দৃষ্টিনন্দন সংগ্রহে সৃজনশীলতার দীপ্তি সত্ত্বেও অনুপস্থিত প্রাসঙ্গিকতা
· Prothom Alo

শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ফ্যাশন ডিজাইন ডিপার্টমেন্টের ৪৩তম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশন শোর পাঁচটি থিম্যাটিক কালেকশনে শহুরে বাস্তবতা, ঐতিহ্য, স্বাচ্ছন্দ্য ও গ্ল্যামারকে এক সুতোয় গেঁথে উপস্থাপন করা হয়েছে; এর মধ্যে দিয়ে প্রতীয়মান হয়েছে সমসাময়িক ফ্যাশনের নান্দনিক পরিভাষা।
শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ফ্যাশন ডিজাইন ডিপার্টমেন্টের ৪৩তম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশন শো অনুষ্ঠিত হয়েছে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার এই আয়োজন বলাই যায় উপভোগ্য ছিল। পাঁচটি আলাদা থিমভিত্তিক সংগ্রহের উপস্থাপনায় সৃজনশীলতার সমান্তরালে ছিল উদ্ভাবন। প্রতিটি পোশাক যে উতরে গেছে, সেটা বলা না গেলেও পুরো উপস্থাপনার বেশির ভাগ পোশাক ছিল দৃষ্টিনন্দন। এ ক্ষেত্রে কোরিওগ্রাফারের মুনশিয়ানার তারিফ করতেই হবে। অবশ্য ফ্যাশনের ছাত্র হওয়ায় এই কাজটি করা তাঁর জন্য কেবল সহজই হয়নি, বরং তিনি উপভোগও যে করেছেন সেটা স্পষ্ট ছিল। ফ্যাশন কেবল পোশাকের নকশা নয়, এটি সময়ের ভাষা, মানুষের জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতিফলন; সেটা তারা করতে পেরেছে অনেকাংশে। শুরুতে থিমগুলো নিয়ে আলাদা করে আলোকপাত করা যাক।
Visit sweetbonanza-app.com for more information.
ট্রপিক অ্যান্ড টাউন টেইলর্ড
আটপৌরে স্বাচ্ছন্দ্য আর রিসোর্ট এলিগ্যান্সের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা লক্ষনীয় ছিলফ্যাশনে ক্যাজুয়ালওয়্যার মানেই আরামদায়ক, দৈনন্দিন পোশাক—যা স্বচ্ছন্দ, চলাফেরায় সহজ এবং অতিরিক্ত ফরমাল না হয়েও স্টাইলিশ। অন্যদিকে রিসোর্টওয়্যার এই স্বাচ্ছন্দ্যকেই নিয়ে যায় একধাপ ওপরে—ভ্যাকেশন-রেডি ফ্যাশনে। এখানে ব্যবহৃত হয়েছে হালকা ও বাতাস চলাচলের উপযোগী কাপড়, যেমন লিনেন, কটন ও সিল্ক; ফ্লোয়ি সিলুয়েট, উজ্জ্বল রং আর প্রাণবন্ত প্রিন্টের স্পষ্ট হয়েছে সূর্যস্নাত গন্তব্যের আমেজ। এই সংগ্রহের পোশাকের ডিজাইনে এ জন্যই দেখা গেছে এয়ারি টেক্সচার, উচ্ছল ট্রপিক্যাল প্যাটার্ন। এই পোশাক দিনের নিরিবিলি হাঁটা থেকে শুরু করে সন্ধ্যার ডিনার—সবখানেই মানিয়ে যায়। সঙ্গের অ্যাকসেসরিজ আরাম বজায় রেখেই ব্যক্তিত্বের ছাপ যোগ করবে।
‘ট্রপিক অ্যান্ড টাউন টেইলর্ড’—থিমে এই ব্যাচের ছাত্ররা আটপৌরে স্বাচ্ছন্দ্য আর রিসোর্ট এলিগ্যান্সের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করেছে; যাতে করে শহুরে জীবনের আরাম আর ছুটির দিনের পরিশীলিত ভাব একসঙ্গে ধরা দেয়। এই থিমের পোশাক নকশা করা হয়েছে শহরের রাস্তায় যেমন, তেমনি রোদঝলমলে সমুদ্রপাড়ের জন্য মানানসই করে।
আরবান এজ এক্সপো
এই সংগ্রহ যথার্থ স্ট্রিটওয়্যারএই সংগ্রহ আদ্যন্ত স্ট্রিটওয়্যার। এই স্ট্রিটওয়্যার বস্তুত কোনো ট্রেন্ড নয়—এটা একটা মুভমেন্ট। শহরে বেড়ে ওঠা তরুণদের কণ্ঠস্বর, যেখানে বিট, গ্রাফিটি আর কালচার মিলেমিশে একাকার। এই তরুণদেরই পোশাককে উপস্থাপন করা হয়েছে সমসময়ের রঙে। এটা আরামের স্টাইল, কিন্তু অ্যাটিচিউডে একদম আপসহীন। ওভারসাইজড হুডি, গ্রাফিক টি, স্নিকার্স আর স্টেটমেন্ট পিস—সবকিছু মিলিয়ে প্রতিটা লুক বলে দেয়, ‘আমি আলাদা।’
আসলে স্ট্রিটওয়্যার তো শহরেরই হৃৎস্পন্দন। সেটাকেই সরাসরি তুলে আনা হয়েছে রানওয়েতে। এখানে রাস্তার ভাইব মিশছে হাই-লেভেল ডিজাইনের সঙ্গে, তৈরি হয়েছে এমন ফ্যাশন যা সাহসী, নির্ভীক আর স্পষ্ট; এই কালেকশন সীমা মানে না—বরং রি-ডিফাইন করে, আর প্রতিটা স্টাইলকে করে তোলে দৃষ্টিগ্রাহ্য। চমৎকার এই সংগ্রহ থেকে চোখ সরানো ছিল কষ্টকর।
কালচারাল থ্রেড
ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছেএটাকে বলা হয়েছে এথনিকওয়্যার কালেকশন। যদিও তা না; বরং ওয়েস্টার্ন ও ইন্দো–ওয়েস্টার্ন ফিউশন বলাই শ্রেয়। তবে ঐতিহ্যের কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হ্যান্ড-উভেন কাপড়ে, চিরাচরিত মোটিফ আর প্রাণবন্ত রঙের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আমাদের শিকড়ের সৌন্দর্য—যা ইতিহাসের সঙ্গে আজকের ফ্যাশনকে সংযুক্ত করে। এই সংগ্রহে ছিল আমাদের বয়ন ও সূচিকর্মের সৌকর্যকে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস। সেটাকেই মূলত সমসময়ের পোশাকভাবনার সঙ্গে সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে; ফলে এই পোশাক হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিকও। সংগ্রহকে পক্ষান্তরে বলা যেতে পারে আমাদের বয়ন ও সুচিশিল্পের প্রতি আধুনিক উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপনের প্রয়াস।
মুনলাইট মিউজ
রাতের গ্ল্যামারাস আবহে এই সংগ্রহ হয়ে ওঠে অনবদ্যককটেলওয়্যার সংগ্রহ। সূর্যাস্তের পরের বিশেষ মুহূর্তগুলোর জন্য তৈরি পোশাকই ককটেলওয়্যার। এই পোশাকে সৌন্দর্য ও আভিজাত্য হাত ধরাধরি করে চলে। এই কালেকশনে বিলাসী কাপড়; যেমন সিল্ক, স্যাটিন, শিফন আর লেসকে দেওয়া হয়েছে পরিশীলিত ও গ্রেসফুল সিলুয়েট। সিকুইন ও বিডওয়ার্ক, চমৎকার এমব্রয়ডারি আর আকর্ষক ড্রেপিংয়ের সমন্বয়ে নিখুঁত ডিটেইল প্রতিটি পোশাককে দিয়েছে অনন্যতা। ফলে সান্ধ্য আসরে আলাদা করে নজর কাড়বে। রাতের গ্ল্যামারাস আবহে এই সংগ্রহ হয়ে ওঠে অনবদ্য। এ জন্য রানওয়েও হয়ে উঠেছে দীপ্তিময়।
স্লিক সয়রি
সর্বশেষ উপস্থাপনা ছিল চমকপ্রদইভনিংওয়্যার কালেকশন। ইভনিংওয়্যারের স্টাইলটাই আলাদা। দৈনন্দিন পোশাকের চেয়ে বেশি ড্রেসি, কিন্তু আবার পুরোপুরি ফরমাল নয়; বরং সান্ধ্যানুষ্ঠান আর অবশ্যই উদ্যাপনের জন্য যথার্থ। এখানে দেখা যায় সিল্ক, স্যাটিন, শিফন বা লেসের মতো কাপড় ও অনুষঙ্গ, ফিগার-ফ্ল্যাটারিং সিলুয়েট, হাঁটু-দৈর্ঘ্য বা মিডি লেন্থ, আর সূক্ষ্ম ডিটেইল যা পুরো লুককে এক ধাপ উপরে তুলে দেয়।
ক্লিন লাইন, টেইলর্ড ফিট, রুচিশীল অলংকরণ আর এমন অ্যাকসেসরিজ—যা অতিরিক্ত না হয়ে ঠিকঠাক আভা যোগ করে। এটাই এই স্টাইলের মূল বৈশিষ্ট্য। এই সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আভিজাত্য আর আধুনিক কতুরের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। স্মুথ টেক্সচার, উজ্জ্বলতা আর সমসময়ের স্টাইল মিলিয়ে তৈরি হয়ে নান্দনিক সান্ধ্য উচ্ছ্বাস। স্লিক ডিজাইন, আত্মবিশ্বাসী স্ট্রাইডে উপস্থাপিত ককটেল আউটফিট ছিল নিঃসন্দেহে এলিগ্যান্ট আর স্টাইলিশ।
কিছু কথা প্রাসঙ্গিক
ছাত্রছাত্রীদের চমৎকার উপস্থাপনা সত্ত্বেও কিছু বিষয়ের উল্লেখ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। বস্তুত সারা বিশ্বের ফ্যাশন স্কুলগুলোতে পাস আউট স্টুডেন্টদের শো মানে একটা হইচই ফেলা বিষয়। আমাদের দেশে এই চলটাই ছিল না। ইদানীং হচ্ছে। সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার।
কিন্তু এই শো কাদের জন্য? ছেলেমেয়েরা বেশ কয়েকটা বছর ধরে শিখল, জানল, তারপর তাদের সেরাটা দিয়ে একটা সংগ্রহও তৈরি করল; কিন্তু তাদের এই সৃজন, শ্রম আর ভাবনার চাক্ষুষ করবেন কারা? সেই ব্যবস্থাই কি রাখা হয়েছে?
শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীরাএটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের দেশের শীর্ষ দুটো ফ্যাশন ইনস্টিটিউট ফ্যাশন ডিজাইনার তৈরি করছেন মূলত রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির কথা মাথায় রেখে। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখেই বলতেই হয়, কেন সেখানে উপস্থিতি লক্ষ করা গেল না সেই ইন্ডাস্ট্রির কুশীলবদের, বিদেশি বায়িং হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের? কিংবা কেন উপস্থিতি ছিল না লোকাল ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির কোনো প্রতিনিধির? আমাদের দেশে তো ব্র্যান্ডের সংখ্যা কম নয়। উপরন্তু রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির অনেকেরই এখন লোকাল ব্র্যান্ড আছে। সেখানেও ডিজাইনার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি এথনিক ব্র্যান্ডগুলোতেও তো লাগে। অথচ এই বিশাল শিল্প খাতের কারো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারাটা হতাশাজনক।
এবার আসা যাক উপস্থাপনার বিষয়ে। বিশাল একটা হল ভাড়া করা হয়েছে। অথচ সেখানে ইউনিভার্সিটিতে যাঁরা ফ্যাশন ডিজাইন পড়েন, তাঁদেরকেও ঠিকঠাক ডাকা হয়নি। ফলে পুরো হলের বেশিটাই ছিল খালি। সেটা তো বোধ হয় হওয়ার কথা ছিল না; বরং এটা হতে পারত আরও আকর্ষক ও জমজমাট। বাস্তবে সেটা না ঘটার কারণ বস্তুত পরিকল্পনার অভাব। অন্তত আমার এটাই মনে হয়েছে। একইভাবে ছিল না মিডিয়ার উপস্থিতি। তাহলে কীভাবেই–বা সবাই জানবে এখানকার পাস আউট স্টুডেন্টদের সৃজনশীলতার কথা। তাহলে একটা ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ বিভাগের কাজটা কি– সে প্রশ্ন উঠে আসে। বস্তুত পুরোটাই ব্যবস্থাপনার দূর্বলতাকে প্রতীয়মান করে। ফলে বোর্ড অব ট্র্যাস্টিজের চেয়ারম্যানের পক্ষেও এই হতাশা চেপে রাখা সম্ভব হয় না।
আরেকটা বিষয়, ফ্যাশন শোতে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ—এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই থিয়েটারের মঞ্চে ফ্যাশন হয় না। বরং র্যাম্প করা হয় এমনভাবে, যাতে দর্শক খুব কাছ থেকে সেটা দেখতে পারে। এখানে ঠিক উল্টোটাই হয়েছে। একটা হরাইজন্টাল স্টেজে ফ্যাশন শো হয়েছে। এখানে অবশ্যই কোরিওগ্রাফার প্রশংসা পাবেন এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য।
তা ছাড়া এই যে আয়োজন, চমৎকার উপস্থাপনা, এখানে কি কোথাও বাংলাদেশ ছিল? আমার অন্তত মনে হয়নি। এখন তর্কের খাতিরে বলা হতে পারে, কেন কালচারাল থ্রেড! হ্যাঁ ভালো। তবে এটা কোনোভাবেই এথনিকওয়্যার নয়। বরং ওয়েস্টার্ন ও ইন্দো–ওয়েস্টার্ন ফিউশন। এই সংগ্রহে বাংলাদেশের কিছু এলিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে বটে। সুন্দরভাবেই সেটা করা হয়েছে; এই যা! বাংলাদেশের কোনো কাপড় নিয়ে কি কাজ হয়েছে সেই অর্থে। কোনো ডিজাইন করে কি কাপড় তৈরি করা হয়েছে? এমন এটা গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষের জন্য তো সেটা কেবল হতে পারত নয়, হাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। মেন্টরিংয়ের দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে এই দিকনির্দেশনা প্রত্যাশিত ছিল।
এখানে আরও কথা বলা প্রয়োজন, রিকশা পেইন্টিং বা রিকশাসজ্জার অনুষঙ্গের ব্যবহার এখন যত্রতত্র। এটা একবারেই ক্লিশে হয়ে গিয়েছে। কিছু হলেই রিকশা পেইন্টিং কিংবা এর অনুষঙ্গ ব্যবহার করা হচ্ছে। ভাবটা এমন, এটাই আমাদের একমাত্র সাংস্কৃতিক উপাদান। অথচ একটা তো সংস্কৃতির অংশই নয়; বরং একটা আর্ট ফর্ম। আমি জানি না, কারা কীভাবে এটাকে সংস্কৃতির অংশে পরিণত করেছে। আমাদের সংস্কৃতির, ঐতিহ্যের কত উপাদান আছে তার ইয়ত্তা নেই। অথচ সেসব নিয়ে কথা হয় না, শেখানো হয় না, বলা হয় না। তাই রিকশা পেইন্টিং বা রিকশাসজ্জার অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রেও মেন্টররা তাঁদের দায় অস্বীকার করতে পারবেন না।
বাংলাদেশের কথাই যখন হচ্ছে, তখন এ বিষয়ের আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক হবে না। একটা সংগ্রহও দেখলাম না যথাযথ এথনিক। একটা শাড়ি, কিংবা সালোয়ার–কামিজ, পাঞ্জাবি আমার চোখে পড়ল না। বিদেশের কোনো ফ্যাশন স্কুলের ছেলেমেয়েরা তাদের পাসআউট শোতে কি শতভাগ বিদেশি পোশাক তৈরি করত বা করে থাকে? এ প্রশ্ন তাদের কাছেই রেখে গেলাম।
শাড়ি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। শাড়ি নিয়ে নিরীক্ষার কত সুযোগ আছে। দারুণ বুননের শাড়ির একটা সংগ্রহ থাকলে কি এই আয়োজনের আভিজাত্য ম্লান হয়ে যেত? নাকি পশ্চিমা পোশাক ছাড়া ফ্যাশন হয় না? এখানেই বস্তুত ভাবনার সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা। এর দায়ও বর্তায় মেন্টরদের ওপর, ছাত্রছাত্রীদের নয়।
পাঁচটা সংগ্রহ দেখেছি। আমার ভালোই লেগেছে। সব কটি উতরে গেছে তা বলা না গেলেও সংগ্রহ ভালো হয়েছে। তবে কাকে কোন পোশাক পরানো হচ্ছে, উপস্থাপনায় গিয়ে সেটা কেমন দেখাচ্ছে বা দেখাতে পারে, সেসবও ডিজাইনারের মাথায় থাকা একান্ত জরুরি।
এই উচ্ছ্বাসই হবে ভবিষ্যতের পাথেয়এরপরও এ আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাতে হয়। আর ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন এমন সন্ধ্যা উপহার দেওয়ার জন্য। নতুন জীবনে পা রাখতে চলেছে তারা। কেবল তৈরি পোশাকশিল্প নয়, তাঁরা তাঁদের সৃজনে সমৃদ্ধ করবেন আমাদের লোকাল ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিও। অনিঃশেষ শুভকামনা তাদের জন্য।
ছবি: শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি