হয়ে আবার মক্কায় পৌঁছান তৃতীয়বার হজ পালনের উদ্দেশ্যে।
মক্কায় বসে বতুতা সিদ্ধান্ত নেন যে এবার ভারতের দিকে সফর করবেন এবং যদি ভারতের শাসক কাজ দেন তাহলে তিনি সেখানে কাজ করবেন। সৌদি আরব থেকে তিনি তাই তুরস্কের আনাতোলিয়ার দিকে রওনা দেন। আনাতোলিয়া তাঁর কাছে এতই ভালো লাগে যে তিনি সেখানকার ২৫টির মতো শহর ঘুরে দেখেন। সেখান থেকে তিনি প্রথমে যান ইজনিক ও পরে বুরসা। এসব স্থানের শাসকদের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে এবং তিনি তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন মূল্যবান উপহার পেতে থাকেন। আর এভাবেই কিছু সম্পদ ও দাসদাসীর মালিকও হয়ে যান।
এরপর বতুতা সমুদ্রপথে ক্রিমিয়া পেনিনসুলা হয়ে রাশিয়ায় চলে যান। উত্তর সাইবেরিয়ার এমন কিছু দুর্গম স্থানে ঘুরে বেড়ান, যে এলাকা সব সময়ই বরফে আচ্ছাদিত থাকে এবং কুকুরচালিত স্লেজ গাড়ি ছাড়া পথে অন্য কিছু চলে না। হেঁটে হেঁটে পথ পাড়ি দেওয়ার এখানে প্রশ্নই আসে না। এই দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল উজবেক খানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। ইবনে বতুতা মূলত মুসলিম দেশ বা মুসলিম শাসকদের ভূমি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছিলেন। এর মাঝে তুরস্কে বিয়ে করেছিলেন এবং স্ত্রী ও দাসদাসী নিয়ে সফর শুরু করেন।
১৩৩২ সালের দিকে তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হলে তাঁরা আবার তুরস্কে ফেরত আসেন। এখান থেকে ইবনে বতুতা পরিকল্পনা করেন আরও দূরের দেশে যাওয়ার।
তুরস্ক থেকে ক্যাস্পিয়ান সাগর ও আরাল সাগর পার হয়ে তিনি অবশেষে পৌঁছান বুখারা শহরে। সেখান থেকে সমরখন্দে যান মঙ্গোল শাসকের সঙ্গে দেখা করতে। তবে সমরখন্দে মঙ্গোল শাসকদের ধ্বংসযজ্ঞ বতুতাকে পীড়া দেয়।
১৩৩৩ সালে সমরখন্দ থেকে সড়কপথে তিনি দিল্লি গিয়ে পৌঁছান। দিল্লি পৌঁছে শাসক মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
দিল্লি থেকে চীন দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর পথে ডাকাতের কবলে পড়েন। ডাকাতেরা তাঁর সবকিছু লুট করে এবং তাঁকে অপহরণ করে বন্দী করে। এই ঘটনা ঘটে ভারতের গুজরাটে। সেখান থেকে তাঁকে কেরালায় পাঠানো হয়। কেরালায় তখনো আরব বণিক ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করেনি।ইবনে বতুতার সমাধির আশেপাশের গলিতে দোকান
মুহাম্মদ বিন তুঘলক সেসময়কার মুসলমান শাসকদের মধ্যে ধনী শাসকদের একজন ছিলেন। তিনি ইবনে বতুতাকে নিজ দরবারের কাজি বা বিচারক পদে নিয়োগ দান করেন এবং ইবনে বতুতা নিষ্ঠার সঙ্গে ছয় বছর সেখানে কাজ করেন। তবে ভারত উপমহাদেশ হিন্দু অধ্যুষিত বলে ইসলামি শাসন পুরোপুরিভাবে কায়েম করা সম্ভব নয়, তাই তিনি হজ পালনের উদ্দেশে দিল্লি ত্যাগ করেন।
দিল্লি থেকে চীন দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর পথে ডাকাতের কবলে পড়েন। ডাকাতেরা তাঁর সবকিছু লুট করে এবং তাঁকে অপহরণ করে বন্দী করে।
এই ঘটনা ঘটে ভারতের গুজরাটে। সেখান থেকে তাঁকে কেরালায় পাঠানো হয়। কেরালায় তখনো আরব বণিক ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করেনি। পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ইবনে বতুতার প্রায় দুই শ বছর পর ভারতে প্রবেশ করেন।
কেরালার শাসকের আতিথেয়তায় কিছুদিন থেকে চলে যান কর্ণাটকে। সেখানকার মুসলমান রাজার অতিথি হিসেবে থাকেন ও রাজার উপহার দেওয়া দুটি জাহাজ নিয়ে মক্কার উদ্দেশে রওনা করার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু কিছুদূর যেতে না যেতেই দুর্ঘটনায় দুটি জাহাজই হারান। আবার ফিরে আসেন কর্ণাটকে। সেখান থেকে চলে যান মালদ্বীপে।
মালদ্বীপের জনগণ তখন সদ্য মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেছে। পবিত্র কোরআন শরিফের সঠিক অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করার কেউ ছিল না। মালদ্বীপের সুলতান তাঁকে দেশের প্রধান কাজি বা বিচারক হিসেবে নিয়োগ দান করেন। ইবনে বতুতা মালদ্বীপে ছিলেন প্রায় নয় মাস। এ সময়ে তিনি চারজন স্থানীয় নারীকে বিবাহ করেন। মালদ্বীপে বিবাহ করলে পাত্রকে টাকাপয়সা ও মূল্যবান রত্ন উপহার দেওয়া হতো।
ইবনে বতুতা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণকালে বেশ কয়েকবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে সেই দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য দেশের উদ্দেশে রওনা করেন। মালদ্বীপ থেকে শ্রীলঙ্কা যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়ে মুক্ত হয়ে তবেই সমুদ্রপথে যাত্রা করেন।
শ্রীলঙ্কায় কিছুদিন অবস্থান করার পর তিনি দক্ষিণ ভারতের মাদুরাই শহরে যান। মাদুরাইয়ের মুসলমান রাজার সহায়তায় তিনি চীন দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে মাদুরাই থেকে প্রথমে তাঁর জাহাজ নোঙর ফেলে মালদ্বীপে এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। ইবনে বতুতা বাংলাদেশে পা দেন ১৩৪৫ সালে।
চট্টগ্রাম থেকে তিনি নদীপথে সিলেট চলে যান হজরত শাহজালাল (র.) এর সাক্ষাতের নিমিত্তে।
সিলেট থেকে ইবনে বতুতা আসামের দিকে চলে যান।
আসাম থেকে আবার সমুদ্রপথে বতুতা সুমাত্রা, জাভা হয়ে ফিলিপাইনে পা ফেলেন। কিন্তু এখানে বেশি দিন থাকার উদ্দেশ্য ছিল না তাই আবার সমুদ্রপথেই চীন দেশের দিকে রওনা দেন। চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে অবশেষে নোঙর ফেলেন। চীন দেশে ইবনে বতুতা বিভিন্ন শহরে মুসলমান সম্প্রদায়ের আতিথ্য গ্রহণ করেন। চীনের গুয়াংজু ভ্রমণ করে হাংজু যান। সেখানেও মুসলিম সম্প্রদায়ের আতিথ্য গ্রহণ করেন। পরে বেইজিং ভ্রমণ শেষ হলে সিদ্ধান্ত নেন যে এবার মরক্কো ফিরে যাবেন। আর সেটা ছিল ১৩৪৬ সাল।
ফেরার পথে ভারতের কেরালা পার হয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মক্কার দিকে যাত্রা করেন। ইরান, ইরাক পার হয়ে আসার সময় জানতে পারেন যে যাওয়ার পথে দেখা হওয়া বন্ধুদের অনেকেই ইন্তেকাল করেছেন।
১৩৪৮ সালে দামেস্কে পৌঁছে ইবনে বতুতা জানতে পারেন যে তাঁর পিতা ১৫ বছর আগেই ইন্তেকাল করেছেন। একই সময়ে আরব বিশ্বে প্লেগ মহামারি ছড়িয়ে পড়ে এবং পথিমধ্যে ফিলিস্তিন, গাজা ইত্যাদি এলাকায় তিনি দেখতে পান শহরের পর শহর খালি হয়ে গিয়েছে।
মক্কায় হজ পালনের পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে এবার নিজ দেশে ফিরে যাবেন। ২১ বছর বয়সে ঘরছাড়া হয়েছিলেন, আবার যখন ঘরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তখন তাঁর বয়স ৪৬। মাঝখানে পার হয়ে গিয়েছে দীর্ঘ ২৫ বছর।
ফেজ হয়ে নিজ শহর তাঞ্জিয়েরে আসার সময় ইবনে বতুতা জানতে পারেন যে এর কিছুদিন আগে তাঁর মাতার ইন্তেকাল হয়েছে। নিজ শহরে এসে সিদ্ধান্ত নিলেন আবার বেরিয়ে পড়বেন।
তাঞ্জিয়ের থেকে প্রথমে গেলেন স্পেনের মুসলমান অধ্যুষিত আন্দালুসিয়ায়। সেখানকার মুসলমানদের সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে আবার চললেন মালিতে। মালি থেকে তিম্বাকতু হয়ে ফিরে আসেন নিজ দেশ মরক্কোতে। এরপর মরক্কোতেই তাঁর দেহাবসান ঘটে ১৩৬৯ সালে মারাক্কেশ শহরে। আর তাঁকে সমাহিত করা হয় নিজ শহর তাঞ্জিয়েরে।
ইবনে বতুতা নিজ বৈচিত্র্যময় সফরনামা লিখে রেখেছিলেন ‘রিহলা’ নামক পুস্তকে। রিহলা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।)