আমি জেলখাটা পাবলিক: পরীমনি

· Prothom Alo

রস‍+আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি জানালেন, তাঁর জীবনের সবটাই তো গুজব! (হাসি) সবচেয়ে অদ্ভুত গুজব হচ্ছে, তাঁর স্বামীর তালিকায় তাঁর কস্টিউম ডিজাইনারের নাম পাঁচ নম্বরে! সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের

প্রশ্ন: আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি ড্রামা কোথায়—সিনেমায়, ফেসবুকে, নাকি বাসার ডাইনিং টেবিলে?

পরীমনি: (হাসি)। আমার মনে হয় ফেসবুকেই। ফেসবুকে আমাকে নানাভাবে দেখা যায়, যেটা আমি না। মাঝেমধ্যে আমি চিন্তায় পড়ে যাই, এই ড্রামা আমি আবার কখন করলাম! সেদিন দেখলাম, কে যেন আমাকে বোরকা গিফট করেছে। ৬২টা বোরকা কেন, ৬০টা কেন হলো না, ৬৫টা কেন হলো না! এই ধরনের জিনিসপত্র ঘটে। আমার খুব মজা লাগে।

Visit palladian.co.za for more information.

প্রশ্ন: যদি একদিন সকালে উঠে দেখেন আপনি আর পরীমনি নন, সাধারণ একজন অফিসকর্মী—প্রথমে কী করবেন?

পরীমনি: কী যে করব! সত্যি বলতে আমি পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করব। আরে আমি তো ভুলেই গেছি, আমি জেলখাটা পাবলিক! জেলখাটা পাবলিক সবই করতে পারে। তাদের জীবন আর কোনো কিছুতেই আটকায় না। তারা সবই পারে।

প্রশ্ন: আপনার ফোনের স্ক্রিনটাইম রিপোর্ট দেখে কি ফোনও কখনো বলে, ‘আপু, একটু বিশ্রাম নিন?’

পরীমনি: না, আমি মাঝেমধ্যে খুঁজি, ফোনটা কই গেল (হাসি)। আমার যতটুকু কাজ, আপডেট দেওয়ার দরকার থাকলে তা দিয়েই আমি হারিয়ে যাই। মানুষের তো একটু ইচ্ছে করে, রিলস-টিলস দেখার। কিন্তু আমার বাচ্চারাই হচ্ছে চলন্ত রিলস। তারা আমাকে এমনভাবে ব্যস্ত করে রাখে, ফোন ধরারই সময় পাই না। ফোনই তখন উল্টো বলে, ফেলে রাখছে কেন আমারে... (হাসি)!

প্রশ্ন: পরিচালক যদি বলেন, ‘এই সিনেমায় কোনো গ্ল্যামার নেই, শুধু ভাত রান্না করতে হবে’—রাজি হবেন?

পরীমনি: যদি সেই পরিচালকের কাজটার পরিকল্পনা শুনে মনে হয় যে জাস্ট ভাত রান্না করেই মাইলফলক কিছু একটা হবে, নিঃসন্দেহে করব।

প্রশ্ন: প্রেম, সিনেমা আর বিরিয়ানি—এই তিনটার মধ্যে কোনটা ছাড়া সবচেয়ে কম দিন বাঁচতে পারবেন?

পরীমনি: তিনটা তো তিন জগতের জিনিস (হাসি)। বিরিয়ানি ছাড়াও জীবন চলবে, কিন্তু প্রেম ছাড়া কি জীবন চলে? সে হিসেবে প্রেম আর সিনেমা ছাড়া বেঁচে থাকতে পারব না।

প্রশ্ন: আপনার জীবনের ওপর যদি কার্টুন বানানো হয়, নাম কী হতে পারে?

পরীমনি: : পরীমনি থেকে ‘পরীমন’, যেমনটা ডোরেমন! 

প্রশ্ন: আপনার ছেলে বড় হয়ে যদি বলে, ‘মা, আমি নায়ক না, ইউটিউবার হব’—রিঅ্যাকশন কী হবে?

পরীমনি: ইউটিউবারের ভবিষ্যৎ সুন্দর হলে অবশ্যই সেটা হবে। তবে সন্তানকে বলব, যা-ই হও না কেন, সেটা অবশ্যই যেন তোমার জীবনে মাইলফলক কিছু হয়। তোমার জীবনের পাশাপাশি যাতে আরও দশটা জীবন সুন্দর হয়। ইউটিউবার কেন, তুমি কৃষক হলেও মায়ের কোনো আপত্তি নেই।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের মানুষ খবরের চেয়ে ‘পরীমনি আপডেট’ বেশি ফলো করে?

পরীমনি: মাঝেমধ্যেই মনে হয় (হাসি)। কী যে তারা খোঁজে, কী যে দেখতে চায়, সেটাই বুঝি না। দেখা গেল আমি অনেক সুন্দর করে শাড়ি পরে কাজের একটা আপডেট দিলাম, ওইটা না দেখে তারা আমার ঠ্যাং দেখানো ছবি নিয়ে মেতে ওঠে! কী যে একটা ব্যাপার!

প্রশ্ন: জীবনে অদ্ভুত কোন গুজবটা শুনে আপনি নিজেই হেসে ফেলেছেন?

পরীমনি: আমার জীবনের সবটাই তো গুজব! (হাসি) সবচেয়ে অদ্ভুত গুজব হচ্ছে, আমার স্বামীর তালিকায় আমার কস্টিউম ডিজাইনারের নাম পাঁচ নম্বরে!

প্রশ্ন: যদি এক দিনের জন্য দেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানো হয়, প্রথম সিদ্ধান্ত কী নেবেন—সবাইকে বছরে অন্তত একবার সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখতে বাধ্য করবেন?

পরীমনি: সিনেমা তো বাধ্য করে কাউকে দেখানো যায় না। ভালোবেসে মনের টানে মানুষ সিনেমা দেখে। আমি চলচ্চিত্রে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বানাতে চাই, যেখানে সবাই আসবে, শুধুই সিনেমা নিয়ে কথা বলবে, নিজেরা নির্মল আড্ডা দেবে, কেউ ঘৃণা ছড়াবে না। সিনেমার মানুষেরা পর্দায় ভালোবাসা ছড়ায়, তারাও সবাই যেন ভালোবাসার মধ্যে থাকে—এমন একটা পরিবেশ গড়ে তুলব।

Read full story at source