বীর সন্তানদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতি
· Prothom Alo

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপনের জন্য সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
Visit sportbet.reviews for more information.
আজ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
রক্ত, বেদনা আর অদম্য সাহসের বিনিময়ে অর্জিত এক ইতিহাসের নাম ২৬ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনা দিবস। দিনটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি হয়ে আছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের শুরুটা হয় এই দিনে। এরপর ৯ মাসের প্রাণপণ যুদ্ধের পর বাঙালি জাতি পায় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
আজ বৃহস্পতিবার বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে মহান স্বাধীনতা দিবস ও গৌরবময় জাতীয় দিবস, যা ইতিহাসের পরিক্রমায় এবার ৫৬তম। জাতির মুক্তির সংগ্রামে বীর শহীদদের আত্মদানের কথা জাতি আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধার ফুলে আজ ভরে উঠবে স্মৃতির মিনার সাভার স্মৃতিসৌধ।
একাত্তরের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাঙালি জাতির ওপর হামলে পড়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। কিন্তু বাঙালি জাতি সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের সূচনা করে। ৯ মাসের ধারাবাহিক রক্তক্ষয়ী লড়াই, অকাতরে আত্মদান এবং বীরত্বের স্বাক্ষর রেখে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপনের জন্য সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনে গৌরবের দিনটি পালন করবে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভোরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে যাবেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাক্রুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং এর অব্যবহিত পরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা—বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসীম সাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস পর লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।’
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডেটাকার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উদ্বোধন করেন। গতকাল বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি এসব উদ্বোধন করেন।
কুচকাওয়াজ
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। প্রবেশের জন্য গেট নম্বর ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাগ বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।