সাদিয়া তাড়াহুড়ো করতে চান না
· Prothom Alo

দুই দিন আগে গত শুক্রবার পরিবার নিয়ে বাইরে সাহ্রি করতে গিয়েছিলেন সাদিয়া আয়মান। সেখানেই দুই ছোট্ট বাচ্চার সঙ্গে দেখা। সারাক্ষণ অভিনেত্রীর পাশে বসে ‘মিউ’কে নিয়ে কথা বলল ওরা। ‘মিউ’ চরকিতে আসা ওয়েবফিল্ম ‘মিউ’–এর একটি বিড়াল চরিত্র। একজন বলল, ‘তুমি মিউকে কেন দিয়ে দিয়েছ, কেন দিয়ে দিলা!’
Visit lej.life for more information.
আরেকজন বলল, ‘আমি তোমাকে দেখে হেল্প করতে চেয়েছিলাম, মিউকে খুঁজতে।’
‘বাচ্চাগুলো যে কাজটা দেখে এত কিছু বুঝল, মিউকে দিয়ে দিচ্ছি যে বলে ওদের কষ্ট লাগছে—এই জিনিসটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। বড়দের প্রতিক্রিয়া তো সব কাজেই পাই, কিন্তু এই যে বাচ্চারা এটা পছন্দ করল, এটা দারুণ লেগেছে,’ বলছিলেন সাদিয়া আয়মান।
‘মিউ’তে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছে সাদিয়া আয়মানের পোষা বিড়াল ‘আলু’। শুটিং সেটে অনেক মানুষের ভিড়ে একটি প্রাণীকে দিয়ে অভিনয় করানো অনেক চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আলু একদম পেশাদার শিল্পীর মতোই আচরণ করেছে। সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘হি ইজ সো প্রফেশনাল। আমি খুবই গর্ববোধ করছি। আলু খুবই কমফোর্টেবল ছিল।’ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার কারণও আছে বলে মনে করেন সাদিয়া, আগে থেকেই আলুর ভিডিও বা ছবি তোলার অভ্যাস থাকায় ক্যামেরার সামনে সে স্বাভাবিক ছিল। এ ছাড়া পুরো শুটিং ইউনিট আলুর জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেছিল, তাই কোনো অসুবিধা হয়নি।
ওয়েব সিনেমায় সাদিয়া আয়মান‘লাভ সিটার’-এ ভিন্ন প্রেমের গল্প
সাদিয়ার সাম্প্রতিক আরেকটি কাজ ‘লাভ সিটার’–এর কেন্দ্রেও আছে একটি পোষা বিড়াল। রোমান্টিক ঘরানার সিনেমাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী–মুশফিকা মাসুদ। চিত্রনাট্যও লিখেছেন এই দম্পতি। এতে সাদিয়া আয়মানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল পলাশ। বিড়াল নিয়ে পরপর কাজ করলেও গল্প ও চরিত্র দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, জানান সাদিয়া আয়মান, ‘“মিউ”–এর গল্পটার মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক জায়গা ছিল, আর ‘লাভ সিটার’ প্রেমের গল্প।’
অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ওয়েব সিরিজ ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’তে এর আগে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, অমিতাভ রেজার কাজের আগের প্রস্তুতি অসাধারণ। সাদিয়া বলেন, ‘শুটিংয়ে যাওয়ার আগেই পুরো টিম কাজটা নিয়ে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়। তখন আমাদের শুধু অভিনয়েই মন দিতে হয়, অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে হয় না। উনি চরিত্রগুলোকে এত সুন্দর করে বিশ্লেষণ করেন, ব্যাকস্টোরি দেন—এটা খুবই দারুণ। একটা চরিত্রের ঠিক উত্থান কোথা থেকে, সে কী করে, কোথায় যায়, কী খায়—সবকিছু বুঝিয়ে দেন। এতে সহজেই চরিত্রটা ঠিকভাবে পোর্ট্রে করা যায়।’
ধীরে চলো নীতি
ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক চরিত্র করে পরিচিতি পান সাদিয়া আয়মান। কিন্তু গত কয়েক বছর ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইছেন। সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘যখন দেখলাম নাটকে একই চরিত্র বারবার পাচ্ছি, তখন নিজেকে ওখান থেকে সরিয়ে এনেছি। সংখ্যার চেয়ে কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করি। কোনো গল্প এলেই কেন আমি এটা করব, আগে নিজেকে প্রশ্ন করি। নিজের থেকে ভালো বিচারক তো আর নেই। যখন মনে হয়, কাজটা করা উচিত, তখনই করি। নাহলে যত বড় কাজই হোক, সম্মান রেখেই না করে দিই।’
গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক। গত বছর তাঁকে তানিম নূরের ‘উৎসব’ সিনেমায় দেখা গেছে। দুই ছবিতেই তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। এরপর বেশ কটি সিনেমার প্রস্তাব এসেছে। তবে তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি। সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় উৎসব–এর পরের সিনেমাটা একটু বুঝে করা উচিত। সময় নিচ্ছি। অনেক গল্প এসেছে, মিটিং হয়েছে, হচ্ছে। সব ঠিকঠাক হলেই সিনেমাটা করতে চাই। সিনেমা নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চাই না।’ অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, যেই কাজটা আমার ভাগ্যে নেই, সেটা কখনোই করতে পারব না। তাই আস্তে ধীরেই এগোতে চাই।’