বাবার সঙ্গে মায়ের ক্যাম্পাসে গেল চার সন্তান, অংশ নিল শিক্ষকদের মানববন্ধনে

· Prothom Alo

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রিন ফোরামের শিক্ষকদের পাশাপাশি আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তাঁর চার শিশুসন্তানও ছিল। ইমতিয়াজ ছোট্ট মেয়ে আয়েশা জান্নাতকে কোলে নিয়ে ছিলেন। তিনি বক্তব্যে আসমার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান এবং দোয়া কামনা করেন।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার পরিকল্পনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে হত্যা

অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, সহ–উপাচার্য এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনজুরুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা ওবাইদুল ইসলাম, প্রক্টর শাহিনুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন বেগম রোখসানা মিলি, থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন সেকেন্দার আলী, জিয়া পরিষদের সভাপতি ফারুকুজ্জামান, ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক গফুর গাজী ও গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানসহ উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা–কর্মীরাও। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

এ সময় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রোখসানা মিলি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আসমার সঙ্গে আমার খুব বেশি সখ্য ছিল। কারণে–অকারণে অফিশিয়াল ও একাডেমিক কাজে সে আমার কাছে ছুটে আসত। যতটা পেরেছি আমি তাকে সহায়তা করেছি। আমি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি এবং পরিবারটিকে সর্বোচ্চ আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।’

আসমা সাদিয়া

ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক গফুর গাজী বলেন, ‘মধ্যযুগীয় কায়দায় আসমা ম্যামকে ব্যক্তিগত রুমে হত্যা করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ইবিতে আর কোনো রক্ত আমাদের না দেখতে হয়।’

গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আসমা সাদিয়া একজন বিনয়ী, সজ্জন ও মেধাবী শিক্ষক ছিলেন। নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ফারুকুজ্জামান বলেন, ‘১৯৯৬ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষকদের ওপর অনেক হামলার ঘটনা দেখেছি। আমরা প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেছি, কিন্তু একটি হামলার বিচারও আমরা পাইনি। এই বিচার না হওয়ার সম্মিলিত ফলাফলই হচ্ছে এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। অপরাধী যখন বুঝতে পারে, অপরাধ করলে কোনো শাস্তি হবে না, তখন সে নৃশংস থেকে নৃশংসতর হয়ে ওঠে। এরই একটা দৃষ্টান্ত আমরা দেখলাম।’

ময়নাতদন্তে নিহত শিক্ষকের শরীরে ২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন

এ সময় সম্মিলিত মানববন্ধনের সভাপতি অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার আহ্বায়ক হিসেবে আমি নিজে আছি। নিরপেক্ষ, পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছভাবে আমরা এই তদন্তের প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এবং আপনাদের সবার কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাই। যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো কাজের অগ্রগতি না দেখাতে পারে, তবে ঈদের পরে আমরা শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে যাব।’

মানববন্ধনে শিক্ষকদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আসমা সাদিয়া রুনার পরিবারকে আমরা প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদান করব। এই বিচারের দাবি পূরণের জন্য রাজনৈতিক সরকারের যে পর্যায়ে যাওয়া লাগে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে পর্যায়ে যাবে। আমরা বিভাগ যাতে সচল রাখা যায়, সে ব্যবস্থা করেছি। রুনার স্মৃতিকে যাতে ধারণ করা যায়, সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের দাবির পূরণের পদক্ষেপ নেব। অপরাধী চিহ্নিতকরণ, গ্রেপ্তার এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশাসন যত ধরনের সহযোগিতা চাইবে, আমরা তার সবটুকু প্রদান করব।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আসমা সাদিয়ার স্মরণে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র–নজরুল কলা ভবনের গগন হরকরায় এটি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

গত বুধবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দপ্তরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে (৩৫) ওই কক্ষ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেদিন থেকেই তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার আসমা সাদিয়ার লাশ কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

Read full story at source