রিয়াল মাদ্রিদ কীভাবে ৬ জন বদলি করল?

· Prothom Alo

গতকালকে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম এলচের খেলা কেউ দেখেছ? দেখে থাকলে প্রথমেই হয়তো বলে উঠবে বদলি হয়ে নেমে আর্দা গুলারের দুর্দান্ত গোলের কথা। ম্যাচের শেষ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে নেওয়া শট জড়িয়েছে জালে। ৬৮ মিটার দূর থেকে নেওয়া সেই শট লা লিগার ইতিহাসে সবচেয়ে দূর থেকে করা গোল। কিন্তু সেই গোলের আড়ালে একটা জিনিস অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। লা লিগার সেই ম্যাচে দুই দল ৬ জন করে খেলোয়াড় বদল করেছে। এমনটাও কি সম্ভব?

একটা সময় ফুটবলে বদলি করার নিয়ম বদলেছে অনেকবার। শুরুর দিকে খেলোয়াড় বদলের কোনো নিয়মই ছিল না। একজন খেলোয়াড় অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ জন নিয়েই খেলা হতো তখন। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে এই নিয়মে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। তখন নিয়ম করা হয়, কোনো খেলোয়াড় যদি মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়েন, চোটে পড়েন, তবেই কেবল সেই খেলোয়াড়কে বদলি করা যাবে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

১৯৭০ সাল থেকে যুক্ত করা হয় নতুন নিয়ম। সেবারই প্রথম চোটে না পড়লেও খেলোয়াড় বদলি করার নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। তখন দলের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ জন খেলোয়াড় থাকতে পারতেন, সেখান থেকে ২ জন খেলোয়াড় মাঠে নামতে পারতেন। কৌশল অনুযায়ী খেলোয়াড় পরিবর্তন করার চল শুরু হয় সেখান থেকেই। কোচরা বেঞ্চের খেলোয়াড়দের কথা ভেবে নিজেদের কৌশল তৈরি করা শুরু করেন।

টটেনহাম কি সত্যিই অবনমিত হয়ে যাচ্ছে

আশির দশকে এসে ছোট্ট একটা পরিবর্তন করা হয়, যদি কোনো গোলরক্ষক চোটে পড়েন তাহলে ২ জন খেলোয়াড়ের বাইরেও আলাদা একজন গোলরক্ষক নামানো যাবে। এতে করে বদলির সংখ্যা দাঁড়ায় ২ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় ও ১ জন গোলরক্ষক। ১৯৯৫ সালে এসে সেই সংখ্যাকে পাকাপাকিভাবে তিনে পরিবর্তন করে ফিফা।

প্রায় দুই দশক ধরে এই নিয়ম একই রকম ছিল। তবে ২০১৬ সালে এসে একটি ছোট্ট পরিবর্তন যোগ করে ফিফা। নকআউট পর্বের খেলা যদি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, তবে আরেকজন খেলোয়াড় বদলির সুযোগ পাবে দলগুলো। ২০১৬ ইউরো থেকে এই নিয়ম শুরু হয়। এই নিয়মই হয়তো এখনো বলবৎ থাকত, কিন্তু পরিবর্তন ঘটাল করোনা।

আর্সেনাল কি আবারও লিগ ফসকাতে চলেছে?

মাথায় চোট পেয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন বুবা সানগারে। ছবি: এক্স

২০২০ সালে করোনা হানা দেয় বিশ্বব্যাপী। সবকিছুর মতো বন্ধ হয়ে যায় ফুটবলও। এরপর যখন ফুটবল ফিরল, চালু হলো এক নতুন নিয়ম। করোনার সময়ের জন্য প্রতি ম্যাচে বদলির সংখ্যা ৩ থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৫। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে ৫ জন খেলোয়াড় বদলি করতে পারবে দলগুলো।

শুরুতে নিয়মটা সাময়িকই ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে সবাই যখন অভ্যস্ত হয়ে পড়ল, দলগুলোও দেখল, এতে তাদেরই লাভ হচ্ছে, ফিফাও আর না করল না। ২০২২ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে রয়ে গেল ৫ জন বদলির নিয়ম। আর সেই সঙ্গে ২০১৬ সালে করা অতিরিক্ত সময়ে গেলে একজন বেশি বদলির নিয়ম তো আছেই।

তাহলে গতকালের ৯০ মিনিটের ম্যাচে দুই দল ৬ জন বদলি কীভাবে করল? এর কারণ আদ্রিয়া পেদ্রোসার চোট। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আরেকটি নিয়ম যোগ করা হয় ফুটবলে। যদি কোনো খেলোয়াড় মাথায় আঘাত পান, তবে তিনি ৫ জনের বাইরে আলাদা করে বদলি হতে পারবেন। ক্রিকেটের মতো ‘কনকাশন সাব’-এর নিয়ম যুক্ত হবে এখানে। ফলে যে দলের খেলোয়াড় মাথায় আঘাত নিয়ে মাঠ ছাড়বে, সেই দল ৬ জন বদলি করতে পারবে। কিন্তু তাহলে তো প্রতিপক্ষ দল পিছিয়ে পড়বে ম্যাচ থেকে। তাই নিয়মে সমতা আনতে প্রতিপক্ষ দলও ৬ জন খেলোয়াড় বদলি করতে পারবে।

পাঁচ বছর ধরে জেতেন না ট্রফি, তবু সিমিওনে কেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোচ?

রিয়াল মাদ্রিদ যুব দলের খেলোয়াড়েরা সুযোগ নিয়েছেন নিয়মের। ছবি: এক্স

রিয়াল মাদ্রিদ বনাম এলচের ম্যাচে ২৪ মিনিটে মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এলচের ডিফেন্ডার বুবা সানগারে। তাঁর বদলে মাঠে নামেন আদ্রিয়া পেদ্রোসা। ফলে রিয়াল মাদ্রিদ সুযোগ পায় ৬ জন বদলি করার। রিয়াল মাদ্রিদ কোচ সেটিকে কাজে লাগিয়েছেন দুর্দান্তভাবে। ৬ জনের মধ্যে ৫ জন বদলিই ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ যুব দলের খেলোয়াড়। আর প্রত্যেকেই আরবেলোয়ার মান রেখেছেন। অ্যাসিস্ট পেয়েছেন দানিয়েল ইয়ানেজ। ডিয়েগো আয়াদো ডিফেন্ড করেছেন দুর্দান্ত। ৪-১ গোলের জয়ে যেমন অবদান রেখেছেন তাঁরা, রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের মনও জয় করে নিয়েছে।

৮-০ গোলে জেতার পরও বরখাস্ত কোচ

Read full story at source