গোল করে কেন কান্নার ভঙ্গি ভিনিসিয়ুসের
· Prothom Alo

‘সবকিছু বদলে যায়’—মন্তব্যটা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর। কথাটা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বললেও এর তাৎপর্য আরও গভীর। যে ক্ষতটা প্রায় দেড় বছর ধরে বয়ে বেড়িয়েছেন, ভিনির কথাটিকে প্রতীকী অর্থে সেই ক্ষতের জবাব হিসেবেও দেখা যায়। সময় সত্যিই অনেক কিছু বদলে দেয়!
Visit sports24.club for more information.
চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩–০ গোলে সিটিকে হারিয়েছিল রিয়াল। দ্বিতীয় লেগে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে রিয়ালকে আতিথ্য দিয়েছিল সিটি। কিন্তু সেই স্বপ্নের কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। জোড়া গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগের দৌড় থেকে ছিটকে দিয়েছেন সিটিকে।
২২ মিনিটে প্রথম গোলটি পেনাল্টি থেকে। ইতিহাদ স্টেডিয়াম এমনিতেই চুপ হয়ে গিয়েছিল, গোলের পর ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতেই বলেন। এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে দুই হাত দিয়ে চোখের কাছে নিয়ে কান্নার ভঙ্গি দেখিয়ে সিটি সমর্থকদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেন। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যাওয়া এই উদ্যাপন নিয়ে ভিনি এখন আলোচনা–সমালোচনার কেন্দ্রে। তা কেন কান্নার ভঙ্গিতে সিটির সমর্থকদের ব্যঙ্গ করা?
ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, সিটিকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়ালম্যাচ শেষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিজেই, ‘গতবার আমরা এখানে এসেছিলাম, তখন ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকেরা একটি ব্যানার দেখিয়েছিল, যেখানে লেখা ছিল “স্টপ ক্রাইং”। কারণ, রদ্রি ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে আমাকে হারিয়েছিল। ওরা তখন আমাকে নিয়ে মজা করছিল। আমি সিটি ফ্যানদের অবমাননা করতে চাইনি, এটি ছিল তাদের কাছে আমার নিজেকে প্রমাণ করার উপায়।’
গোল করে সবাইকে চুপ করতে বললেন ভিনি২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ে ফেবারিট ছিলেন ভিনিসিয়ুস। রদ্রির চেয়ে সব হিসাব–নিকাশ ও ভবিষ্যদ্বাণীতে এগিয়েও ছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ঘোষণার আগেই ফাঁস হয়ে যায়, পুরস্কার জিততে যাচ্ছেন রদ্রি। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় ভিনির ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। পুরস্কার অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেয়।
বয়কটের ঘোষণায় এএফপিকে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘পুরস্কার দেওয়ার যে মানদণ্ড, তার ওপর ভিত্তি করে বিজয়ী হিসেবে যদি ভিনিসিয়ুসকে বেছে না নেওয়া হয়, তাহলে একই মানদণ্ড বিচারে কারবাহালকে বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। যেহেতু এমন কিছু হয়নি, তাই এটা পরিষ্কার যে ব্যালন ডি’অর-উয়েফা রিয়াল মাদ্রিদকে সম্মান করে না। আর যেখানে সম্মান নেই, রিয়াল মাদ্রিদ সেখানে যায় না।’
প্রথমে মরিনিও, তারপর গার্দিওলা—এক আসরেই এমন দুই শিকারসেই ঘটনার পর গত মৌসুমে সিটির বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচে ইতিহাদের গ্যালারিতে ভিনিকে উদ্দেশ করে একটা ব্যানার নিয়ে আসে সিটির সমর্থকেরা। যেখানে লেখা ছিল, ‘কান্না কোরো না’। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন ভিনির উদ্যাপনের রহস্য। গোল করার পর কেন তিনি কান্নার ভঙ্গি করেছেন।