হত্যাকারীকে আটকের দাবি পুলিশের, হত্যার নেপথ্যে তিন কারণ

· Prothom Alo

কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন ঝাউবাগানের কবিতা চত্বরে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম (২৭)। আজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে তারেক নামের এক যুবককে চকরিয়ার খুটাখালী থেকে আটক করেছে পুলিশ। এরপর সংবাদ সম্মেলনে জেলার পুলিশ সুপার দাবি করেছেন, তারেকই মূল ঘাতক। হত্যায় আরও কারা জড়িত, তা–ও তারেকের কাছ থেকে জানতে পেরেছে পুলিশ।

Visit milkshake.it.com for more information.

খোরশেদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তিনটি কারণ থাকতে পারে। পূর্বশত্রুতা, খুনের জের ও ছিনতাই। খোরশেদ হত্যার পর পুলিশ সারা রাত অভিযান চালিয়ে তারেককে আটক করেছে। তারেক কিশোর গ্যাং নেতা আরিফের সহযোগী। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, খোরশেদ হত্যার মূল ঘাতক তারেক। এখনো হত্যার দায় স্বীকার না করলেও তারেক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুজনের নাম প্রকাশ করেছেন পুলিশের কাছে। তাঁদের ধরতে পারলে হত্যার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।

এসপি সাজেদুর রহমান বলেন, পুলিশের হেফাজতে আনা তরুণী তারিন সুলতানার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, তিনি (তারিন) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে তিনি ঘটনার সময় কবিতা চত্বরে খোরশেদের সঙ্গে ছিলেন।

খোরশেদ হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ পর তারিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, কবিতা চত্বরে তাঁরা অবস্থানের সময় হঠাৎ দুজন যুবক এসে খোরশেদকে জিম্মি করে বলেন, ‘কী আছে দিয়ে দাও।’ এরপর পেটে ছুরি মারতে মারতে বলতে থাকেন, ‘আরিফকে কেন মেরেছিস?’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেন, খোরশেদকে পেটে ও পায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আজ দুপুরে খোরশেদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটায় শহরের হাশেমিয়া আলেয়া মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার শহরের হাশেমিয়া আলেয়া মাদ্রাসা মাঠে নিহত খোরশেদ আলমের জানাজায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা শাহ আলম। আজ বিকালে

নিহত খোরশেদের মামা ও কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মাবুদ বলেন, তাঁর ভাগনে খোরশেদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শহরের কিশোর গ্যাং-ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে পুলিশকে আরও তৎপর হওয়ার তাগিদ দেন। জানাজায় নিহতের বাবা শাহ আলম বলেন, ‘ছেলের বিরুদ্ধে খারাপ কিছুর অভিযোগ নেই, নম্র-ভদ্র এমন ছেলেটাকে কেন খুন করল? কারা খুন করল, জানতে চাই।’

জেলা ছাত্রদল নেতা জাহেদ নুর জিতু বলেন, ছাত্রদলের কর্মী খোরশেদ চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সম্মুখসারির সৈনিক ছিলেন। কিশোর গ্যাং লিডার আরিফের সঙ্গে খোরশেদের বিরোধ ছিল। সম্ভবত প্রতিশোধ নিতে খোরশেদকে কবিতা চত্বরে নিয়ে হত্যা করা হয়।

খোরশেদকে একনজর দেখতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাসপাতালে ভিড় করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মী ও স্বজনেরা। রাত সোয়া একটার দিকে খোরশেদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করেন। রাত দেড়টার দিকে শহরের ঝাউতলা মোড়ের পুরোনো শহীদ মিনার চত্বরে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদল ও এনসিপির কয়েকজন নেতা।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন বলেন, খোরশেদ আলমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সৈকতসহ পুরো শহরে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেলেও পুলিশ নির্বিকার। পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীন।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, খোরশেদ হত্যাকাণ্ড পর্যটন শহরের জন্য অশনিসংকেত। কবিতা চত্বরসহ সৈকত এলাকায় এখন লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটছে। অথচ কবিতা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল নেই।

নিহত খোরশেদ আলম

পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘শহরে আমরা ৩-৪টি কিশোর গ্যাং দল শনাক্ত করেছি। এই কিশোর গ্যাং এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। তাই বলা যাবে না যে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একেবারেই ব্যর্থ।’

নিহত খোরশেদ আলম কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শহর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তবে কোনো পদে ছিলেন না। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রাতে তারিন সুলতানা নামের সাবেক ছাত্র সমন্বয়ককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় তারিন কবিতা চত্বর এলাকায় খোরশেদ আলমের সঙ্গে ছিলেন। তারিনের বাড়ি শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার, ছাত্রদল নেতাসহ তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ মার্চ রাতে শহরের কলাতলী এলাকায় পর্যটকের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং নেতা আরিফকে মারধর করেন খোরশেদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। তখন খোরশেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে কিশোর গ্যাং নেতা আরিফের সঙ্গে তাঁর তর্ক হয়। একপর্যায়ে আরিফ তাঁকে আঘাতও করেন।

Read full story at source