পদ্মায় বাসডুবির ২০ মিনিট আগেও মেয়ের সঙ্গে কথা হয় মর্জিনার
· Prothom Alo

রাজবাড়ীর পাংশায় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে বিলিং সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মর্জিনা খাতুন (৫৫)। বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া পালপাড়া এলাকায়। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য গতকাল বুধবার বাসে ওঠেন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাসডুবির ঘটনায় তিনি মারা যান।
পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মর্জিনা খাতুনসহ ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চালকসহ তিনজনের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
Visit grenadier.co.za for more information.
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ছয় ঘণ্টা পর গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি ক্রেন দিয়ে টেনে পানির ওপরে তোলা হয়পদ্মায় বাসডুবি: ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠনআজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার জুগিয়া রাস্তাপাড়া গোরস্তানে মর্জিনাকে দাফন করা হয়। তাঁর স্বামীর নাম আবু বকর সিদ্দীক। তিনি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। মর্জিনার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে আমেনা খাতুন গৃহিণী। ছোট মেয়ে ফাতেমা ফারহানা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক। তবে একটি কোর্স করার জন্য ঢাকায় আছেন। তাঁরা দুই বোনই ঢাকার মিরপুরে থাকেন।
মর্জিনার বড় মেয়ের জামাই মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুপুরে বাসে করে তাঁর শাশুড়ি মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। বিকেলের দিকে বাস গোয়ালন্দ ঘাটে পৌঁছালে বড় মেয়ে আমেনা খাতুনের সঙ্গে কথা হয়। বড় মেয়েকে জানিয়েছিলেন, ঘাটে বাস থেমে আছে। একটু পর বাস ফেরিতে উঠবে। এর ঠিক ২০ মিনিট পর জানতে পারেন, বাস পানিতে ডুবে গেছে। খবর পেয়ে রাতেই তাঁরা রাজবাড়ীতে যান। এরপর গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
ফেরি আসামাত্র বাসটি চলতে শুরু করে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়মর্জিনা খাতুনমনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘রাতেই মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের কাছে। এরপর ভোরে মরদেহ কুষ্টিয়ায় আনা হয়। জুগিয়া রাস্তাপাড়া গোরস্তানে জানাজা হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।’ তিনি বলেন, শাশুড়ির পিত্তথলিতে পাথর ছিল। সেই চিকিৎসা করানোর জন্য তিনি ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
মর্জিনার স্বামী আবু বকর সিদ্দীক প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঢাকায় মেয়ের বাসায় ছিলেন। দুপুরে অফিসের কাজ শেষ করে বাসে ওঠার সময় একবার কথা হয়েছিল। এরপর আর হয়নি। হাসপাতালে গিয়ে তিনি মরদেহ দেখতে পান।
নদী দেখাতে মেয়েকে নিয়ে নেমেছিলেন নুরুজ্জামান, বাসে ছিলেন সাত মাসের ছেলেসহ স্ত্রীগতকাল বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে বাসযাত্রী ও কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন।